শুধু মুসলিমই নয় অতি প্রাচীন কাল থেকেই সব ধর্মেই উপবাস প্রথা চলে আসছে। তবে ইসলাম ধর্মে উপবাস অন্যন্য ধর্ম থেকে কিছুটা আলাদা। অন্যান্য ধর্মে নির্দিষ্ট কয়েক দিন উপবাস থাকার বিধান রয়েছে। কিন্তু ইসলামে টানা একমাস নিয়ম করে রোজা থাকতে হয়।
রোজা মুসলমানদেরকে ধৈর্য্য এবং আত্মসংযম শিক্ষা দেয়। ব্যক্তিগত ভুল ভ্রান্তি শোধরাতে সাহায্য করে।
ইসলাম ধর্ম

ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের চতুর্থ স্তম্ভ রোজা বা উপবাস। ইসলামি পরিভাষায়, আল্লাহর উদ্দেশে সুবহে সাদিকের আগে থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার এবং সব ধরনের ইন্দ্রিয় তৃপ্তি থেকে বিরত থাকাই রোজা। পবিত্র রমজান মাসে ইসলাম ধর্মের অনুসারীরা পুরো এক মাস রোজা-সিয়াম বা উপবাস করে থাকে । পবিত্র রমজান মাসে মুসলমানগণ রোজাব্রত পালন করে থাকেন। ইসলাম ধর্মে রমজান মাসে ফজর থেকে মাগরিব পর্যন্ত পূর্নবয়স্ক সুস্থ সবল নারী-পুরুষের জন্য রোজা পালন বাধ্যতামুলক। রোজা পালন সময়ে কোন প্রকার খাদ্য গ্রহন এবং পান সম্পূর্নরূপে নিষিদ্ধ।
ইহুদী ধর্ম

ইহুদিদের জন্য সপ্তাহের শনিবার, মহররমের ১০ তারিখ রোজার বিধান কার্যকর ছিল। অবশ্য হজরত মুসার (আ.) ওপর তাওরাত নাজিলের আগে তুর পাহাড়ে আসা-যাওয়ার চল্লিশ দিনও ইহুদিরা রোজা পালন করতেন। ইঞ্জিল (বাইবেল) নাজিল হওয়ার আগে হযরত ঈসার (আ.) দীর্ঘ চল্লিশ দিন রোজা ও সাধনায় মগ্ন ছিলেন। হযরত দাউদ (আ.) একদিন পর পর রোজা পালন করতেন। (বুখারি, মুসলিম) বর্তমানে ইহুদি ধর্মে উপবাস মানে সকল ধরণের খাবার ও পানি গ্রহন থেকে বিরত থাকা। ঐতিহ্যগতভাবে ইহুদিরা বছরে ছয়দিন রোজা পালন করে থাকে। ইয়াম কিপ্পুর হচ্ছে ইহুদি বর্ষপঞ্জিকার সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ দিন। এদিন সকল পূর্ণবয়স্ক নারী পুরুষ উপবাস পালন করে থাকে। এই পবিত্র দিনে তারা উপসনার চেয়ে উপবাসকেই বেশী গুরুত্ব দিয়ে থাকে। যদি কেউ উপবাস পালন করে বিছানায় শুয়ে থাকে তবুও সে পূর্ণ ধর্মীয় বিধান পালনের পূণ্য লাভ করবে।
দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ উপবাসের দিন তিশা বাব। আনুমানিক ২৫০০ বছর আগে এই দিনে ব্যবলনিয়া জেরুজালেমের প্রথম পবিত্র মন্দির ধ্বংস করে দেয় এবং প্রায় ২০০০ বছর আগে রোমানরা জেরুজালেমের দ্বিতীয় পবিত্র মন্দির ধ্বংস করে দেয়। তিশা বাব এ ইহুদিরা বিভিন্ন ট্রাজেডিতে পতিত হয়েছে। সেই উপলক্ষ্যে তারা এই দিনটিকে পালন করে।
বৌদ্ধ ধর্ম

বৌদ্ধ ধর্মে উপবাস করা হয় মূলত রসনা নিয়ন্ত্রণ ও ভোগ থেকে নিজেকে বিরত রাখার কৌশল হিসেবে। বৌদ্ধ আত্মনিয়ন্ত্রণের কৌশলকে বলে ‘ধুতাঙ্গা’। অন্তত তিরিশটি পদ্ধতি আছে এ ধরনের নিয়ন্ত্রণের। এর মধ্যে চারটি খাদ্যগ্রহনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। যেমন: দিনে একবার ভক্ষণ (একাহারি), একবসাতে খাওয়া, কম খাওয়া (স্বল্পাহারি), মেঙ্গে খাওয়া, প্রথম সাত বাড়ি থেকে যা পাওয়া যায় তা-ই খাওয়া। এর যেকোনো একটি কেউ বেছে নিতে পারে।
জৈন ধর্ম

জৈন ধর্মে উপবাস কয়েক প্রকার। পূর্ণ উপবাস: একটা নির্দিষ্ট সময় খাদ্য পানীয় স্পর্শ না করা আংশিক উপবাস: ক্ষুধা নিবারণের জন্য যতোটুকু প্রয়োজন তার চেয়েও কম খাওয়া ব্রতী সংক্ষেপা: নিয়মিত খাবারের আইটেম কমানো রাসা পরিত্যাগা: প্রিয় খাবারগুলো স্পর্শ না করা জৈন ধর্মে আরো দুই ধরনের উপবাস আছে। টানা কয়েক মাস উপবাস করা। যেমন : জৈন ধর্মের প্রবক্ত মহাবীর টানা ছয় মাসেরও বেশি উপবাস করেছিলেন। বর্তমানকালের অনেক জৈন ধর্মাবলম্বীও এই অসম্ভব কর্মটি করেন যেমন: হীরা রতন মানিক। তিনিও ছয় মাসের অধিক উপবাস করেছেন। শ্রী সহজ মুনি মহারাজ টানা এক বছর উপবাস করে রেকর্ড করেছেন। ১৯৯৮ সালের ১ মে তার ৩৬৫ দিন পূর্ণ। এ ধর্মে আরেক ধরনের উপবাস আছে। যাকে বলা যায় ‘আমৃত্যু উপবাস’। জৈন ধর্মগুরুরা মহাপরিত্রাণের জন্য আমৃত্যু উপবাস করে থাকেন। একে বলে সান্থারা বা সালেংখানা।
হিন্দু ধর্ম

-হিন্দুধর্ম বা বৈদিক ধর্মে প্রতিটি পূজায় ব্রতী পূজারি ও অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা নারী-পুরুষ উপবাস করে থাকেন। এছাড়াও অমাবস্যা ও পূর্ণিমা ইত্যাদি তিথিতে উপবাস করেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। হিন্দুরা একাদশী (চাঁদের
-১১ তারিখ) উপবাস পালন করে থাকেন। অনেকে বিশেষ দেবতার পূজা উপলক্ষে প্রতি শনিবার, শুক্রবার, বৃহস্পতিবার অথবা মঙ্গলবার উপবাস করেন। তবে এর মধ্যে কেউ ‘নিরম্বু’ উপবাস করলে পানিও পান করা যায় না। তবে ক্ষেত্রবিশেষে করা যায় -
শিখ ধর্ম

শিখধর্মে উপবাস প্রথাকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। গুরু গ্রন্থ সাহিবে বলা হয়েছে উপবাস কোন আত্মিক সুবিধা বয়ে আনে না। তাই শরীরকে কষ্ট দিয়ে কোন লাভ নেই। তবে শুধু মাত্র স্বাস্থ্যজনিত কারণে উপবাস করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
খ্রিস্টান ধর্ম

-খ্রিস্ট ধর্মের বাইবেলিকার বইয়ের মধ্যে ইসাইয়াহ (৫৮:৬-৭), জাকারিয়াহ (৭:৫-১০), বুক অফ দানিয়েলে উপবাসে কথা বলা হয়েছে। তবে এখানে উপবাসে খাদ্য পানীয় পরিহারের বদলে সৃষ্টিকর্তার আদেশ পূর্ণরূপে প্রতিপালন করতে গরীব এবং দুর্দশাগ্রস্থকে সাহায্যের কথা বলা হয়েছে। বুক অফ দানিয়েলে আংশিক উপবাসের কথা বলা হয়েছে।
খ্রিস্টধর্মের বিভিন্ন শাখা বা চার্চ উপবাস পালন করে থাকে। তবে কিছু শাখা এটাকে পালন করে না। ক্যাথলিক চার্চ এবং ইস্টার্ণ অর্থোডক্স চল্লিশ দিনের আংশিক উপবাস পালন করে থাকে। ইথিওপিয়ান অর্থোডক্স চার্চ বছরে কয়েকবার সপ্তাহব্যাপী আংশিক উপবাস পালন করে। উক্ত সময়ে তারা মাংস এবং দুগ্ধ আহার থেকে বিরত থাকে। বাইবেলে (লেভিক্টাস ২৩:২৭,৩১) বলা হয়েছে, সবার উচিত সপ্তম মাসের নবম দিনের সন্ধ্যা থেকে দশম দিনের সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনরূপ খাদ্য গ্রহন না করা।
সুত্র ও ছবি---ইন্টারনেট

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।
