somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সুনশান পাইন বনের রাস্তা

২৮ শে মে, ২০২১ ভোর ৬:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




বাড়ীর পেছনের পাইন বন ধরে বা’দিকে কিছুটা হেটে গেলে গাছগাছালি দিয়ে ঘেরা কাঠের একতলা বাড়িতে সে থাকে। এ বছর জানুয়ারী ফেব্রুয়ারী মাসে শীতের তীব্রতা এতো বেশী ছিলো যে পাইন বনের ভেতরের পিচঢালা মসৃন পথটি বরফে ঢাকা ছিলো। তুষারাবৃত পথটি মাইনাস ঠান্ডায় পিচ্ছিল হয়ে যাওয়াতে এই মৌসুমে সে আর এদিকটায় আসেনি । সেকারনে এবারের শীতে দেখা হয়নি তাঁর সাথে।

হিমাংকের নীচে তাপমাত্রায় বয়ে যাওয়া হু হু বাতাস নিজের ঘরের দরজা জানালা বন্ধ করে মোহ মুক্তির জন্য নির্লীপ্ত থেকে বুকের গভীরে কালশিটে কিছু দাগ জমিয়ে অনুভব করেছি। বাহিরে বের হওয়ার সাহস আমারও হয়নি।

তার পছন্দের ফল চেরি। শীতের আগেই কিছু চেরি এনে রেখেছিলাম। সেই সাথে এক বোতল রেড ওয়াইন। রান্না বা ঘরকন্যাতে কখনোই মনোযোগী ছিলাম না। তারপরেও তাকে যত্ন করে খাওয়াবো বলে রান্না করেছিলাম মোৎজরলা চিজ ও টমেটো সসে সাদা পাস্তা।

খুব সম্ভবত সে ছিলো পৃথিবীর সবচেয়ে বেরসিক আর আবেগ বর্জিত পুরুষ।হুট করে এমন একটি পুরুষের প্রেমে অযাচিতভাবে পড়েছিলাম বলা যায়।

পরিচয়ের শুরুটা ছিলো বেশ অদ্ভুত । পাইন বনের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া খরস্রোতা পাহাড়ী নদীটি আমাকে অদ্ভুত আকর্ষণ করতো। পাইনের পাতা ছুয়ে মৃদুমন্দ বাতাস নদীর বুকে জেগে উঠা তিরতির ঢেউ আমার হৃদয় মথিত করে কেমন যেন এক শিহরন শরীর জুডে খেলা করতো।

একদিন আনমনে নদীর পাড়ে বসে কবিতা পাঠে মগ্ন । হঠাৎ দৃষ্টি গেলো এক ছায়ামূর্তির দিকে । ছায়া মূর্তি বলছি এ কারনে যে, সে আমার থেকে বেশ কিছুটা দূরে থাকায় আমি তাকে খুব অস্পষ্ট দেখছিলাম। তাছাড়া সে দাডিয়ে ছিলো উঁচু এক চেরি গাছের নীচে কিছুটা ঢালু জায়গায়।চেরি গাছটি তাকে অনেকটা আড়াল করে রেখেছিলা। দূর থেকে আমার মনে হলো সে আত্মহত্যা করতে চাইছে ।
ঐ মূহূর্তে একটাই ভাবনা তাকে বাঁচাতে হবে।

কবিতার বই দ্রুত বন্ধ করে দৌড়ে তার পাশে যেয়ে দাঁড়ালাম। তাকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে বললাম

“এ কি করছেন ? সরে আসুন “

সে ঘুরে দাঁড়ালো । মুচকি হাসলো । বললো “ভেবেছিলেন আমি আত্মহত্যা করছি “? উচ্চস্বরে হাসতে লাগলো ।

আমি অপ্রস্তুত হলাম। নিজেকে কি ভীষণ বোকা বোকা মনে হলো!

সে বললো “আমি মাছ ধরছিলাম হুইল বড়শি দিয়ে। মনে হচছে মাছ বড়শি গিলেছে। বড়শি নিয়ে পালাচ্ছে । আমি ধরার চেষ্টা করছিলাম । আপনার হৈ চৈ তে আমার মাছ ও বড়শি দুই-ই চলে গেলো “।

এবার আমি ভীষণ লজ্জা পেলাম । দাঁত দিয়ে নখ কাটতে কাটতে বললাম “সরি । ভীষণ দু:খিত“।

সে আবারও হাসলো । খেয়াল করলাম কি অদ্ভুত সে হাসি ! আমার খুব ছুয়ে দেখতে ইচ্ছে করলো সে হাসি । আমি তার প্রেমে পড়লাম ।

শুরুটা ছিলো এভাবে বেশ কয়েক বছর আগে।

একদিন সন্ধ্যায় কনিয়াক একটু বেশিই খেয়ে ফেলেছিল। তরল নেশায় তখন সে বুঁদ।হেসে উঠে নিজে থেকেই আমার প্রিয় রঙ জানতে চাইলো। একেবারেই বাস্তব কিছু অনুভব নিয়ে তখন বলতে চেয়েছিলাম তাকে যে ভালোবাসবে তার কাছে যেনো কখনো মিথ্যা না বলে। বা কিছু গোপন না করে। তবুও এই বাস্তব কথাটুকু সে সময় বলা হয়নি।

শোন, কেউ কিছু বললে তার উত্তর দিতে হয়। কথা প্যাচিয়ে অন্য কিছু বললে বিরক্ত লাগে। যদিও আমার বিরক্তি তোমার কাছে মূল্যহীন । তবুও বললাম।

কত কথাই তো বলেছি। কিছুই রাখোনা ।
নেশা কেটে যাওয়ার পর বল, "সব কী রাখা জরুরী"?
না সব জরুরী নয়।

আচ্ছা তুমি এমন কেন?
তারপরেও কেনো শুনশান পাইন বনের রাস্তায় তোমার পায়ের শব্দ শুনতে চাই!!

--রাবেয়া রাহীম
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২২ সকাল ১১:২৯
১৪টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রধানমন্ত্রী বিদেশে, আইনও কি সঙ্গে নিয়ে গেছেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০৬


প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফরে গেলেই দেশ অশান্ত হয়ে ওঠে । সালাহউদ্দিন আহমেদের মতো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকতে এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে কেন? প্রধানমন্ত্রী দেশের বাইরে থাকলেই কিছু নেতাকর্মী যেন নিজেদের দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ আগস্টের সেই ভিডিও, কিছু অমীমাংসিত প্রশ্ন এবং ইতিহাসের নির্মম পরিণতি

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৪৪


৫ আগস্টের সেই ভিডিও, কিছু অমীমাংসিত প্রশ্ন এবং ইতিহাসের নির্মম পরিণতি

ক্ষমতার পালাবদল হয়, কিন্তু ইতিহাসের কাঠগড়া কখনো খালি থাকে না
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক নাটকীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তখন

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৬

তখন
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

তখন আলিফ লায়লা হতো
দেখতাম বিটিভিতে বাংলা মুভি
মিনা কাটুন, হারকিউলিস, রবিন হুড
নাটক, ইত্যাদি, বেশ আনন্দ পেতাম।
খেলাধুলা করতাম বন্ধুদের সাথে
বিবিধ রকম, সবসময় থাকতাম প্রাণবন্ত!
যে বাড়িতে ভাড়া থাকতাম তাদের
একটি সাদা-কালো টিভি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওকে নিয়ে চীনের আবেগ, শেখ মুজিবকে নিয়ে আমাদের বিদ্বেষ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২২


ফরাসি ফুটবলার কিলিয়ান এমবাপ্পেকে সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, তাঁকে নিয়ে কোন মিমটি দেখে সবচেয়ে বেশি হাসি পেয়েছিল। ফরাসি অনুষ্ঠান The Bridge এর ব্যাকস্টেজ ভিডিওতে তিনি বলেন, একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোটগল্প - চক্ষুহীন লোকটি

লিখেছেন ফাহমিদা বারী, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩




মি পারসনস যখন হোটেল থেকে বের হলেন, ভিক্ষুকটি তখন রাস্তায় এসে দাঁড়িয়েছে।

সে ছিল একজন অন্ধ ভিক্ষুক। অন্ধদের চিরাচরিত সাদা ছড়ি ছিল তার হাতে। সেটা দিয়ে সামনের পথটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×