somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ক্ষণিকের পরিচয়

১৩ ই নভেম্বর, ২০১৫ রাত ৯:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



হঠাৎ করে বিন্দুর সাথে একটা ঝগড়া বেঁধে গেল। কোন কারণ সেই। একেবারেই অকারণে। সিন্দু তেমন কিছুই বলেনি।
বিন্দু সিন্দুর পাঁচ বছরের সংসার। একটা মেয়ে চৈতি। বয়স চার বছর।
বেশ কয়েকদিন হলো দুজনের খুব ভালো যাচ্ছে না। বিন্দু সাগরকে ফোন দেয়। বিভিন্ন ধরনের আজে-বাজে কথা বলে। সিন্দু তাকে বুঝায়।
“দেখ, বিয়ের আগে প্রেম সে যে কারো সাথেই হতে পারে। এখন তুমি সংসারী সংসার নিয়ে ভাবে।”
“একটু আধটু কথা বললে কিছু হয় না।”
“কিছু যদি না হবে বলার দরকার কি?”
“ও তুমি বুঝবে না।”
“বুঝি না তবে চেষ্টা করছি।”
“তাতে কি লাভ হবে?”
“কেবল লাভের হিসাব করতে নেই। তবে লোকসানের সময় বড়ই বিপদ হয়ে যাবে।”
দুজনের মাঝে বেশ লড়াই চলছে। রাগে সিন্দু বলে, “তুমি যাবে চলে যাও। চৈতিকে আমার কাছে রেখে যাও।”
“কেনো?”
“কানো, মানে? চৈতি আমার মেয়ে।”
“চৈতিকে আমি পেটে ধরছি।”
“আমি ওর বাবা।”
“মিথ্যে কথা। ওকে তুমি জন্ম দাওনি।”
সিন্দুর মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ল। সন্তানের পিতাকে তা মা’ই জানে। তবু তুমি একবার হলেও বল চৈতি আমার মেয়ে। সে বলা মিথ্যা হলেও আমি ওকে নিয়ে বাঁচতে পারবো। তোমারতো সাগর আছে।”
“ওকে তুমি রাখতে পারবে না। সাগরের কাছেও নেব না। কারণ, ও সাগরেরও মেয়ে নয়। ওকে রাখার মত যোগ্যতা তোমার নেই। ওর বাপ কোটিপতি।”
“আমি তাকে জন্ম না দেই ভালোবাসা দিয়েছি। জন্ম দেওয়া যত সহজ ভালোবাসা অতো নগণ্য নয়।”
“শুধু ভালোবাসা দিয়ে কাউকে ধরে রাখা যায় না।”
“ভালোবাসা ছাড়াও যায় না।”
“ভালোবাসা সমতা চায়।”
“ভালোবাসা কিছু চায় না। শুধু দেয়। দেওয়ার মাঝেই ভালোবাসা। আমি চৈতির কাছ থেকে কিছু দাবী করি না। শুধু চৈতিকে চাই।“
“এখন কি পারবে?”
“আমি স্বার্থপর কিন্তু এতোটা নয়। তোমার কথায় জানলাম চৈতিকে আমি ধরে রাখতে পারবো না কিন্তু মন থেকে কোন দিন মুছতে পারবো?”
“আমি বুঝতে যাব কোনো।”
“আমার একটা কথা রাখবে, তুমি ওকে নিয়ে সাগরের কাছে নয় ওর সত্যিকারের বাবার কাছে যাও। আমি কোনই দুঃখ পাবো না।”
“আমার সাগরকে খুব দরকার।”
“আমাকেও এমন অনেক কথা বলেছিলে।”
“তখন কি জানতাম তুমি এমন?”
“এতোদিন থাকলে কেনো?”
“আমি জানতাম তোমার ব্যাংকে দুই কোটি টাকা আছে।”
“তোমার আজ যে চরিত্র ফুটে উৎছে তাতে তোমাকে কোন দিন মনেও করবো না। শুধু ভাববো মানুষ এমন হয় কি করে। তবে মাঝে মধ্যে চৈতিকে একটু দেখতে দিও।”
চৈতির কাছে এসে সিন্দুর অনেক কান্না পেল। চোখের জল কোন ভাবেই আটকে রাখতে পারল না। চৈতি তাকে জড়িয়ে ধরল। সিন্দু চোখের জল মুছিয়ে দিয়ে বলল, “কোন কিছুর বিনিময় যদি কোন দিন মনে পড়ে আমার কাছে এসো আমি তোমাকে ফিরে দেব না। তুমি আমার মেয়ে। এ পরিচয় কেবল তোমার আর আমার মাঝেই থাক।”
চৈতিকে কতগুলি চুমু দিল। বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে একটু কাঁদল। চৈতিকে নিয়ে বিন্দুর কাছে গেল। বলল, “তুমি আজ ঠিক কাজটিই করেছো। এতো বড় একটা মিথ্যা এতোদিন গোপন থাকতে পারে না। আসলে, সত্য প্রকাশের জন্য এমন ঘটনা ঘটেই থাকে। ভালো থেকো।”
বিন্দু রেডি হলো। চৈতি বাবার কাছে এসে হাতটা ধরে চোখের জল ছেড়ে দিল। বলল, “বাবা, তাড়াতাড়ি আসপা। আমি তোমার সাথে আসপো।”
১ জুলাই ২০১৫ইং
অনিল চেয়ারম্যানের বাড়ি,
পুইশুর, কাশিয়ানী, গোপালগঞ্জ।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই নভেম্বর, ২০১৫ রাত ৯:৪৯
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জিন্নাহকে আমরা আসলে কেন ভালোবাসি—জীবনাচারের জন্য, নাকি পাকিস্তানের জন্য?

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৬

ইতিহাসের কিছু চরিত্রকে আমরা ভালোবাসি না তাঁদের পুরো জীবনকে বুঝে; বরং তাঁদের ঘিরে তৈরি হওয়া একটি রাজনৈতিক প্রতীকের জন্য। মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ সম্ভবত তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ।

জিন্নাহ ছিলেন নিঃসন্দেহে অসাধারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অটো কে বন্ধ করা যাবে না।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫১




অনেক দিন আগের কথা। ২০১৫ সালের ঘটনা। তখন আমি মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়ায় থাকি এবং অনার্সে পড়াশোনা করি। পড়তাম পাশের উপজেলা সোনারগাঁওয়ের সোনারগাঁও সরকারি কলেজে। প্রতিদিন কলেজে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম ছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

পদ্মা ব্যারাজের ডিজাইনার : খাল বাবা স্বয়ং

লিখেছেন অপলক , ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১৮

আসন্ন বিসিএস পরীক্ষার কমন প্রশ্ন ফাঁস করে দিলাম। পদ্মা ব্যারাজের ডিজাইনার মহাপ্রতিভাবান খাম্বা/খাল বাবা। তিনি HSC ডিগ্রীধারী হলেও তার প্রতিভা আকাশচুম্বী। রবিঠাকুর বা নজরুলের সাথে তার কোন তুলনা হয় না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ ডেভেলপমেন্টে করণীয় কি?

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৬



গত কয়েক বছর ধরে সামহোয়্যারইন ব্লগ সহ দেশের সকল পত্রিকা ও টিভি চ্যানলে রাজনৈতিক লেখা বেশি আসছে যা সকলের কাছে ভালো লাগার বিষয় না। রাজনীতি ভালো লাগবে শুধুমাত্র জেনজি’দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো প্রয়োজন নেই! আপনি কি মনে করেন?

লিখেছেন কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত), ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৪



বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে শিক্ষাগত যোগ্যতাবিহীন বা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাবঞ্চিত কোনো ব্যক্তির পক্ষে এককভাবে স্থানীয় সরকারকে প্রযুক্তিনির্ভর এবং 'স্মার্ট বাংলাদেশ' বা 'ডিজিটাল বাংলাদেশ'-এর লক্ষ্য অনুযায়ী আধুনিকায়নের দিকে এগিয়ে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×