পুরো তেরো মাস পরার পর
জুতোটা ছিড়ে গেল।
তাই বিকেলে গেলাম চৌরঙ্গী।
গড়ের মাঠের ঠিক
উল্টো দিকে "শ্রী চরণ-এ-সু" স্টোরে।
বিরাট দোকান।
ওরা ভালো জুতো বানায়। মজবুত আর
টেকসই-ও বটে।
বুড়ো ছোটখাটো ফরফরে ফর্সা সেলসম্যান,
ধুতি পরা। মনে হলো ব্রাম্হন,
কপালে আবার চন্দনের টিপ।
আমাকে নমস্কার দিয়ে সম্ভাষণ জানালো।
দোকানে কত জুতো। মাথা গুলিয়ে যায়,
পছন্দ করা শক্ত হয়ে যায়।
শেষমেষ পছন্দ হলো একজোড়া জুতো। আয়েশ
করে বসে জুতোজোড়া পরলাম, হাঁটলাম
ঠকঠক করে। বেশ আরামদায়ক জুতো।
সেলসম্যান-কে জিগ্যেস করলাম-চামড়া তো?"
-আজ্ঞে বাবু, খাঁটি গরুর চামড়া।"
সাথে সাথে আমার চোখ পরলো দোকানের
ক্যাশবাক্সের পিছনের দেয়ালে।
একটা গরুর ছবি। কপালে সিদুর। গলায়
ফুলের মালা। সামনে জ্বলছে আগোর বাতি।
আহা কি ভক্তি !!!
আমি ছবিটি দেখিয়ে সেলসম্যান-
কে বললাম -ওটা কিসের ছবি?"
-গো-মাতা বাবু,গো-মাতা !"
থ হয়ে গেলাম আমি। মনে মনে বললাম,তোমারা গরুকে এত ভক্তি করো,
একেবারে জননী আর দেবীর আসনে বসিয়ে পূজো করো। এখন সেই
দেবীমায়ের
চামড়া ছুলে আমাকে জুতো বানিয়ে দিয়েছ,
যা পায়ে দিয়ে আমাকে সারা কলকাতা হাঁটতে হবে !!!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



