somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একজন ডাক্তার এবং আমি যখন তার রুগী-- কিছু সত্য কথন।

১৯ শে আগস্ট, ২০১৪ বিকাল ৫:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একজন ডাক্তার এবং আমি যখন তার রুগী-- কিছু সত্য কথন।



বাংলাদেশের ডাক্তারদের বিষয়ে তিক্ত-মিষ্ট অভিজ্ঞতা নেই এমন মানুষ খুব কমই আছে। সত্যি কথা বলতে গেলে তিক্ত অভিজ্ঞতাধারী মানুষের সংখ্যাই বেশী। তাই বলে ডাক্তারকে এড়িয়ে চলব এমন সুযোগ তো আমাদের নেই। এমন সুযোগ যদি থাকত তাহলে হলফ করে বলতে পারি সবার আগে আমি এই সুযোগটা সানন্দে গ্রহণ করতাম। কিন্তু না ! শরীর যেহেতু আছে রোগ-ব্যাধি সেখানে বাসা বাধবে এটাই স্বাভাবিক। আর তা থেকে উপশমের জন্য ডাক্তারের দ্বারস্থ হতেই হয় সবাইকে।

আমি এ পর্যন্ত বাংলাদেশে যত ডাক্তারের মুখোমুখি হয়েছি, খুব পরিচিত বা কাছের জন ছাড়া বাকী সবার কাছ থেকে যে ব্যবহার বা অভিজ্ঞতা পেয়েছি সেগুলোকে কোনমতেই সুখকর বলে চালিয়ে দিতে পারিনা। পারলে আমার ভাল লাগত। এসব অভিজ্ঞতার মধ্যে সর্বশেষ অভিজ্ঞতা যা আমি রুগী হিসেবে অর্জন করেছি তা এখানে শেয়ার করতে চাইছি। আমি জানি আমার মতো ভুক্তভোগী অনেকেই আছেন।

যাই হোক। গত ৭ আগষ্ট তারিখে পিঠে প্রচন্ড ব্যথা নিয়ে আমি ফার্মগেটের আল রাজী হাসপাতালে একজন ডাক্তারের শরণাপন্ন হই। ডাক্তার সাহেবের নাম বললে হয়তো সকলেই চিনবেন। সেটা না হয় না-ই বললাম। শুধু বলে রাখি যে উনি শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের একজন প্রফেসর। এবার আসি মুল কথায়। আমার সিরিয়াল আট নম্বর। সাত নম্বর রুগী ঢুকার পর এটেনডেন্ট আমাকে দরজার কাছে দাঁড় করিয়ে দিয়ে বলল, এরপর বেল বাজলে আপনি ঢুকবেন। আমিও তাই করলাম। বেল বাজার সাথে সাথে ভিতরে ঢুকলাম। সালাম দিলাম ডাক্তার সাহেবকে। কিন্তু উনি তখন আগের দুই রুগীর সাথে নানা গল্পে ব্যস্ত। বুঝলাম উনারা ডাক্তার সাহেবের খুব পরিচিত। পিঠে প্রচন্ড ব্যথার যন্ত্রণা নিয়ে আমি প্রায় আধঘন্টা দাঁড়িয়ে থেকে উনাদের খোশগল্প শুনলাম অনিচ্ছাসত্ত্বেও। এরপর বসার সুযোগ পেলাম। সমস্যার কথা বললাম। জানালাম আমি ব্যাংকে চাকুরী করি। সারাদিন কম্পিউটারে কাজ করতে হয়। ডাক্তার সাহেব আমার ব্লাড প্রেসার চেক করে দেখলেন ১৬০/১০০। বললেন, আপনি তো হাই রিস্কে আছেন। আসলেন কি করে ? আমি জানালাম, আমার বাসা কাছেই, হেঁটে এসেছি এবং আজকে আমি অফিসও করেছি। ডাক্তার যেন একটু অবাকই হলোন। বললেন, আপনার প্রেসারের ওষধ বদলানো দরকার,র ওষুধ খেয়ে ঘুমাবেন। তাহলে প্রেসার কমে আসবে। সাথে কিছু ব্যথা নাষক ওষূধ এবং এক্সরে করতে দিলেন।

আমি যথারীতি ৯ তারিখে এক্সরে রিপোর্ট নিয়ে দেখা করতে গেলাম উনার কাছে । চেম্বারে ঢুকতেই উনার প্রথম কথা, এরমধ্যে প্রেসার মাপিয়েছেন ? আমি বললাম, আপনার কাছে আজ আসব তাই আর মাপাইনি। উনার উত্তর, মাপাননি কেন ? আমি আজ আবার আপনার প্রেসার মাপব নাকি ? আমি বললাম, তাই তো করার কথা। আপনি মেপে দিন। এরপর কপালে বিরক্তির রেখা ফুটিয়ে তোলে উনি আমার প্রেসার পলেন। ১৪০/৯০। তারপর এক্সরে রিপোর্ট দেখে বললেন, যা ভেবেছিলাম ঠিক তাই । অত্যন্ত বিপদজনক অবস্থা আপনার। ইংরেজী পড়তে পারেন ? এই দেখেন লেখা রয়েছে। আমি বললাম, আমি একটা ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ । ইংরেজী পড়তে পারব না কেন ? তাই বলে আপনাদের লেখা ইংরেজী বুঝা আমার কাজ নয়। তারপর বললেন, আপনাকে কিছুদিন বেড রেস্টে থাকতে হবে। আমি বললাম, আমি তো চাকুরী করি। আপনি একটু লিখে দিন, তাহলে আমার ছুটি নিতে সহজ হবে। উনি বললেন, এখানে আবার আমি এটা লিখব নাকি ? আমি সাথে সাথে বললাম, আজকে আপনাকে কত টাকা দিতে হবে ? বললেন, তিনশ টাকা। আমি সাথে সাথে ব্যগ থেকে তিনশ টাকা বের করে দিতেই উনি প্রেসক্রিপশনের এক কোণায় লিখে দিলেন রেস্ট পর ফাইভ ডেইজ।

পাঠক এই লেখা এখানেই শেষ করলাম। এরপরের সিদ্ধান্ত বা মন্তব্য আপনাদের। আর এই ব্লগে যারা ডাক্তার আছেন তারা বিষয়টি কিভাবে নিবেন তা তাদের উপরই ছেড়ে দিলাম।

শুধু বলে রাখি, এরপর আমি আমার পরিচিত এক ডাক্তারের সাথে দেখা করে জানতে চাই আমার প্রকৃত অবস্থা। উনি বললেণ, এই বয়সে এটা কমন ব্যাপার। তেমন কিছু নয়। নিয়মিত ওষুধ খেলে নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে আগস্ট, ২০১৪ সকাল ৯:৪৭
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোথায় পাই পাগলের শ্বশুর

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮


পাগলের পাতা ছাগলে খায়,
দাঁতের দোষটা হাতেই যে কয়;
দেয় রে দোষটা দেয় চোখের,
মনটা যে ধোয়া তুলসীপাতা,
কেউ দেখে না রে মুখের।

মুখের কথা ঠোঁটে কয়,
ছাগল ডাকে রে ভাই, ব্যাঁ-ব্যাঁ;
পাগলের কাজ পাগল করে সই,
সাধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×