আমার বাগানে প্রথম যেদিন অপরাজিতা ফুটলো
দেখে আমি মুগ্ধ হলাম
এই বুঝি সে আমায় দেখে হাসলো।
আমার বাগানে প্রথম যেদিন অপরাজিতা ফুটলো
দেখে আমি মন হারালাম
এই বুঝি সে আমার মনে সুখের পরশ ঢাললো।
ভোরের হাওয়ায় রং বাহারি অপরাজিতা
দুললো যখন দুললো
আমার মনের রুদ্ধ দুয়ার
খুললো তখন খুললো।
আমার বাগানে প্রথম যেদিন অপরাজিতা ফুটলো
আমি অবাক হয়ে চেয়ে রইলাম
এই বুঝি সে আমায় কাছে ডাকলো।
রাঙা আলোয় সুর ছড়িয়ে আমায় ভালবাসলো।
কবিতাটি লেখার একটি বাস্তব প্রেক্ষাপট আছে। আমি তিন মাস আগে আমি অপরাজিতার বীচি বুনেছিলাম আমার টবে। দুটো চারা উঠলো। কিন্তু কচি অবস্থাতেই পাতাগুলো পোকায় খেয়ে ফেলল। মরে গেল দুটি চারা। আমার বুকের ভিতরটায় তখন খুব করে বিঁধেছিল। ঘরে আরও দুটো বীচি ছিল, সেগুলো লাগিয়ে দিলাম, চারাও উঠলো। এবার আর রিস্ক নিলাম না আমি। যখন বাসায় থাকিনা তখন টবটা ঘরের ভিতরে রাখি। কিন্তু চারাগুলো ভালভাবে বেড়ে উঠার জন্য রোদও তো দরকার। যখন বাসায় থাকি তখন টবটা বারান্দায় রোদে দিয়ে কাছে বসে থাকি, চারা দুটোর পাতায় যাতে কোন রকম আক্রমণ না আসে। এভাবে একটু বড় হলো চারা দুটো। যেন বুকের ওম দিয়ে সন্তানকে বড় করে তোলা।
তারপর বারান্দায় নিয়ে গিয়ে রেলিং এর সাথে আটকে দিলাম। অফিসে আসার আগে একবার পানি দেই আবার অফিস থেকে বাসায় ফিরে রাতে একবার পানি দেই। যত্ন-আত্তি ঠিকমতো পেয়ে তর তর করে বেড়ে উঠলো গাছ দুটো। সেদিন সকালবেলা পানি দিতে গিয়ে দেখি একটি অপরাজিতা সকালের মিষ্টি হাওয়ায় দুলছে। দেখে আমার বুকের ভিতরটা আনন্দে লাফিয়ে উঠলো। এই দৃশ্যটা দেখার জন্যই তো এতদিন বুকের সবটুকু উষ্ণতা ঢেলে যত্ন করেছি গাছ দুটোর। কিন্তু আমার আকাংখার ফল এত তাড়াতাড়ি দেখতে পাব ভাবিনি। সেদিন থেকে একটা/দুইটা করে ফুল ফুটছে। সাথে সাথে আমার আনন্দ পাখিও যেন আকাশে ডানা মেলছে। তবে আমার গাছে প্রথম অপরাজিতা ফুলটাকে মনের যে অনুভূতি হয়েছিল তা কাউকে বলে বুঝানো যাবেনা। এই কবিতার মাধ্যমে সেই অনুভূতির কিছুটা প্রকাশ করার চেষ্টা করেছি।
উল্লেখ্য নতুন ভার্সনে ছবি আপলোড করতে পারছিনা বলে আমার অপরাজিতার ছবিটি দিতে পারলাম না।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে মে, ২০১৫ বিকাল ৩:৫৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



