দেশে এখন দুটি বিষয় চলছে বেশ জোরেসোরে। একটি হলো খুনগুম এবং অপরটি সাংবাদিক নিধন। ইদানিং দৈনিকগুলোর অনলাইন এডিশনের দিকে তাকালে দেখা যায় রয়েছে অনেকগুলো উদ্ধেগজনক খবর। অবশ্য এগুলোকে উদ্ধেগজনক না বলে নিত্য নৈমত্রিক ঘটনা হিসাবে উল্লেখ করা যায়। তবে যে দৃষ্টিকোণ থেকেই দেখিনা কেনো, বড় বড় অনাকাঙ্খিত মৃত্যুর মিছিল দেখে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়া বাঙালীর হৃদয়ে এসব নিয়ে তাপ-উত্তাপ খুব একটা প্রবাহিত হয়না । কেউ কেউ হয়তো মৌনতা ভেঙে নিরুত্তাপ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেন ব্লগে। নানা বোধের প্রকাশ ঘটে মন্তব্যে। ফেসবুক কিংবা অফিসে কাজের ফাকে কখনও কখনও চলে দেশ ও রাজনীতি নিয়ে আলোচনা। কিন্তু ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এসব আলোচনা-সমালোচনা কোন পরিবর্তনের জন্ম দিতে পারেনা। এগুলো আসলে পার্ট অব দ্যা টকশো।
খবরে দেখলাম, ঝিনাইদহে বিএনপি নেতা খুন হয়েছেন এবং ঢাকার সোহরাওয়ার্দীতে এক নারী সাংবাদিক ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এদুটি খবর ছাড়াও প্রতিবাদ এবং নিন্দা জানানোর মত আরও একটি খবর হলো একজন সম্মানীত মিডিয়াকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন। প্রথম আলো পত্রিকার বিশেষ প্রতিনিধি সিনিয়র সাংবাদিক শিশির মোড়ল পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে মারধোর খেয়েছেন কয়েকজন ডাক্তারসহ শিকদার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের কর্মচারীদের কাছে। এটি নিয়ে থানায় মামলা হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। সাংবাদিক নেতারাও চুপ আছেন। ব্যক্তিগত ভাবে মানুষটির সাথে আমার পরিচয় না থাকলেও পাঠক হিসাবে তাঁর লেখালেখির প্রতি রয়েছে এক ধরণের দূর্বলতা। সম্ভাবত বছর পনেরো-ষোল আগে সাংবাদিকতার এক কর্মশালায় কোন এক সেশনে তিনি প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন। একটি এনজিওর ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত কর্মশালায় শিশির মোড়ল কে প্রশিক্ষক হিসাবে চিনেছিলাম। তখন প্রথম আলোর জন্মও হয়নি।
দু:খজনক বিষয় হলো একই দিনে একজন নারী সাংবাদিক ধর্ষিত হলেন এবং ওপরজন আক্রান্ত হলেন। দুটি ঘটনাই মিডিয়াকর্মীদের জন্য বিব্রতকর এবং পেশার ক্ষেত্রেও হুমকি স্বরুপ। সাধারণ মানুষ হিসাবে আমরা এ দুটি ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত ও জরিতদের গ্রেফতারে সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টা দেখতে চায়।
এদিকে রাজনৈতিক নেতা-কর্মী খুন-গুমের বিষয়টি যেন যথাযথ আছে আগের মত। খুন গুমের যে সংস্কৃতি শুরু হয়েছে দেশে, তা থেকে বেরিয়ে আসার অহিংস সিদ্ধান্তে আমরা কবে উপনিত হবো, তাও বোধ করি বলা যাচ্ছেনা পরিস্কার ভাবে। যে যার মত পেশী শক্তি খাটিয়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার প্রচেষ্টায় লিপ্ত।
এখন সবচেয়ে জরুরি হলো হিংসা এবং হিংস্রতা থেকে বেরিয়ে শান্তির পথে এগিয়ে যাওয়া। রক্তপাতহীন, ভয়-ডরহীন, পেশাগত মর্যাদাপূর্ণ এবং বিবেকের আলোয় উদ্ভাসিত নিরাপদময় মানবিক জীবনের লক্ষ্যে এক কাতারে সামলি হওয়া। শপথ হোক শান্তির পথে এগিয়ে যাওয়ার।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই মে, ২০১৪ সকাল ৯:০৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



