
আসুন "গুগল" নিয়ে একটু বিনোদন করি। নিজেকে খুঁজে ফিরি সেখানে বারবার। তার আগে কিঞ্চিত ভূমিকা।
মানুষের জানার পরিধিকে সম্প্রসারিত করেছে গুগল। সব বয়সের মানুষের কাছেই সহজবোধ্য অনুসন্ধানী একটি সাইট হিসাবে পরিচিত "গুগল।" নেট সম্পর্কে যার ধারণা আছে, তিনি গুগল চেনেন। চেনে শিশুরাও। জন্মেয় যে শিশুটি স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, ইন্টারনেটের সাথে পরিচিত হচ্ছে, সে তার বয়স চার-পাচ বছরের ভেতরেই শিখে ফেলছে গুগলে সার্চ দিয়ে ডরেমন কাটুন বের করা।
নেট ব্যবহারকারী সকল পেশা ও অপেশাজীবী মানুষের কাছে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ গুগল। জানার তাগিদে গোটা দূনিয়াকে গুগলই পারে চোঁখের সামনে এনে দিতে। যদিও এর ক্ষতিকর দিকটি মারাত্নক, তবে পজিটিভ অর্থে প্রয়োজনীয়তা তুলনাহীন। বাস্তবতা হলো সর্বকালের সর্বাধিক ব্যবহৃত সার্চ ইঞ্জিন হিসাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক ইন্টারনেট এবং সফটওয়ার কোম্পানি গুগলের রয়েছে আকাশছোয়া জনপ্রিয়তা।
আপনি কি চায়ছেন, তা মোটামুটি বুঝাতে পারলেই হলো, প্রয়োজনীয়-অপ্রয়োজনীয় সব তথ্য এনে দিতে পারে কারিশমেটিক এই সার্চ ইঞ্জিন।
কিন্তু কখনও কি বলে দেখেছেন, গুগল, খুঁজে দাও আমাকে।
হাতে সময় থাকলে কাজটি করে দেখতে পারেন আপনি। গুগল আপনাকে বা আপনার তথ্য-ছবিসহ নেট জগতে সবধরণের বিচরণকে কতটুকু সংরক্ষণ করেছে, তা বুঝতে পারবেন কয়েক সেকেন্ডেই।
google.com এ প্রথমে প্রবেশ করুণ। সেখানের সার্চ ওপশনে গিয়ে নিজের নাম একবার বাংলায়, একবার ইংরেজীতে লিখুন। এন্টার চাপুন। তবে বাংলা-ইংরেজী দুটি একসাথে লিখে সার্চ দিলে কিছুই আসবেনা। দিতে হবে আলাদা আলাদা ভাবে।
দেখুন না একবার সার্চ দিয়ে,
"গুগল মামা" আপনাকে কতটুকু চিনে রেখেছে?

ইন্টারনেট জগতে আপনার বিচরণ কতটুকু, তা কিন্তু পুরোটাই জানে গুগল। এতে হয়তো প্রাইভেসি কিছুটা হ্যাম্পার হয়, কিন্তু নিজেকে তুলে ধরা যায় বিশ্বময়।

কেবল ফেসবুক ব্যবহারেরর কারণেই আপনার কত তথ্য ও ছবি গুগল সংরক্ষণ করে রেখেছে তা রীতিমত চমকে ওঠার মত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, ব্লগসহ ইন্টারনেট জগতের যেখানে যেখানে আপনি আপনার যা যা রেখে এসছেন, তা পরম যত্নে হৃদয়ে আগলে রাখছে গুগল এবং আপনি চাওয়া মাত্রই তা তুলে ধরছে আপনার স্কিনে।

আপনি যতবেশী বিখ্যাত ব্যক্তি হয়ে উঠতে থাকবেন, যতবেশী অংশগ্রহন থাকবে আপনার ওয়েব দূনিয়ায়, আপনি ততবেশী কভারেজ পাবেন গুগল সার্চে।

আসুন অল্প কথায় জেনে নেই গুগলের ইতিহাস।
১৯৯৬ সালে গবেষণা প্রকল্প হিসেবে ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের দু’জন পিএইচডি কোর্সের ছাত্র ল্যারি পেইজ ও সের্গেই ব্রিন নতুন কৌশলে সার্চ ইঞ্জিন বানানোর কাজ শুরু করেন।

গুগল প্রতিষ্ঠান হিসাবে রুপ দেয়ার মধ্য দিয়ে তাদের প্রচেষ্টা সফলতা লাভ করে। গুগল ইনকর্পোরেটেড বিশেষভাবে গুগল সার্চ ইঞ্জিন, অনলাইন বিজ্ঞাপন সেবা এবং ক্লাউড কম্পিউটিং’র জন্য বিশ্বখ্যাত। প্রাথমিকভাবে তারা বিজ্ঞাপন থেকে অর্থ আয় করে থাকে। গুগলের অপ্রাতিষ্ঠানিক মূলমন্ত্র হলো-ডোন্ট বি ঈভ্ল্। গুগল প্রাইভেট কোম্পানি হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে ১৯৯৮ সালের ৪ঠা সেপ্টেম্বর।
গুগল নিয়ে ভাবতে ভাবতে ছড়া টাইপের একটি পদ্য লিখে ফেললাম:
কবিতার নাম : তোমাকে চাই গুগল
তর্কে-বিতর্কে, ঝগড়া-আপোষে,
ভাল-মন্দে, ঘরে বা অরুণ্যে,
নতুনের আলিঙ্গনে,
জানার বাসনায়,
ফেলে আসা স্মৃতি
ফিরে দেখার তাড়নায়,
তোমাকে চাই, "গুগল" তোমাকে চাই।

পরিশেষে একটি কষ্টের কথা বলি। ঢাকায় থাকতে চাইছেনা "গুগল।"
পত্রপত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে আসা খবর হলো "গুগল" আপাতোত ঢাকায় অফিস চালু করছে না
কেনো করছেনা?
বিস্তারিত খবরে দাবি করা হয়েছে বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি যে সম্প্রচার নীতিমালা প্রণয়ন করেছেন তারই প্রেক্ষাপটে গুগল ঢাকাতে তাদের অফিস না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে অনুসন্ধানী কাজে বাধা হয়ে দাড়াবে আইন। সুতরাং একজন গুগলভক্ত ব্লগার হিসাবে সরকারের সম্প্রচার নীতিমালার অযুহাতে মিডিয়াকে শেকলবন্ধি করার নোংড়া ষড়যন্ত্রকে রুখে দেই।
"গুগল তুমি ঢাকায় থাকো।
আমরা আছি তোমার সাথে।।"
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই আগস্ট, ২০১৪ রাত ৩:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



