somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পূর্ব পুরুষের খুঁজে

০৩ রা জুন, ২০২১ সকাল ১১:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ব্যাক্তিগত কোন চিন্তা না লিখে, আমাদের পূর্ব পুরুষদের সভ্যতার শুরুর ইতিহাসটি, আপাতত যেভাবে বর্ণিত আছে, সেভাবেই উল্লেখ করছি। আর্যজাতি এখানে এসে স্থানীয়দের বর্ণনা দিল বর্বর ও নিচু শ্রেণির হিসেবে। স্থানীয় অষ্ট্রিক ও দ্রাবিড়দের সংস্কৃতি এবং বাকি সবকিছুই মুছে যেতে লাগলো। আর্যদের দেবতাদের নিয়ে বেদ, পুরাণ সহ অন্যান্য জিনিস রচিত হল। আর্য পুরুষদের ইতিহাস নিয়েই রচিত হল রামায়ণ আর মহাভারত।
অনার্য শব্দটি শুধু যারা আর্য নন তাদের জন্যেই ব্যবহৃত হতো না এটা তুলনামূলক অধমদেরই বুঝাতো। আর্যদের একক প্রভাবের আরেকটা উল্লেখযোগ্য নিদর্শন হচ্ছে সকল বইয়ে সংস্কৃত ভাষার প্রভাব। কারণ এর পূর্বে অবশ্যই অন্য ভাষা ছিল যা সংস্কৃতের প্রভাবে ভারতবর্ষ থেকে বিলীন হয়ে গেছে অথবা এটাও বলা যায় মিশে গেছে কিছুটা সংস্কৃতের সঙ্গে। সংস্কৃত অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাষা এটা কেউ অস্বীকার করবে না। তবে আর্যদের রাজনৈতিক প্রভাব যে তাদের ভাষাকে বিস্তারিত করেছে, এটাই সত্য। দ্রাবিড়দের মধ্যে যে ভাষাগুলো প্রচলিত ছিল এর মধ্যে উল্লেখ করা যায় তামিল ভাষার নাম। যারা নিজস্বতা নিয়ে আজও টিকে আছে। আছে তাদের বিশাল সাহিত্য ভাণ্ডার সহ বর্তমান সময়ে সিনেমায় আধিপত্য।
এখন থেকে পাচ হাজার বছর আগে মধ্য বা পূর্ব ইউরোপের কোন একটা অংশে অথবা উড়াল পর্বতের দক্ষিণে সমতল ভূভাগে আদি ইন্দো-ইউরোপীয় বা আর্যজাতির উদ্ভব হয়। নিজেদের দেশে তারা খুব উচুস্তরে যেতে পারে নি। তাদের বিকাশ হয়েছেই অন্যান্য স্থানে যাওয়ার পর। তারা নিজদের ভূমি ত্যাগ করে অন্যান্য স্থানে গিয়ে স্থানীয়দের পরাজিত করলো আর নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করলো। আর্যরা যে অত্যন্ত চিন্তাশীল এবং যুদ্ধবাজ ছিল, সেটাও অস্বীকার করা যায় না।
আর্যরা যখন তাদের নিজেদের দেশে আদিম অবস্থায় ছিল, তারা চাষবাস করতো, মেষ পালন করতো। কিন্তু মিশরের তখনকার সভ্যতা উন্নত ছিল তুলনামূলক। অবশ্য এই তত্ত্বের সঙ্গে অনেকের দ্বিমত রয়েছে এবং উনাদের কাছেও অনেক প্রমাণ ও যুক্তি আছে। এই আর্যজাতির ভারতবর্ষে আগমনের তত্ত্ব অনেকেই মানেন না। ভারতবর্ষ থেকেই সম্পূর্ণ সংস্কৃতির উদ্ভব এবং বিকশের তত্ত্বে উনারা বিশ্বাসী। আমি আপাতত আর্য আগামনের তত্ত্ব ধরেই লেখার চেষ্টা করছি।
মিশর আর মেসোপটেমিয়ার লোকেরা গাধা ও গোরুকে প্রথম পোষ মানায় তাই এটা বলাই যায় যে গোরু পালন তাদের থেকেই আর্যজাতির মধ্যে বিস্তার লাভ করে। গোরুর আদিম শব্দ সংস্কৃত গো আদিম মেসোপটেমিয়ার ভাষা হতে এসেছে। তবে ঘোড়ার সংস্পর্শে আগে এসেছে আর্যরা। আর ঘোড়াকে আগে পোষ মানিয়েছে বলেই, তারা দূরবর্তী স্থানে সহজে যেতে পেরেছে আর যুদ্ধের ক্ষেত্রেও রথ নির্মাণ জাতীয় ব্যাপারে এগিয়ে থেকেছে।
ধীরে ধীরে আর্যরা বুদ্ধিমত্তা, শক্তি এবং শ্রমের মাধ্যমে ভারী হয়ে পড়লো অন্যান্য সকল সভ্যতার উপর। তবে ভারতবর্ষে দ্রাবিড়দের সংস্কৃতি সম্পূর্ণ মুছে না গিয়ে বরং আর্যদের সংস্কৃতি ও মতের সঙ্গে মিশে একটা নতুন বিশ্বাস অথবা জাতির জন্ম দিল। হিন্দু জাতি।
অনেকেই হয়তো তাদের প্রভাব মিটিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছে। কিছুটা সফলও হয়েছে। তবে জ্ঞানের আলো, সম্পূর্ণ মেটানো কি সম্ভব!
এতো সংক্ষিপ্তভাবে কোন ধারণাই নিখুঁতভাবে দেয়া সম্ভব না। আমি পূর্ব পুরুষদের খোঁজ শুরু করার পথের সামান্য আলোকপাত করেছি মাত্র!

সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জুন, ২০২১ সকাল ১১:০৬
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জুলাই বিপ্লব নাকি জুলাই CDI?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১:২৯



আমি মনে করি জুলাই বিপ্লবের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ সাধারণ জনগণ। যাদের মধ্যে দেশপ্রেম, মায়-মমতা আছে, যারা অন্যায়-অবিচার দেখলে প্রতিবাদ করেন, তারাই এই আন্দোলনের মূল শক্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুসলমানের সন্তানের নাম জিকো কীভাবে হতে পারে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১:৫৫


ছোটো মামার মুখে একটা নাম প্রায়ই শুনতাম, জিকো। তখন বুঝতাম না এটা কে, শুধু জানতাম এই মানুষটা নাকি ফুটবল মাঠে জাদু দেখাতেন। পরে জেনেছি তার আসল নাম আর্থার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাতৃভূমিকে ছোট করে প্রতিবেশী দেশকে মহান দেখানোর উদ্দেশ্য কি?

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:২১



বহুদিন ব্লগে ঘোরাঘুরি করা হয় না। গত সপ্তাহে কি মনে হলো, ভাবলাম একটু ঘোরাঘুরি করি। তো ঘুরতে ঘুরতে কিছু পোষ্ট পড়লাম; কিছু মন্তব্যও নজরে আসলো, বিশেষভাবে দুইটা মন্তব্য।... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ নিত্য তোমার অন্বেষণে

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:২২

জানি,
তুমি ছড়িয়ে আছো চতুর্দিকেই,
তবুও,
মন খারাপে তাকাই আমি আকাশপানেই
দিনে তাকাই, রাতেও তাকাই,
আলোয় তাকাই , কালোয় তাকাই,
তাকাই মানে তোমায় খুঁজি,
খুঁজতে খুঁজতে চোখ বুঁজি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

এদেরকে না রুখলে চড়া মূল্য দিতে হবে

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৬



মাহবুব আজিজ, আনিস আলমগীর, সোমা ইসলাম, শাওন, মঞ্জুরুল পান্না, শম্পা রেজা, কালচারাল ফ্যাসিস্ট ফরিদুর রেজা শাইখ সিরাজ এদেরকে এখনই বন্ধ করতে হবে না হলে বাংলাদেশকে চড়া মূল্য দিতে হবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×