ব্যাক্তিগত কোন চিন্তা না লিখে, আমাদের পূর্ব পুরুষদের সভ্যতার শুরুর ইতিহাসটি, আপাতত যেভাবে বর্ণিত আছে, সেভাবেই উল্লেখ করছি। আর্যজাতি এখানে এসে স্থানীয়দের বর্ণনা দিল বর্বর ও নিচু শ্রেণির হিসেবে। স্থানীয় অষ্ট্রিক ও দ্রাবিড়দের সংস্কৃতি এবং বাকি সবকিছুই মুছে যেতে লাগলো। আর্যদের দেবতাদের নিয়ে বেদ, পুরাণ সহ অন্যান্য জিনিস রচিত হল। আর্য পুরুষদের ইতিহাস নিয়েই রচিত হল রামায়ণ আর মহাভারত।
অনার্য শব্দটি শুধু যারা আর্য নন তাদের জন্যেই ব্যবহৃত হতো না এটা তুলনামূলক অধমদেরই বুঝাতো। আর্যদের একক প্রভাবের আরেকটা উল্লেখযোগ্য নিদর্শন হচ্ছে সকল বইয়ে সংস্কৃত ভাষার প্রভাব। কারণ এর পূর্বে অবশ্যই অন্য ভাষা ছিল যা সংস্কৃতের প্রভাবে ভারতবর্ষ থেকে বিলীন হয়ে গেছে অথবা এটাও বলা যায় মিশে গেছে কিছুটা সংস্কৃতের সঙ্গে। সংস্কৃত অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাষা এটা কেউ অস্বীকার করবে না। তবে আর্যদের রাজনৈতিক প্রভাব যে তাদের ভাষাকে বিস্তারিত করেছে, এটাই সত্য। দ্রাবিড়দের মধ্যে যে ভাষাগুলো প্রচলিত ছিল এর মধ্যে উল্লেখ করা যায় তামিল ভাষার নাম। যারা নিজস্বতা নিয়ে আজও টিকে আছে। আছে তাদের বিশাল সাহিত্য ভাণ্ডার সহ বর্তমান সময়ে সিনেমায় আধিপত্য।
এখন থেকে পাচ হাজার বছর আগে মধ্য বা পূর্ব ইউরোপের কোন একটা অংশে অথবা উড়াল পর্বতের দক্ষিণে সমতল ভূভাগে আদি ইন্দো-ইউরোপীয় বা আর্যজাতির উদ্ভব হয়। নিজেদের দেশে তারা খুব উচুস্তরে যেতে পারে নি। তাদের বিকাশ হয়েছেই অন্যান্য স্থানে যাওয়ার পর। তারা নিজদের ভূমি ত্যাগ করে অন্যান্য স্থানে গিয়ে স্থানীয়দের পরাজিত করলো আর নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করলো। আর্যরা যে অত্যন্ত চিন্তাশীল এবং যুদ্ধবাজ ছিল, সেটাও অস্বীকার করা যায় না।
আর্যরা যখন তাদের নিজেদের দেশে আদিম অবস্থায় ছিল, তারা চাষবাস করতো, মেষ পালন করতো। কিন্তু মিশরের তখনকার সভ্যতা উন্নত ছিল তুলনামূলক। অবশ্য এই তত্ত্বের সঙ্গে অনেকের দ্বিমত রয়েছে এবং উনাদের কাছেও অনেক প্রমাণ ও যুক্তি আছে। এই আর্যজাতির ভারতবর্ষে আগমনের তত্ত্ব অনেকেই মানেন না। ভারতবর্ষ থেকেই সম্পূর্ণ সংস্কৃতির উদ্ভব এবং বিকশের তত্ত্বে উনারা বিশ্বাসী। আমি আপাতত আর্য আগামনের তত্ত্ব ধরেই লেখার চেষ্টা করছি।
মিশর আর মেসোপটেমিয়ার লোকেরা গাধা ও গোরুকে প্রথম পোষ মানায় তাই এটা বলাই যায় যে গোরু পালন তাদের থেকেই আর্যজাতির মধ্যে বিস্তার লাভ করে। গোরুর আদিম শব্দ সংস্কৃত গো আদিম মেসোপটেমিয়ার ভাষা হতে এসেছে। তবে ঘোড়ার সংস্পর্শে আগে এসেছে আর্যরা। আর ঘোড়াকে আগে পোষ মানিয়েছে বলেই, তারা দূরবর্তী স্থানে সহজে যেতে পেরেছে আর যুদ্ধের ক্ষেত্রেও রথ নির্মাণ জাতীয় ব্যাপারে এগিয়ে থেকেছে।
ধীরে ধীরে আর্যরা বুদ্ধিমত্তা, শক্তি এবং শ্রমের মাধ্যমে ভারী হয়ে পড়লো অন্যান্য সকল সভ্যতার উপর। তবে ভারতবর্ষে দ্রাবিড়দের সংস্কৃতি সম্পূর্ণ মুছে না গিয়ে বরং আর্যদের সংস্কৃতি ও মতের সঙ্গে মিশে একটা নতুন বিশ্বাস অথবা জাতির জন্ম দিল। হিন্দু জাতি।
অনেকেই হয়তো তাদের প্রভাব মিটিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছে। কিছুটা সফলও হয়েছে। তবে জ্ঞানের আলো, সম্পূর্ণ মেটানো কি সম্ভব!
এতো সংক্ষিপ্তভাবে কোন ধারণাই নিখুঁতভাবে দেয়া সম্ভব না। আমি পূর্ব পুরুষদের খোঁজ শুরু করার পথের সামান্য আলোকপাত করেছি মাত্র!

সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জুন, ২০২১ সকাল ১১:০৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


