somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চল্লিশ বছর বন্ধ ভুতুড়ে রেল স্টেশন বেগুনকোদর

২৩ শে জুলাই, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সন্ধ্যের পর অন্ধকারের মধ্যে আজও একাকী দাঁড়িয়ে থাকে ভূতের স্টেশন বেগুনকোদর। স্থানীয় লোকজনের কাছে ভূত স্টেশন নামেই পরিচিত। কেন? সে এক গল্প।
সুবিশাল স্টেশন। পাকা ইমারতের স্টেশন বিল্ডিং, রেল কোয়ার্টার্স। একসময় নাকি স্টেশন লাগোয়া বড় বাজারও ছিল। এখন সে সবই অতীত।



রেললাইনের ধারে সারা রাত হানাবাড়ির মত পড়ে থাকে পুরুলিয়ার জেলার কোটশীলার বেগুনকোদর স্টেশন।
এক সময় থামত সব প্যাসেঞ্জার ট্রেন। তারপর হঠাৎ কী সব হয়ে গেল। শোনা যায়, একদিন মধ্যরাতে স্টেশন মাস্টার ও তাঁর স্ত্রী খুন হন ওখানে। পরে স্টেশনের পাতকুয়োর মধ্যে থেকে উদ্ধার করা হয় মৃতদেহ। সেই থেকেই নাকি অশরীরী কার্যকলাপের শুরু।রাতারাতি পালিয়ে গেলেন সব রেলকর্মী। বন্ধ হয়ে গেল ট্রেন থামা। ধীরে ধীরে খণ্ডহরে পরিণত হল গোটা এলাকা। শুধু মূর্তিমান বিভীষিকার মত দাঁড়িয়ে রইল বড় পাকা স্টেশন বিল্ডিংটা। রাতে নাকি সেখানে খেলা করে নানা আলো। শোনা যায় আত্মাদের ফিসফাস।রাত বাড়লেই বাতাসে কেমন সন্দেহজনক গন্ধ, কারা যেন ফিসফিসিয়ে কথা কয়৷ দিনদুপুরেও স্বস্তি নেই৷ সুনসান স্টেশনটায় কাদের যেন পায়ের শব্দ, কে যেন গা ঘেঁষে চলে যায়৷ পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়ের গা ঘেঁষে বেগুনকোদর স্টেশন ঘিরে এমন গা ছমছমে গল্প বহু পুরোনো৷ ইন্টারনেট খুললেই চোখে পড়বে সারা বিশ্বে ভুতুড়ে স্টেশনগুলির মধ্যে একেবারে পয়লা নম্বরে রয়েছে পুরুলিয়ার অখ্যাত এই স্টেশনের নাম৷ ভূতের ভয়েই ১৯৬৭ সাল থেকে টানা চার দশক এই স্টেশনে কোনও ট্রেন চলেনি৷ কোনও রেলকর্মী ভুলেও ওই স্টেশনে পা দিতেন না৷



এর পর সুবর্ণরেখা দিয়ে বয়ে গিয়েছে অনেক জল। পঞ্চাশ বছর পরে ২০০৯ সালে আবার খোলে বেগুনকোদর স্টেশন। তবে তা শুধু প্যাসেঞ্জার হল্ট হিসেবে। পুরনো স্টেশন বিল্ডিংটাকেই রঙ করে খুলে দেওয়া হয়।
অদ্ভুতুড়ে কাণ্ড ঘটা এই বেগুনকোদরের কাছেই কোটশিলা থানার বড়তেলিয়া গ্রাম৷গত ২৫ ডিসেম্বর (২০১৫) থেকে নয় নয় করে প্রায় ৬০-৬৫ বার আগুন লেগেছে এই গ্রামে৷ কেন? তার ব্যাখ্যা নেই গ্রামবাসীদের কাছে৷ শুকনো আশ্বাসের বেশি কিছু দিতে পারেনি প্রশাসনও৷ আগুন লাগার কারণ জানতে না পেরে রীতিমতো আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন গ্রামবাসীরাও৷ রাতে সজাগ থাকতে হচ্ছে প্রতিটি পরিবারকে৷ তবে কি অলৌকিক কিছু ঘটে চলেছে? আজ থেকে পাঁচ দশক আগে বেগুনকোদর যে ভুল করেছিল তা কিন্ত্ত করছে না বড়তেলিয়া৷

বড়তেলিয়ার কাছাকাছি গঞ্জ বলতে বেগুনকোদর৷ হাট-বাজার, স্কুল-কাছারি সবই এখানে৷ সেখানে মানুষের মনে রেল নিয়ে ভূতের ভয় ছাড়াতে দীর্ঘ দিন ধরে সক্রিয় ছিলেন বাঁকুড়ার প্রাক্তন সিপিএম সাংসদ বাসুদেব আচারিয়া৷ দীর্ঘদিন রেলের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান থাকাকালীন তিনি এই রেলপথ চালু করার চেষ্টা করেন৷ তাঁর কথায়, 'ভূতের ভয় বাজে কথা৷ গ্রাম থেকে অনেক দূরের ওই স্টেশনে একটাই ট্রেন চলত৷ সে জন্য কেউ ওখানে কাজ করতে চাইত না৷ ওরাই এ সব ভূতের গল্প রটায়৷ তবে বড়তেলিয়ার ঘটনাটা আমা জানা নেই৷"

প্রায় চল্লিশ বছর বন্ধ থাকার পর ২০০৯ সালে বেগুনকোদরে ফের ট্রেন চলা শুরু হয় তত্‍কালীন রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৌজন্যে৷


তাহলে কি এখন আর ভুতুড়ে স্টেশন নয় বেগুনকোদর? বর্তমান ছবি তো সেকথা বলছে না। এখনও সন্ধ্যার পর স্টেশন বিল্ডিংয়ের ত্রিসীমানায় দেখতে পাওয়া যায় না কোনও গ্রামবাসীকে। বিকেল ৫.৫০ নাগাদ এই স্টেশনে থামে রাঁচি-চন্দ্রপুরা-ধানবাদ প্যাসেঞ্জার। এর পর আর কোনও ট্রেনের স্টপেজই দেওয়া হয়নি এখানে। নেই কোনও রেলের স্থায়ী কর্মী। সন্ধের পরে আর কেউ আসেন না এখানে।
তাহলে কি বলছেন,যাবেন নাকি একবার বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর রেলস্টেশন,বেগুনকোদরে ?



তথ্য - ইন্টারনেট ও লোকমুখ
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জুলাই, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:৪৫
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×