সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে ডিসেম্বর, ২০০৬ ভোর ৪:৫১
প্রথম জবাই করার স্মৃতি
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
কয়েক বছর ধরেই ভাইয়া আর আম্মু বলছিলেন, সুজন, তুই আমাদের কুরবানি জবাই করবি। আমিও বীর দর্পে 'ঠিক আছে' বলি। ঈদের দু'চারদিন আগ থেকে মসজিদের ইমামের কাছে দোয়াগুলাও শিখে নিই। কিন্তু ঈদের দিন ধারালো চাকুটা হাতে নিয়ে আর সাহস হয় না গরুর গলায় বসাতে। কেমন জানি মায়া মায়া লাগে। শেষমেষ বড় ভাইকে বলি, ইন্টারমিডিয়েট পাশ করার পর জবাই করবো। যে বছল ইন্টারমিডিয়েট পাশ করলাম সে বছর কুরবানির ঈদের আগে ভাইয়া বললেন, কি রে ইন্টার পাশ মৌলানা, এবার তো চাকু ধরবি, নাকি? আমার সাহসে কুলায় না। বললাম, ভার্সিটিতে ভর্তি হই। ভার্সিটিতে ভর্তির পর আবার ভাইয়ার আহবান জবাইয়ে। আমি আবারো ফেল। বললাম, একটু সিনিয়র হয়ে নিই। তাছাড়া আমাদের মসজিদের ইমাম হুজুরের তো একটা হক আছে। জবাই করলে বেচারা কিছু সম্মানীও পাবে। এই বলে বলে ক'বছর কাটালেও গত ঈদে আর ভাইয়া ছাড়লেন না। আমিও আর 'না' বলার দলে থাকতে চাইলাম না। দোয়া-দরুদ শিখে নিলাম ভালো করে। ঈদের দিন নামাজ পড়ে এসে চাকুর ধারটা পরখ করে নিলাম। ভাইয়াকে বললাম, লোকজন রেডি করো। সবাই হাজির। আগে থেকে ঠিক করে নিয়েছি গরুটার চোখের দিকে তাকাবো না। তাকালেই মায়া লাগে। দড়ি দিয়ে পাড়ার লোকজন গরুটাকে পেড়ে ফেললো মাটিতে। আমিও দোয়া পড়ে সোজা চাকুটা বসিয়ে দিলাম জায়গামত। ঝর্ণার বেগে রক্ত ছুটছে। আশপাশের সবার মুখে আল্লাহু আকবার ধ্বনি। আমি শরীরের সব শক্তি প্রয়োগ করে চালিয়ে যাচ্ছি চাকু। দেখতে দেখতে জবাই শেষ। জবাইয়ের মূহুর্তটা আমি যেনো আমি ছিলাম না। কোথা থেকে যেনো আজানা এক শক্তি এসে যোগ দিয়েছিলো আমার সঙ্গে। তারপর রক্তমাখা চাকুটার দিকে তাকাতেই সেই শক্তি যেনো আরো বেশি হলো। তাড়াতাড়ি ধুয়ে ফেললাম চাকুটা। বেশি শক্তি থাকা ভালো না। কিন্তু ধুইয়ে ফেললে কী হবে, পাড়ায় খবর রটে গেছে সুজন জবাই করতে শিখে গেছে। সুতরাং, ইমাম হুজুরের জন্য অপেক্ষা না করে সবাই এসে আমাকে টানাটানি করতে শুরুকরলো। আমিও প্রথশ জবাইয়ের অভিজ্ঞতায় বলীয়ান হয়ে জবাই করে ফেললাম পাড়ার আরো কয়েকটা গরু। এবারো ইচ্ছে আছে জবাইয়ের। ভাইয়াও সেদিন ফোন দিয়ে বললো, তোকে কিন্তু এবারো জবাই করতে হবে। আমি হেসে বললাম, ঠিক আছে। জানি না এবার আগের মতো সাহসটা কাজ করবে কি না।
১২টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
হারানো বিজ্ঞপ্তি

অত্যন্ত দুঃখ ও ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানানো যাচ্ছে যে, গত প্রায় দুই বছর যাবৎ বিবেক, বুদ্ধি, জ্ঞান, বিচার ও বিবেচনা - এই পাঁচজনকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। একসময় তাঁরা... ...বাকিটুকু পড়ুন
মার্কিন মাটিতে ‘আত্মঘাতী ভুল’- নাকি বদলে যাচ্ছে হিসাব?

মার্কিন মাটিতে ‘আত্মঘাতী ভুল’- নাকি বদলে যাচ্ছে হিসাব?
শেখ হাসিনা কি ফিরবেন?
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কখনো কখনো একটি বৈঠকের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে- কোন বৈঠকটি হলো, কোনটি হলো না এবং কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন
সংখ্যা গরিষ্ঠ মুসলিম হিসেবে গর্ব করার কিছু নেই......
আমরা যারা আপাত দৃষ্টিতে হায়েনা নই কিন্তু নিরবে স্বচক্ষে হিন্দুদের সর্বনাশ দেখে যাচ্ছি তারা সবচেয়ে বেশি দায়ী। অথচ বাংলার হিন্দু, বাংলার খ্রীষ্টান, বাংলার বৌদ্ধ, বাংলার মুসলমান, আমরা সবাই বাঙ্গালী-এই বৈষম্যহীনতা... ...বাকিটুকু পড়ুন
অল্প একটু পাশে থেকো
আমাকে খুব বেশি কিছু দিতে হবে না,
এক মুঠো আকাশও নয়,
আচেনা কোনো বিকেলও নয়।
শুধু কখনো কখনো
আমার নির্জন ঘরের দরজায়
টোকা দিয়ে দাঁড়িয়ো, যেন বুঝতে পারি
ফুরিয়ে যাবার বেলা এখনো আসেনি ।
আমাকে প্রতিদিন মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন
মাইনকা চিপা

এখন পর্যন্ত জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল সিদ্ধান্ত ছিল প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে ঢাকা ছেড়ে বাড়িতে চলে আসা। যে সময়ে শ্রেণীকক্ষে কোমলমতি শিশুদের পাঠদান করার কথা, সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।