প্রেমে ব্যর্থ হয়ে হতাশায় যখন ডুবে ছিলাম তখন কাছের মানুষগুলো সহজ একটি উক্তি দিয়ে শান্তনা দিয়েছিল। অনেকেরই এটি জানা। লাভ লাইক এ বাস, ওয়ান ওয়াজ গন এনাদার উইল কাম। সহজ এই উক্তিটি আসলে সহজে মানা যায় না। তবে একটি সময় পর মানতে না পারা এই শব্দটিকেই অবাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে দেখি, কষ্ট আরো বাড়ে, হস্যকর একটি বাক্য মনে চলে আসে, আল্লাহ মই ফেল উপরে উঠে যায়, আর পারছি না।
দুবাইতে যখন ছিলাম, তখন আরো একটি বিষয় শিখেছি। চাকুরী যদি আরবী কোম্পানিতে হয় তাহলে অনেক বেতন। একই কাজ যদি বাংলাদেশী কোম্পানিতে হয়, বেতন অর্ধেক। কেন জানেন, বাংলাদেশীরা হিসাব করে বাংলাদেশী টাকায় তাকে কত টাকা বেতন দিলাম। আর আরবীরা মনে করে তার দেশের টাকায় কত বেতন দেয়া হয়েছে। দুবাইতে ছিলাম আজমানে। সেখানে চলাচলের একমাত্র পন্থা হচ্ছে ট্যাক্সি। ২০ মিনিটের একটি পথ পাড়ি দিতে যানযট ছাড়া বিল হতো ১৬ দিরহারম। এখন যে লোক মাসে ৫ হাজার দিরহাম বেতন পান তার জন্য কি এই ১৬ দিরহাম কিছু? ফলে হিসাব হতো সহজে,বাঙ্গালী হিসাবে হাটার ভাল অভ্যাস আছে। কিন্ত ৫০ ডিগ্রি তাপমাত্রাতে হাটা, আর রাস্তার দুপাশে অফুরন্ত ছায়া যুক্ত চলাচলের পথ থাকলেও কেউ হাটে না। চোখ যত দূর যায় পথের দু তিনজন শ্রমিক ছাড়া কেউ নেই। ফলে ১৬ লাগুক আর ২০ দিরহাম লাগুক ট্যাক্সিই চলাচলের প্রধান মাধ্যম। দিরহাম ভেঙ্গে টাকায় আসি। বাংলাদেশ যে ব্যাক্তি ১ লাখ টাকা (৫ হাজার দিরহাম) বেতন পান তার জন্য কি পথে হাটা মানায়। আর তার জন্য ২০ মিনিটের পথ ৩২০ টাকা (১৬ দিরহাম) খরচ করাটা কষ্টের। এত প্যাক প্যাক কেন করলাম। নতুন ট্যাক্সি উদ্বোধন করার সময় সম্মানিত যোগাযোগ মন্ত্রী এই ট্যাক্সি ক্যাবগুলোকে লক্কর জক্কর বাসের সঙ্গে তুলনা করেছেন।ভাষ্য অনুযায়ী, লক্কর জক্কর বাসে যারা চড়ের তারা এখন এই সব ক্যাবে চড়বেন। কিসের মাঝে কি পান্না ভাতে ঘি।
আজকের ২৪-০৪-২০১৪ তারিখে প্রথম আলো স্পষ্ট খবর: পান্থপথ থেকে শাহবাগ ভাড়া ২৬৩ টাকা ৫০ পয়সা (১৩ দিরহাম)। বাংলাদেশে থেকে দুবাইয়ের দিরহাম গুনে খরচ করবো তা কখনও ভাবিনি। কোথায় বালুর মাঝে সোনার খনি আর কোথায় খনি ফেলে দৌড়া দৌড়ি। ভাই যা ভাবছিলাম তা আর লিখতে পারছি না। এজন্য সরি। বলার বাকি শুধু, আল্লাহ মই ফেল, উপরে উঠে যায়---
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে এপ্রিল, ২০১৪ বিকাল ৫:০২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



