আমাদের দেশে সরকারী চাকুরীতে লিখিত এবং ভাইভা পরিক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে যোগদানের শুরুতেই সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত তরুণদের ১-২ বছরের প্রবেশনারি পিরিয়ডে রাখা হয়। বলা হয়, এই সময় একজন একজন সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা/কর্মচারীর দক্ষতা প্রমাণের সুযোগ দিয়ে তাকে চাকুরীতে স্থায়ী করা হবে । যদি সে কর্ম ক্ষেত্রে নিজের জ্ঞ্যান দিয়ে দক্ষতা প্রমান করতে পারে তাহলে তার চাকুরী স্থায়ী করা হবে অন্যথা নয় । এজন্য নিয়োগ প্রাপ্ত প্রবেশনারী চাকুরীজীবী যার অধীনে থাকবে তার সন্তুষ্টির উপর ভিত্তি করে স্থায়ী করা হবে !!! সমস্যার শুরু এখান থেকেই ।
একজন তরুন প্রবেশনারী অফিসার তার শৈশব থেকে ছাত্রত্বের শেষ দিনটি পর্যন্ত নিজেকে সৎ রেখে জীবিকা উপার্জনের যে সংকল্প শক্তভাবে লালন করত তা থেকে ধীরে ধীরে দূরে সরতে থাকে । কারন বসের অসন্তুষ্টি সবসময় তাড়া করে ফিরে তাকে । নিজের কর্মস্থলে সবাইকে সন্তুষ্ট রাখতে গিয়ে এক সময় বসের অনৈতিক চাহিদা পূরণ করার সাথে সাথে অধিনস্ত কর্মচারীদের অন্যায় দাবিও মেনে নিতে হয়। প্রবেশনারী অফিসারের মনে সবসময় একটা ভীতি কাজ করে যে, হয়ত কোন কর্মচারীর অন্যায় আবদার না রাখলে উপর মহলে ভুল বুঝিয়ে প্রতিশোধ নিতে পারে । এভাবে প্রবেশনারী পিরিয়ডে অন্যের অনায্য দাবি-দাওয়া মানতে গিয়ে একসময় সদ্য চাকুরী প্রাপ্তরা নিজেরাই অন্যায় অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে । ধীরে ধীরে সৎ ভাবে চলার যে দীর্ঘ দিনের লালিত স্বপ্ন তা বিলীন হতে থাকে । ফলে গতানুগতিক ঘুষ-দুর্নীতির বাইরে গিয়ে নিজেকে স্বচ্ছ ভাবে অফিস পরিচালনা করা অনেক দুরূহ হয়ে যায় ।
যদিও প্রবেশনারী পিরিয়ডের পর কাউকেই সাধারনত অযোগ্য ঘোষণা করা হয়না কিন্তু দীর্ঘদিন বেকার থাকার পর একজন মধ্যবিত্ত পরিবারের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্তের মাঝে ভীতি কাজ করে । অথচ চাকুরীর শুরু থেকে যদি স্থায়ী ভাবে নিয়োগ দেয়া হত তাহলে অনেক তরুন কর্মকর্তা এসব অন্যায়- অপকর্মের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান পুরো চাকুরী জীবন সৎ থেকে রাষ্ট্রের সেবা করে যেতে পারত । পরিবর্তন আসতে পারত বছরের পর বছর ধরে চলা আসা ঘুষ-দুর্নীতিতে জীর্ণশীর্ণ রাষ্ট্র ব্যবস্থায়।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ১১:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




