ঘটনাটা 19 তারিখের। আমাদের ক্যাম্পাসে "রুয়েট থিয়েটার" নামে নাটকের একটি সংগঠন আছে। এদের কোন ফান্ড নেই। নাটকের প্রতি ভালবাসার কারণে এরা নিজেরাই টাকা খরচ করে মাঝে মাঝে নাটক করে। বেশিরভাগ নাটকই সবার জন্য বিনামূল্যে উন্মুক্ত থাকে আর মাঝে মাঝে খরচ খুব বেশি হলে টিকিটের ব্যবস্থা করে, তাও মাত্র দশ টাকা। "রুয়েট থিয়েটার" এর যে সভাপতি (চঞ্চল) সে আমাদের খুবই কাছের একজন বন্ধু, খুবই মজার মানুষ এবং খুবই ভাল অভিনয় করে। ও যতক্ষণ আমাদের সাথে থাকে ততক্ষণ আমাদের মাতিয়ে রাখে। "মেড ইন বাংলাদেশ" দেখার পর থেকে 'শিল্পকলা'র অণুকরণে আমরা ওকে ডাকি 'নাট্যকলা'। যাইহোক মাসখানেক ধরে ওরা ওদের নতুন নাটকের রিহার্সেল করছে। শেষের দিকে এসে ওরা রাতেও রিহার্সেল করেছে। প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমতিও নিয়েছে 19 ফেব্রুয়ারি নাটক করবে আমাদের অডিটরিয়ামে। টিকিটও বিক্রি করা হয়ে গেছে। 19 তারিখ সকালে ছাত্র কল্যাণ পরিচালক ওদের ডেকে বললেন, "নাটক করা যাবে না। ডিসি অফিস থেকে নির্দেশ এসেছে কোন প্রকার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা যাবে না।" এরপর ওরা থানায়, ডিসি অফিসে পারমিশনের জন্য দৌড়াদৌড়ি করল কিন্তু কোন লাভ হল না। একমাস রিহার্সেল করার পর যদি নাটক হবার দিন সকালে কেউ শোনে যে নাটক করা যাবে না তাহলে তার মনের অবস্থা কিরকম হতে পারে? সবমসয় হাসিখুশি চঞ্চলের এই প্রথম মন খারাপ দেখলাম। আমরা কি সান্ত্বনা দিব, আমাদের মন খারাপ হয়ে গেল খবরটা শুনে। আর থিয়েটারের ছেলেরা যখন হলের রুমে রুমে গিয়ে টাকা ফেরত দিয়ে আসছিল তখন অনেকেই চোখের পানি সামলাতে পারছিল না। বর্তমান সরকারের অনেক কিছুই আমার খুবই ভাল লেগেছে কিন্তু সকল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধের ব্যাপারটা আমার ঠিক পছন্দ হয়নি। একথা ঠিক যে বেশিরভাগ সাংস্কৃতিক সংগঠন কোন কোন দলের সাথে প্রত্য বা পরোভাবে জড়িত। কিন্তু একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক সংগঠন "রুয়েট থিয়েটার" কেন তাদের নাটকটা করতে পারবে না?
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



