আমি নিশ্চিত জানি, একদিন তোরা সন্ত্রাসী হাত দিয়ে চেপে ধরবি আমার টুটি;
ফাঁসির দড়ি পেঁচিয়ে আড়ষ্ট করতে আসবি আমার কণ্ঠ।
আমি যাতে আর কোনদিন তোদের বিরুদ্ধে শ্লোগান দিতে না পারি-
আমি যাতে আর কোনদিন প্রতিবাদে সোচ্চার না হতে পারি।
আমার কণ্ঠ যাতে বারুদের মত ঝাঁঝালো শব্দের পরিবর্তে
তোদের চামচামি আর তৈলমর্দনের মসৃণ সঙ্গীতে বিভোর হয়।
আমি দিব্যদৃষ্টিতে দেখতে পাচ্ছি- তোদের উন্মাদ মিছিল তেড়ে আসছে আমার দিকে;
আমার ফাঁসি চেয়ে তোরা রাজপথ উত্তাল করছিস-
সচিবালয় ঘেরাও করছিস; পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে চম্পট দিচ্ছিস।
নিরাপরাধ মানুষের গায়ে ঢেলে দিচ্ছিস পেট্রোল বোমার বীভৎসতা
মহাসড়কের গাছ কেটে সৃষ্টি করছিস ব্যারিকেড।
আমি জানি, আমার কলম কেড়ে নিতে তোরা স্পেশাল টাস্কফোর্স গঠন করবি
আদালতে আমার জন্য একমাসের রিমান্ড আবেদন করবি; মঞ্জুরও হবে ।
জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নামে মিডিয়ার সামনেই চলবে নারকীয় অত্যাচার।
আমার কলমের শিকড় উপড়ে ফেলতে ভাড়া করবি ক্রেন; লণ্ডভণ্ড করে
ফেলবি আমার কবিতার শিরা ধমনী কলিজা পাকস্থলী।
তোদের এ যাবৎ ব্যবহৃত সমস্ত থেরাপি দিয়ে চেষ্টা করবি আমায় থামাতে।
ইলেকট্রিক শক, ওয়াটার থেরাপি, গরম ডিম থেরাপি- সবকিছু বিফল হবে।
আমার কলম আমি বেচবো না। আমার চোখ অন্ধ করে দিবে? দে।
আমার দুই হাত ভেঙ্গে পশ্চাতদেশ দিয়ে ঢুকিয়ে দিবি? দে।
আমাকে নির্বাসনে পাঠাবি? পাঠিয়ে দেখতে পারিস।
আমাকে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলাবি? তারপর? কান খুলে শুনে রাখ-
আমার কলম আমি বেচবো না। বেচবো না। বেচবো না।
না, কোনভাবেই সুমনের কণ্ঠের নিনাদ থামানো যাবেনা।
না, কোনভাবেই সুমন নিনাদের কলম দিয়ে প্রবাহিত কালির গতিপথ বদলানো যাবেনা ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



