কত সহস্রবার তোমার জন্য নিহত হলাম, অথচ কত নির্বিকারে তুমি
খবরের পাতায় অপরিচিত অজ্ঞাত পরিচয়ে নিহত যুবক কে এড়িয়ে গেলে!
একটিবার এলে না, মর্গে পরে থাকা অজ্ঞাত পরিচয় যুবক সনাক্তকরণে!
যুবকের পকেটে পাওয়া কাঁঠালচাঁপা ফুলগুলো তোমার গন্ধ বয়ে নিয়ে চলল ডাস্টবিনে!
মুঠোফোন ছিল রেকর্ড বিহীন, হয়ত সে শুধুই প্রেমময় গানেই স্মৃতিচারণ করত তোমার!
পুরো নতুন দুটো দশটাকার নোটসহ মানিব্যাগে ছিল পাসপোর্ট সাইজে তুমি, হাসিমুখে!
মৃত্যুশীতল ওই হাত মুখ ফুটে বলতে পারল না, হয়ত পারলে সে চিৎকার করে বলত
কত শত কবিতা সে লিখেছে তোমাকে নিয়ে, স্বাক্ষী পুরনো সেই ওয়েস্টপেপার বাস্কেট!
বন্ধ হয়ে যাওয়া চোখ গুলো জানালো না, কত স্বপ্নের বুনন ছিল সেখানে, তোমাকে ঘিরে!
একটানা ফ্ল্যাট হয়ে যাওয়া ইসিজি রিপোর্ট সাক্ষ্য দিচ্ছিল, পোষ্টমর্টেম এর আগেই, অজ্ঞাত যুবকের,
বুকের বামপাশে হৃদযন্ত্রের চালিকা শক্তি ছিলে তুমি, অথচ বরফের মত জমাট, নির্বাক, নির্লিপ্ত!
কিন্তু অজ্ঞাত পরিচয়ে নিহত যুবকের বেচেঁ থাকার প্রয়োজনীয় উষ্ণতা, আর্দ্রতা, ধমনীপ্রবাহ!
বেওয়ারিশ দাফনের আগে ভবিষ্যতে সনাক্তকরণের প্রয়োজনে তোলা শেষ ছবির পাশেই
স্থান নিল তোমার পাসপোর্ট সাইজের হাসিমুখ, একসাথে, পাশাপাশি, মৃত এবং জীবিত!
অবশেষে তারা পাশাপাশি হল, বহুদিনের জন্য, ধূলো পড়ে যাওয়া ফেলে রাখা ফাইলে!
তুমি জানলে না, মেমসাহেব!
অজ্ঞাত পরিচয়ে নিহত যুবক, সনাক্তকরণে তোমাকেই চেয়েছিল!
মেমসাহেব, তুমি খুনী!
চেয়ে দেখ, অজ্ঞাতের রক্তে ভরে গেছে তোমার কোমল দুটো হাত!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


