somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গণজাগরণ মঞ্চ কেন প্রয়োজন ছিল

০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ রাত ৯:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



২০১১ সালের ১৪ জুলাই ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে যারা মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছিল তাদের বিচার শুরু হয়। বিচার শুরু হবার পর থেকে দেশে একটি পক্ষ বিচারের বিরুদ্ধে অঘোষিত যুদ্ধ শুরু করেছিল। এ অঘোষিত যুদ্ধের যাবতীয় উস্কানিদাতা ছিল বিএনপি। শুধু স্বচ্ছ বিচারের দাবিই ছিল তাদের। এ স্বচ্ছ বিচারের দাবির মধ্যে ছিল বিএনপির সুদূর প্রসারি নীল নকশা। আর বিচারের বিরুদ্ধে সরাসরি মাঠে নেমেছিল মানবতাবিরোধী অপরাধী রাজাকারদের সংগঠন জামায়াত ইসলামি ও ছাত্র শিবির। হরতাল ও অবরোধের নামে নাশকতা-ভাঙচুর-অগ্নি সংযোগ, মানুষ পুড়িয়ে মারা থেকে শুরু করে তারা সব চেষ্টাই করেছে বিচারকে ঠেকাতে। এমনকি বিএনপির প্রচারণার বিরুদ্ধে সরকারেরও কোন উপায় ছিল না বিচারের প্রয়োজনীয়তা মানুষকে বোঝানোর। বিএনপি এমনভাবে বক্তৃতা-বিবৃতি দিয়ে যাচ্ছিল যেন আওয়ামী লীগ সরকার বিচার শুরু করেই আর একটা অপরাধ করে বসেছে। যেন বিএনপির সেই স্বচ্ছ বিচারের দাবি না মানলে আর একটি মানবতাবিরোধী অপরাধ হচ্ছে। বিএনপি ঠিক এভাবে এটা প্রতিষ্ঠিত করে যাচ্ছিল। বিশেষ করে জামায়াতের মুখপত্রের ভূমিকা পালন করেছিলেন- মির্জা ফখরুল। তিনিই সবচেয়ে স্বচ্ছ বিচারের দাবিতে সোচ্চার ছিলেন। সরকারের জন্য কোন সংগঠিত সমর্থন ছিল না। আমরা দেখেছি সাঈদীর রায় ঘোষণার পর দেশে কি অবস্থা হয়েছিল। তাকে চাঁদে দেখা গেছে- এ গুজব ছড়িয়ে পুলিশ আর সাইদীর ভক্তদের মুখোমুখি দাড় করিয়ে দিয়েছিল। তারা সাঈদীর ভক্তই হোক কিন্তু এতগুলো মানুষ মারা যাবার পর কোন প্রতিক্রিয়া হবে না- তা নয়। আর জামায়াত-শিবির সমানে পুলিশকে নির্মমভাবে পিটিয়েছে। হত্যাও করেছে। তারপর গত বছর -২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি মানবতাবিরোধী অপরাধী কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল যাবজ্জীবন জেল খাটার শাস্তি ঘোষণার পর ফুঁসে উঠেছিল শাহবাগের তরুণ সমাজ। যারা এখন সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের চেতনার বাতিঘর স্বরূপ।
এ কথা বলার একটাই কারণ বিচারটা শুরু হবার পর আমরা যদি জামায়াতের তা-বের কথা স্মরণ করি- অপরদিকে বিশাল একপক্ষ মানুষ যখন অসহায়ের মত তাদের তা-ব দেখছিল বা তা-বের শিকারে পরিণত হয়েছিল তখন শুধু কাদের মোল্লার ফাঁসির জন্যই নয় জামাতের আষ্ফালনের বিরুদ্ধে এ গণ জাগরণ ছিল অত্যন্ত জরুরি। জামাতের তা-বের কারণে মনে হয়েছিল এদেশে জামাত-শিবির ছাড়া আর কারও রাজত্ব নেই। অন্য যারা ছিলেন তাদের সবাইকে জামায়াত-শিবির জিম্মি করেছে। এমনকি এদেশের সচেতন মানুষের বিবেকও।
এর আগে আমরা মনে করতাম মুক্তিযুদ্ধের সব দায়-দায়িত্ব আওয়ামী লীগের। কিংবা শাহরিয়ার কবির, মুনতাসির মামুন, সুলতানা কামালসহ এ ধরনের কিছু মানুষের। রাজাকারদের বিচারের দাবিতে বাংলাদেশের মানুষকে সংগঠিত করেছিলেন শহীদ জননী জাহানারা ইমাম। এটাও অবাক বিষয়- ওই সংগঠনটি ছাড়া যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে অন্যরা সংগঠিত হবার দায় অনুভব করেছে খুব কমই।
কিন্তু সরাসরি মাঠে নেমে এভাবে তাদের বিরুদ্ধে ৪২ বছরে আর কেউ এমন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়নি। এটা যারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি যারা অনেকেই মাঠে নামার ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও পারেনি তাদের মানসিক শক্তি অনেক অনেক বাড়িয়েছে। এছাড়া যারা এখন একেবারেই শিশু-কিশোর তাদের জন্য একটা বার্তা পৌঁছে গেছে গণজাগরণ মঞ্চের শ্লোগান থেকে। এ আলোর মশালটা হাতে নিয়ে আমাদের আরও অনেক দূর এগোতে হবে। যাতে জামায়াত-শিবির এদেশটা গ্রাস করতে না পারে মিথ্যা ছড়িয়ে। এছাড়া দুঃসময়ে কিভাবে ঐক্যবদ্ধ হতে হয় তাও আমাদের শিখিয়েছে গণজাগরণ মঞ্চ।
জয়তু গণজাগরণ মঞ্চ। অভিনন্দন তাদেরকে যারা এ মঞ্চ গড়ে তুলেছেন, যারা এটার সঙ্গে যুক্ত থেকে অন্ধকারের বিরুদ্ধে লড়াই করে যাচ্ছেন।




০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

দেখা হবে যুদ্ধ ফুরোলে সন্ধের মাহফিলে;
দেখা হবে ঠিক চেনা রাস্তার অচেনা-অন্ত্যমিলে।
ছড়াব আবার শস্যের দানা দেশ থেকে মহাদেশে
মানুষই জেতে, খুঁজে নেয় আলো অন্ধকারের শেষে...

তোমার গল্পে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×