somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্বাধীন দেশের একটি তৃষ্নার্ত কন্ঠস্বর

১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


(ডিসেম্বরের একটি সত্য ঘটনা)

আনুমানিক ২০ বছর আগের ঘটনা।আমাদের বাসার সামনে একটি বড় মাঠ ছিল।আকর্ষনীয় মাঠটি ব্যবহৃত হতো খেলাধুলা, বিভিন্ন জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠান , সাংস্কৃতিকঅনুষ্ঠান ও এলাকার অন্যান্য কর্মকান্ডে। শীতের অনেক রাত পর্যন্ত ছেলেরা ব্যাডমিন্টন খেলতো। জাতীয় সঙ্গীত দিয়ে শুরু হত বিভিন্ন জাতীয় দিবসগুলো আর এই কাজটি করতেন মুলত এলাকার শিল্পীরাই।

এমনি এক ১৬ই ডিসেম্বরকে সামনে রেখে মাঠে চলছিল দেয়ালপত্রিকা প্রতীযগিতা এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড। মাঠটার বেশীর ভাগ অংশই বাসায় বসে দেখা যেত। বিকালে চা ,নাস্তা খেতে খেতে আমরা আমাদের দোতলা বাসার বড় জানালা দিয়ে তাকিয়ে থাকতাম মাঠটার দিকে।

শীতের কূয়াসাচ্ছন্ন সকাল। কেন জানি ঐদিন খুব সকালে ঘুম থেকে উঠলাম।বাসার সবাইকে একটু অন্যরকম মনে হচ্ছিল।জানালায় তাকাতেই দেখলাম ,মাঠটার ঠিক এক প্রান্তে পিচঢালা রাস্তার পাশে হালকা উচু একটু মাটির অংশ,তার ওপর একটি ১৭/১৮ বয়সের একটি মেয়ে মৃতদেহ পড়ে আছে ।

সালোয়ার ,কামিজ পরা মেয়েটিকে কোনভাবে ঢাকা হয়েছে তার ওড়না দিয়ে।বাসা থেকে এর বেশী বোঝা যাচ্ছিলনা।তার ওপর ঘিরে থাকা ২০/২৫
জন লোকজন ।যতই সময় যাচ্ছিল মেয়েটিকে ঘিরে থাকা লোকসংখা ততই
বাড়ছিল।সকাল ৯টায় পুলিশের একটা বড়ো ভ্যান এসে মৃতদেহ সরিয়ে নেয়।

ফজরের নামাজের সময় লোকজন যখন লোকজন মসজিদে যচ্ছিল,মেয়েটি নাকি
খুবই কাতর অবস্হায় তাদের ডাকছিল ঠিক সেখানে শুয়ে শুয়ে।অন্ধকারে কেউ কেউ তার কাছে যেতে অসম্মতি জানালেও একজন বৃদ্ধলোক তার কাছে যেতেই মেয়েটি কাতর কন্ঠে বলেছিল"বাবা একটু পানি দেবেন"। বৃদ্ধলোকটির বাসা দুরে বিধায় কোনভাবে তার পরিচিত এক বাসা থেকে পানি এনে পান করান। এর পর নামাজ
পরতে সবাই চলে যায়। ফিরে এসে মেয়েটিকে মৃত অবস্হায় পায়।

সকলের অপরিচিত মেয়েটির মৃতদেহ উত্তর ,দক্ষিন বরাবর মাথা ও পা ঘুরিয়ে আনার জন্য সাহায্য করেন তিন মহিলা।তাদের একজন আমাদের পরিচিত। তার কাছে থেকে দেখার বিবরন অনুযায়ী "মেয়েটির গলায় ছিল চেইন,কানে বালি ও আঙুলে আংটি।যা স্বর্নের হওয়া স্বত্বেও অক্ষত ছিল।মুখ ও শরীরের বিভিন্ন অংশে ছিল জমাট রক্ত ও আঘাতের চিহ্ন। উজ্জ্বল বর্নের লাবন্য মুখের মেয়েটির
পরনের কাপর ছিল উল্টো করে পরানো" ।

৬/৭ বছরের এই আমি আমার মাকে অনেকবার জিগাসা করেছিলাম "মেয়েটি কে?
কেন? কি হয়েছে?কেন মেয়েটির পরনের কাপর উল্টো করে পরান?
উত্তর না পাওয়া এই আমার অবস্হা এমন হয়েছিল অনেকদিন পর্যন্ত আমি ভোরবেলা জানালায় বসতে পারিনি।

সেই ডিসেম্বরে আমাদের মাঠের কোনো আয়োজন বন্ধ হয়নি। এমনকি হয়নি মেয়েটাকে নিয়ে কোন শোক সভা।

প্রতি ডিসেম্বরে অনেক চেষ্টা করেও ভুলতে পারিনা, বার বার আমার কানে বাজে স্বাধীন দেশের মাটিতে এই বিজয়ের মাসে পরে থাকা, সকলের এড়ানো ঐ মেয়েটার তৃষ্নার্ত কন্ঠস্বর।

সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:৪৭
১০টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনব প্রতারনা - ডিজিটাল প্রতারক

লিখেছেন শোভন শামস, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:১৮



একটি সাম্প্রতিক সত্য ঘটনা।
মোবাইল ফোনে কল আসল, একটা গোয়েন্দা সংস্থার ছবি এবং পদবী সহ। এই নাম্বার সেভ করা না, আননোন নাম্বার। ফোন ধরলাম। বলল আপনার এই নাম্বার ব্যবহার করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগে নিজেকে বদলে দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪১



"আমার স্বামী সংসারের কুটোটাও নাড়ান না। যেখানকার জিনিস সেখানে রাখেন না। মুজা খুলে ছুঁড়ে যেখানে সেখানে ফেলে দেন। নিজেকে পরিষ্কার রাখতে বারবার ভুল করেন! এতো বছর বিবাহিত জীবন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×