somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কবিতা (পর্ব - ১)

১৯ শে জুলাই, ২০১৫ সকাল ১০:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ পূর্ণিমা অপূর্ব গোল চাঁদ উঠেছে আকাশে। চাঁদের দিকে তাকিয়ে মনে হয় যেন যুগ যুগ ধরে বাস করছি এই পৃথিবীর বুকে। জানলার ধারে বসেএসবই ভাবছিল মনসিজ গাঙ্গুলী। কে এই মনসিজ তা এবার একটু দেখে নেওয়া যাক। গল্পে চরিত্র চিত্রন না হলে না কি গল্পের ভিত নড়বড় করে। তা একটু ভিত গড়বার চেষ্টা করি। মনসিজ গাঙ্গুলী ওরফে সিজ নেহাত ই সাদামাটা মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলে । তা এহেন সিজের জীবনে মাধ্যমিকে একটা অঘটন ঘটে যায়। ফিজিক্যাল সায়েন্স , লাইফ সায়েন্স আর ম্যাথম্যাটিকস এ লেটার পেয়েছিল সে। সাথে সর্বমোট নাম্বার ও ছিল সম্মানজনক। এই তিনটে চিঠিই ছিল তার জীবনে পাওয়া সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। অবশ্য তার থেকেও বেশী তার বাবা মায়ের কাছে। বেসরকারী সংস্থার সাধারণ কর্মী তার বাবার গর্ব কে দেখে! তিনি স্বগক্তি করেছিলন এবারে সবাই দেখবে আমার ছেলেও কোনো কোম্পানির চিফ ইঞ্জিনিয়ার হয়ে রাজত্ব করবে। সিজের মনে হয়েছিল কেন ইঞ্জিনিয়ার না হলে কি রাজত্ব করা যায় না? কবিরা রাজা হতে পারে না? তবে এসব প্রশ্ন সে তার বাবাকে করেনি। কারন তার বাবা অনেক আগেই তাঁ র স্বপ্নপূরনের চেষ্টা শুরু করে দিয়েছিলেন। সায়েন্স গ্রুপে দুটো করে টিচার রেখে ।আর সেই টিচাররাও বলতেন তোর মেধা আছে তোর হবে ।কিন্তু সে সব কথায় তেমন কোনো আনন্দ হতো না তার ।কারন সে চাইত তার লুকানো খাতার কবিতা পড়ে এমন কথা কেউ বলুক ।বাবা মা জানুক বা নাই জানুক সে তো জানত তার কবিতা লগ্নে জন্ম ।তবু এইসব চিঠিপত্র সেই বয়সে তার বুকেও কনফিডেন্সের এমন বিল্ডিং বানিয়েছিল যে তারও মনে হয়েছিল যে পড়াশুনাটা কোনো ব্যপার না ।দিব্যি ফাঁকি দিয়ে , লুকিয়ে কবিতা লিখেও গর্ব করার মতো রেজাল্ট বাগানো যায় ।তাই বাংলা কবিতার জয়যাত্রার মহান দায়িত্বটা তাকেই নিতে হল ।আর সবাই জানে কবিদের কাছে কবিতার প্রতিশব্দ প্রেম ।তাও আবার একতরফা , বুকে চিনচিনে ব্যথা মাখা , দেবদাস মার্কা প্রেম ।ফলাফল ছয় মাসে দুটো ডায়েরী কবিতায় ভরে গেল ।স্কুলের ফার্স্ট টার্মে যথাক্রমে অংকে পন্চাশ এ আট ফিজিক্সে দশ আর কেমিস্ট্রিতে পনেরো ।অতিরিক্ত বায়োলজি একফালি চাঁদ তুলেছিল তিরিশ নাম্বার দিয়ে ।তার বাবার চোখ ছানাবড়া হয়ে গিয়েছিল । কারন না জেনেই তিনি হিটলারি কায়দায় কেবল টি ভি আর ফোনের সবরকম কানেকসনকে নির্বাসিত করেছিলেন ।

তবে প্রেম বা কবিতার আঠা হল ফেভিকলের থেকেও জোড়াল । একবার যার গায়ে লাগে ইহজীবনে তার মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম ।
কিন্তু মৃত্যু আসন্ন হলে কমবেশি সবাই আধ্যাত্মিক হয় ।তাই টেস্ট পরীক্ষা যখন দরজায় কড়া নারছে তখন তার মনে হল ক্যল্কুলাস জিনিসটি কি ? খায় না মাথায় দেয় ?সায়েন্সের সুমেরু কুমেরু টাইপ সিলেবাসের দিকে তাকিয়ে তখন তার মাথা ভনভন করছে ।বিনা যুদ্ধে নাহি দিব প্রান –একথা স্মরণ করে সে দিনরাত এক করে পড়া শুরু করল ।

কিন্তু স্টেজে কি আর সব মেকাপ করা যায় ? তাই ফার্স্ট ডিভিশন জুটলেও অংক আর ফিজিক্সের অবস্থা ছিল খুবই খারাপ । এরপরেও তার বাবা দুঃসাহস সঞ্চয় করে জয়েন্টের রেজাল্টের দিকে তাকিয়ে থাকলেন । না সেখানেও তথৈবচ ! সরকারি কলেজের আশা তিনি করেননি কিন্তু বেসরকারীতেও করুন অবস্থা । তবু তিনি তার শেষ সম্বল দিয়েও ছেলেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ানোর কথা ভাবলেন । কিন্তু ইতিমধ্যে সিজের মন ঘোষণা করল ‘ওরে রবীন্দ্রনাথ কি আইনস্টাইন হওয়ার কথা ভেবেছিলেন ? নাকি কিটস অ্যাটমিক থিওরী নিয়ে মাথা ঘামিয়েছেন ? সেরকম তোর এজন্মও শুধু কবিতার জন্য ।তাই সেদিন সে তার বাবার কাছে গিয়ে বলেছিল “ আমি কবিতা লিখি বাবা । আরও লিখব । তুমি দেখো কবিতা লিখে কত নাম হবে আমার ।কবিরাও রাজা হতে পারে । তোমার ছেলেও একদিন অডি গাড়ি নিয়ে এপাড়ায় ঢুকবে । “
সেকথা শুনে তিনি চিৎকার করেননি । সে ক্ষমতা তার ছিল না ।তিনি শুধু শান্তভাবে বলেছিলেন ‘ আজকাল কি আর বই কেউ পড়ে ? তোর মধ্যে ট্যলেন্ট ছিল তাই চেস্টা করেছিলাম ।তুই ইচ্ছে করে সব নষ্ট করলি ।আজ বুঝতে পারছিস না কিন্তু একদিন পারবি ।‘

সেই মুহূর্তে তার মনে হয়েছিল ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার ছাড়াও যে বড় হোয়া যায় সে কথা সে প্রমান করে ছাড়বে । তবে তা বাবাকে বোঝাতে যায়নি । বাবাদের বোঝানো যায় না ।তাই কলেজে কেমিস্ট্রি অনার্স নিয়ে একটা দুর্দান্ত শুরু করল ।মনে মনে বলল যে জীবনের এই ইনিংসটা সে বাঁচাতে নামেনি , জিততে নেমেছে ।

যাক আবার ফিরে যাই শুরুতে যেখানে মনসিজ বসে চাঁদ দেখছিল ।তার এই নিস্পলক তাকিয়ে থাকার জন্য চাঁদও একটা অস্বস্তি শুরু করেছে । হঠাৎ মোবাইলের রিংটোনে সম্বিত ফেরে তার । স্ক্রিনে রোহিনীর ছবি ভেসে উঠছে ।………………………………………ক্রমশ

সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জুলাই, ২০১৫ সকাল ৯:২০
২৩টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিয়োগের রূপকথা

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩



মা বরাবরই পাতে ভাত কম নিতো , বলতো- ভাতে না-কি  বাত বাড়ে।
বিশেষ বিশেষ দিনে বাড়ি পোষা মোরগের ঝোল কিংবা রুই মাছের তরকারীর সবটুকু  আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দৃষ্টিকটু পোশাক ও দৃষ্টিকটু আচরণ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪



আপডেট - হাফপেন্ট আন্দোলন: ৩০/০৯/২০২৬
হাফপেন্ট পরে মেট্রো ট্রেন ও বাসে চলাচল বাংলাদেশের একটি নাগরিক চাহিদা হতে পারে। যেহেতু সমস্যা মেট্রোতে হয়েছে, আমি ধারণা করেছি বাংলাদেশে ফেসবুকে “হাফপেন্ট আন্দোলন” হওয়ার সম্ভবনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

কঠিনতম সব চ্যালেঞ্জের মুখে বিএনপির ভবিষ্যৎ কি অন্ধকার??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১০



বিএনপির সামনে অনেক কঠিন সব চ্যালেঞ্জ...

তাদের মোকাবেলা করতে হচ্ছে দ্বিমুখী বিরোধী-দলীয় রাজনীতি বা কর্মকাণ্ড (যেটা কিনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে আগে কখনো দেখা যায়নি)।

জামাত-এনসিপি যতই লীগের ফিরে আসার বিরুদ্ধে বিএনপির... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার নানা মরহুম শাহাবুদদীন মাহমুদ জায়গীরদার

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:২৫



আমার আম্মার সেঝ চাচা’র লেখা ‘My life is not mine’ বইটি পড়ছি। বইটিতে ‘মাইজম ভাই’ নামের একটি অধ্যায় আছে। এতে সেঝ নানা আমার নানার বিভিন্ন সত্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যু পেরিয়ে আবার ব্লগে------

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০৬




প্রায় ০৩ মাস হয়ে গেলো ব্লগে আসনা হয় না, আসা হয়না মানে লিখা হয়না। প্রিয়জনের মৃত্যু শোক কাটিয়ে ব্লগে উকি দেওয়া হয় কিন্তু পোস্ট দেওয়া হয় না।


গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×