somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আলোকের এই ঝর্ণা ধারায় ......

১০ ই নভেম্বর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




একটা উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই আরেকটা এসে গেল ।কয়েকদিন ধরেই হোটাস অ্যাপে শুভেচ্ছার বন্যা ভেসে আসছে । আজও সকাল থেকে শুরু হয়ে গেছে ।আজ দীপাবলি ।আলোর উৎসব ।কথিত আছে চোদ্দো বছর বনবাস যাপনপর্ব শেষে শ্রীরাম, সীতা ও লক্ষ্মণের সঙ্গে অযোধ্যায় ফিরেছিলেন। আর তাই সমস্ত অযোধ্যা নগরী সেজে উঠেছিল দীপের আলোয় । যার সুচনা আজ থেকেই শুরু হয়ে গেছে ।কাল ছিল ভূতচতুর্দর্শী । এ দিন বাড়িতে চোদ্দ পুরুষের উদ্দেশে চোদ্দ মাটির পিদিম জ্বালাতে হয় ।সাথে রান্নার তালিকায় অবশ্যই থাকার কথা চোদ্দ শাক । যদিও এখন মাটির পিদিমএর জায়গায় এসেছে মোমবাতি বা মোমের প্রদীপ ।আর চোদ্দ শাক এর ট্র্যাডিশনও অবলুপ্ত প্রায় । কারন এই ব্যস্ত সময়ে অনেকেই শাক রান্নাটাকে একটু ঝামেলার বলেই মনে করেন ।তার উপর আবার বাজার থেকে আনা একগাদা পাতার মধ্যে থেকে চোদ্দটা শাক বেছে বের করা বেশ কঠিন কর্ম । আসলে শাকের নাম জিঞ্জাসা করা হলে কে জানে কজন পারবে তার উপর আবার সেগুলো চেনা । উফ ।সত্যি বলতে কি এ কাজটি আমি নিজেই পারব না ।যাক এবার আজকের কথায় আসি ।আজ আলো দিয়ে বাড়ি সাজাবেন বলে অনেকে অনেক আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছেন ।তবে আজকের দিনটাতেও প্রদীপের জায়গা নিয়েছে ইলেক্ট্রিকের টুনি আর তা দিয়ে তৈরী রকমারি আলো । সাথে আজ কালি পুজা ।আজ নানা বৈচিত্রের সমাহারে কালী মাতাকে আবাহন করা হয়—কারণ তিনি সনাতনী, কাত্যায়নী, মহামায়া, অপরাজিতা, চণ্ডী, কালী, শতাক্ষী, কৌশিকী, ভীমা, ভামরী, ভৈরবী, শাকম্ভরী, করালিনী, রক্তদন্তিকা, বিন্ধবাসিনী, দুর্গা।
শুভ শক্তির আরাধনা । আবার অলক্ষ্মী বিদায় করে লক্ষ্মীকে আবাহন করার দিনও আজ ।অর্থাৎ ভাল থাকার, শুভর আশ্বাসের জন্যই প্রার্থনা ।এই যে আমরা প্রদীপ জালাই তা ত অন্যের প্রতি শুভকামনা নিয়ে , শুধু ধর্মাচারনের জন্য নয় । তাই এটা উৎসব । সকলে সুখী হোক কথাটি বলবার মধ্যে যে সৌন্দর্য, তা-ও ধর্ম। কিন্তু ঘটনা হল, কিছু কিছু গোঁড়া বিগ্রহ কিন্তু কোনও বেনিয়মি বেআক্কিলে উপাসককে চান না। তাঁদের পূজার প্রবেশদ্বার নিয়মের নৈকট্য মেনে নিশ্ছিদ্র বন্ধ। যে ধর্ম সমাজকে প্রয়োজনীয় স্থিতাবস্থা দিয়েছে, সেই ধর্মই আবার ‘এটাই স্থিতাবস্থা’ বলে এমন নিগড়ে শেকলে বাঁধে যে, বাঁধাটাই বড় হয়ে পড়ে, নির্মম দাঁত-মেলে- দেওয়া, নখ-ছিরকুটি হয়ে পড়ে, ভাল থাকাটা নয়। এই-ই ঠিক, এ ভাবেই ভাল থাকতে হবে ঘোষণা করে টুঁটি-টেপা যে ধর্মীয় নিয়ম, তা একা-মানুষের ব্যক্তিগত থাকা ও সকলের সঙ্গে থাকা, দু’ক্ষেত্রের মানবাধিকারই বারবার খর্ব ও ক্ষুণ্ণ করে। ধর্ম কী, ধর্মীয় সত্যই বা কী, কোন পথে ঈশ্বরকে পাওয়া যাবে, তুই ভুল আমি ঠিক, কারণ দ্যাখ আমি তত্ত্বটা এ ভাবে বুঝি আর এ হেন যুক্তিতে পর পর সাজিয়েছি, নে এ বার তুই তোর দান দে এতে একটা ধর্মের মধ্যে ও বিভিন্ন ধর্মে দর্শনে জ্ঞানে আলোচনার পথ খুলে যায়। কিন্তু ব্যাপারটা তো এ রকম তর্কের স্তরে থাকে না। ‘আমিই এক মাত্র সত্য’ যখন বলতে চায় ধর্ম, তখন অন্যের অন্য জ্ঞান-ঈশ্বরচিন্তা-সমাজবোধ সবটুকুই থেঁতলে নিশ্চিহ্ন করে দিতে চায়।অনেকে আবার এই ভেবে খুশি থাকেন যে , ‘ওদের’ ধর্ম হিংস্র। ওরাই প্রতিস্পর্ধী স্বর, ব্যক্তিক বা ধর্মীয় গোষ্ঠীর, স্তব্ধ করে দেয়। তখন বোধহয় তারা কিছু কথা ভুলে যান বা ভুলে যেতে চান ।অন্য জাতে বিয়ে করায়, অন্য ধর্মে বিয়ে করায়, পরিবার যখন মেয়েটিকে খুন করে বা পঞ্চায়েত যখন হত্যা করে যুগলকে, তখন কোনও শাস্তর লাগে না ।রাজপুত ঠাকুর দলিত বস্তিতে আগুন লাগালে, দলিত মেয়ে বাগানের আম চুরি করে ফেললে তাকে বিবস্ত্র করে ঘোরালে, আর একটা কথা স্পষ্ট হয়। ধর্ম প্রতিষ্ঠান হলে যেমন হিংস্র, তেমনই আচার-বিচার সামাজিকতা হিসেবেও সমধিক হিংস্রতা দেখাতে পারে। ধর্মব্যবস্থা ও ধর্মীয় সামাজিকতা তখনই টুঁটি টিপে স্বাতন্ত্র্য পিষে মারে যখন তাকে ওই মর্যাদাটা দেওয়া হয়। আয়ারল্যান্ড-আফগানিস্তান না হয় ধর্ম-চিহ্নে চিহ্নিত সমাজ ও রাষ্ট্র। এই যে অনবরত ভোট সুরক্ষার জন্য সামাজিক গোষ্ঠীর বদলে একটি সম্প্রদায়কে ধর্মীয় গোষ্ঠী হিসেবে সুবিধে পাইয়ে দেওয়ার রাজনীতি, তা কি ওই গোষ্ঠীকে ধর্ম নামক প্রতিষ্ঠানের নিগড়গুলি ভাঙার ক্ষমতা দেবে? না কি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে পকেটে পকেটে তৈরি হবে এমন প্রতিষ্ঠান, যেখানে ধর্মভিত্তিক নিদান বিশ্বাসী বেঁচে থাকা বাড়বে? আর বাড়বে আগুন, তরবারি, কোমল হাতে পোঁতার নিষ্ঠুর পেরেক, নম্র মাথায় পরাবার কাঁটার মুকুট? উত্তর জানা নেই ।একদিন অযোধ্যাবাসীরা সীতাকে আবাহনের জন্য প্রদীপ জ্বালিয়ে ঘোর অমাবশ্যার রাতকে আলকিত করেছিল কিন্তু তাদের মনের প্রদীপ জ্বালাতে পারেনি । তাই সীতাকে প্রবেশ করতে হয়েছিল , পাতালের অন্ধকারে । জানিনা আমরা কবে মনের প্রদীপ জ্বালাতে পারব ?
কবে কবির সুরে গাইতে পারব --

আলোকের এই ঝর্নাধারায় ধুইয়ে দাও ।
আপনাকে এই লুকিয়ে-রাখা ধুলার ঢাকা
ধুইয়ে দাও ॥

( অনেকদিন পর লিখছি ।অগোছালোভাবে কিছু কথা মনে হল , লিখে ফেললাম , জানিনা কি হল । নিজগুনে ক্ষমা করবেন । সবাইকে দীপাবলির শুভকামনা । )
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই নভেম্বর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:২৬
১২টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এটাই কি সামুর প্রথম পোস্ট?

লিখেছেন অধীতি, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৩১


https://www.somewhereinblog.net/blog/deborah/9
২০১৩ সালের দিকে ঢাকায় আসি। তখন মাত্র মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ করেছি। ঢাকায় এসে যেই বিষয়টা নেশার মত হয়ে যায় তা হলো বিভিন্ন জায়গায় কম্পিউটার চালানোর জায়গা ছিল। ডেমরা রানী মহল... ...বাকিটুকু পড়ুন

পদ্মা ব্যারাজের ডিজাইনার : খাল বাবা স্বয়ং

লিখেছেন অপলক , ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১৮

আসন্ন বিসিএস পরীক্ষার কমন প্রশ্ন ফাঁস করে দিলাম। পদ্মা ব্যারাজের ডিজাইনার মহাপ্রতিভাবান খাম্বা/খাল বাবা। তিনি HSC ডিগ্রীধারী হলেও তার প্রতিভা আকাশচুম্বী। রবিঠাকুর বা নজরুলের সাথে তার কোন তুলনা হয় না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ ডেভেলপমেন্টে করণীয় কি?

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৬



গত কয়েক বছর ধরে সামহোয়্যারইন ব্লগ সহ দেশের সকল পত্রিকা ও টিভি চ্যানলে রাজনৈতিক লেখা বেশি আসছে যা সকলের কাছে ভালো লাগার বিষয় না। রাজনীতি ভালো লাগবে শুধুমাত্র জেনজি’দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফ্যাসিবাদ মোকাবেলায় এআই প্রশিক্ষণ দিচ্ছে সরকার

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৫৬


ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করা গেছে, কিন্তু পুরোপুরি নির্মূল করা যায়নি। অন্তত প্রযুক্তির দিকে তাকালে এমনটাই মনে হচ্ছে। যে আওয়ামী লীগ এতদিন মানুষের ভোট, মতামত, রাজপথ, রাষ্ট্রযন্ত্র সবকিছুর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা... ...বাকিটুকু পড়ুন

"টোকাই থেকে হিরো"

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৬



টোকাই থেকে হিরো! বাংলা ছবির  অশ্লীল যুগে মুক্তি পাওয়া এক ঢাকাইয়া চলচ্চিত্র। ছবিতে প্রেক্ষাপটে অনেকটা এইরকম - বস্তিতে বেড়ে উঠা; মানুষের লাথি- উষ্টা খেয়ে বড় হওয়া এক টোকাই (ছবির... ...বাকিটুকু পড়ুন

×