somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অতলান্ত জলরাশি

১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ সকাল ১০:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার প্রথম সমুদ্র -দেখা অস্ট্রেলিয়ায় । পড়াশুনার জন্য আমি তখন সেখানে ছিলাম । দুনর্ীতি, হতাশা আর নোংরা রাজনীতিতে ভরা বাংলাদেশকে বুকের মধ্যে নিয়ে আমি তখন অস্ট্রেলিয়ায় অস্তিত ্ব টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছি । সে অন্য কাহিনী, অন্যদিনের জন্য থাক । আজ সমুদ্র দেখার কথা বলি।

পেপারে একটা চাকুরীর বিজ্ঞাপন দেখে সেখানে যাব রেজ্যুমি দেবার জন্য । জায়গাটার নাম 'এ্যালটোনা'। আমি যেখানে থাকি (ফুটস্ ক্রে) সেখান থেকে এক ঘন্টার পথ । ম্যাপ দেখে স্টেশন, রাস্তা সব বের করে ট্রেনে উঠে বসলাম । ট্রেন চলছে । দু'পাশে দেখার মত কিছুই নেই । বাংলাদেশে যেমন ট্রেনে যাওয়া মানেই দু'পাশে চোখ জুড়োনো সবুজ গ্রাম, আর এখানে শুধুই ফাঁকা , রু ভূমি । মাঝে মাঝে স্টেশন আর তার চারপাশ জুড়ে শহরতলি । অবশ্য শহরতলি গুলো চোখ জুড়োনো । প্রতিটা বাড়ীতে টালির ছাদ, একতলা বা দোতলা । কাঠের নীচু প্রাচীর দিয়ে ঘেরা আর সামনে বাগান । ফুল আর রঙের প্রাচুর্য দেখার মত । ট্রেন প্রায় ত্রিশ মিনিট চলার পর হঠাৎ দেখি দূরে নীল রেখার মত কিছু দেখা যাচ্ছে, ফাঁকা প্রান্তরের দিগন্ত রেখায় । ম্যাপ দেখে বুঝিনি শহরটা সমুদ্রের এত কাছে ! আমি চম্কে উঠি ! ট্রেন যত এগুচ্ছে নীল রেখাটা ততই স্পষ্ট আর কাছাকাছি ! 'এ্যালটোনা' শহর শুরু হল, ছবির মতই বটে ! ট্রেন থেকে দেখা যাচ্ছে, সোজা লম্বা রাস্তা, প্রতিটা রাস্তা শেষ হয়েছে বালুকাবেলায় গিয়ে আর রাস্তার দু'পাশে লাল টালির ছাদের একতলা বাগান ওয়ালা বাড়ী ।

ট্রেন এ্যালটোনা-স্টেশনে থামল । ট্রেন থেকে নেমে, স্টেশন থেকে বেরিয়ে দেখি, আমি যে রাস্তাটায় দাঁড়িয়ে সেটার শেষ প্রান্তে সেই নীল রেখা, জীবন্ত আর স্পষ্ট ! কোন দিকে না তাকিয়ে হাঁটতে শুরু করলাম । যতই এগুচ্ছি ততই স্পষ্ট হচ্ছে 'তার' অস্তিত্ব । বাতাসটা অদ্ভুত সজীব । আমি এ্যালটোনা সমুদ্র সৈকতে এসে দাঁড়ালাম । আমার চোখ ভরে গেল জলে । ঝাপসা চোখে দাঁড়িয়ে রইলাম অকল্পনীয় বিশালতা আর সৌন্দর্যের সামনে । দেখতে দেখতে পানির রং পান্না সুবজ, আবার নীল, আবার কিছু অংশ সবুজ, কিছু অংশ নীল । পানির কিনারা ধরে হাঁটছে অনেকে। কিছু বুড়ো-বুড়ি বসে আছে কাঠের বেঞ্চে । একটা কালো কাঠের জেটি চলে গেছে সমুদ্রের ভেতর বহুদূর পর্যন্ত । জেটিটাতে উঠলাম, বাতাস মনে হচ্ছে আমাকে উল্টে ফেলে দেবে । জেটির শেষ মাথায় যখন পেঁৗছালাম তখন আমি যেন সমুদ্রের অনেকটা ভেতর দিকে ! বুক হিম করা গর্জন আর তীব্র জলের গন্ধ ! দু'টো লোক এই প্রচন্ড বাতাসের মধ্যে মাছ ধরছে, আমাকে দেখে হাত নাড়ল একজন, আমিও হাত নেড়ে হাসলাম, যদিও আমি তখন রীতিমত কাঁদছি । ুদ্র এই আমি দাঁড়িয়ে রইলাম সেই অতলান্ত জলের কাছে ।
আহ্ এত শূন্যতা কেন ! চুপি চুপি বললাম , আমার গণনাহীন শূন্যতার কাছে' তুমি' হেরে গেছো !

অনেকণ পর এক সময় ফিরে এলাম বীচ্-এ । ফুড-শপটা খুঁজে বের করলাম, যেখানে রেজ্যুমি দেবো । আমার রেজ্যুমি দেখে মিষ্টি হেসে মেয়েটা বলল - তোমার রেজ্যুমি রাখলাম, পরে আমরা যোগাযোগ করব ইন্টারভিউয়ের জন্য ।

দোকান থেকে বেরিয়ে রাস্তায় হাঁটলাম কিছুণ । সুন্দর সুন্দর সব বাড়ী । সব সুখী মানুষেরা থাকে সেখানে । আমার মত অসুখী মানুষের ফিরে যাওয়াই শ্রেয়ঃ । স্টেশনে ফিরে এলাম, একদম নির্জন, শুধু একটা টুকটুকে বুড়ি বসে আছে । আমাকে দেখে বলল - হ্যালো, চমৎকার সকাল , তাই না ? আমি উত্তর দিলাম - হঁ্যা, সত্যিই সকালটা খুব সুন্দর, জায়গাটাও । সে বলল - হঁ্যা, এ্যালটোনা খুব সুন্দর শহর এবং ধনীদের শহর - বলে সে একটা দীর্ঘঃশ্বাস ফেলে চুপ করে গেল ।

আমি ফিরতি ট্রেনে উঠে বসলাম ।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জাপান যেভাবে মাত্র ৭ বছরে অর্থনৈতিক পরাশক্তিতে পরিণত হয়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:২৭



জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হায়াতো ইকেদা ১৯৬০ সালের শেষভাগে তাঁর বিখ্যাত "ইনকাম ডাবলিং প্ল্যান" বা "আয় দ্বিগুণকরণ পরিকল্পনা" চালু করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো জাপানের অর্থনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাছে হেরে যাচ্ছি ০২

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৪


কাহিনীটা ৯০ এর দশকের শুরুতে। বুশ তখন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট- মার্কিনিদের আগ্রাসন চলছে তখন ইরাক জুড়ে। হাটে মাঠে ঘাটে আড্ডায় গল্প আলোচনা মিডিয়ায় এমনকি বাসর ঘরেও তখন নব পরিণীতার সাথে তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাতিসত্তার পরিচয়ের বাজার

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:২১

ইতিহাসে কোনো আদর্শ সত্যিকার অর্থে মরে না। সে শুধু নাম বদলায়, পরাজিত আদর্শেরও পুনর্জন্ম হয়।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে মুসলিম লীগ একটি আসনও পায়নি। কিন্তু সেই রাতে মুসলিম লীগ মরেনি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটা ছিলো সোনার কণ‍্যা, মেঘ বরন কেশ!!!!

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ ভোর ৬:১৩



শাওন প্রশ্ন করেছিলে ৭৮ বছর বয়স্ক একজন মহিলার। অন্তর্বাস উচিয়ে যখন অন্তর্জালে দাঁত মুখ খিচিয়ে উল্লসিত বহু পোস্টে ভেসে যায় ।কিংবা দেয়ালে সরাসরি দি লিখে প্রচার করছিলো তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘ছুটি’র স্মৃতি

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০

(প্রায় দু’মাস আগে লেখা। তখন গ্রীষ্মকাল হলেও ঢাকায় কয়েকদিন পরপর বৃষ্টি হতো। এখনকার মত “ঘাম ঝরে দরদর” ধরণের গরম ছিল না। রাতগুলো তুলনামূলকভাবে বেশ ঠাণ্ডা থাকতো।)

আজ খুব ভোরে (শেষরাতে)... ...বাকিটুকু পড়ুন

×