somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমরা কি আরো একটি বিশ্বযুদ্ধে মুখামুখ?

২৮ শে অক্টোবর, ২০১৫ রাত ৮:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



##দিন দিন আমাদের এই পৃথিবীটা খুব ভয়ংকর হয়ে উঠছে। আমেরিকা বা রাশিয়ার কাছে যে পরিমান পরমানু বোমা আছে তা দিয়ে এই গোটা পৃথিবীকে বহুবার ধংস করা যায়। আর এই দুই পরাশক্তির মধ্যে যখন অস্ত্রের মোহড়া চলে শুধু উদ্বেগ নয় মহা উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাড়ায়। আজ আমরা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের কতটা নিকটে তা নিয়ে আলোচনা করব। অনেক দিন ব্লগিং করা হয় না হাত-মাথা জড়িয়ে যাচ্ছে। তাই ভাঙ্গা ভাঙ্গা ও ছন্দপতনে লেখা শুরু করলাম, তাছাড়া কোন প্রকার গবেষণা ছাড়া নিজের সাধারণ জ্ঞানে লেখা ভুল ত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন আশা করি
## কোথা থেকে শুরু করব বুঝতে পারছি না। বর্তমান বিশ্বে সবচে, আলোচিত বিষয় সিরিয়া হলেও তা একমাত্র কারন নয়। গত কয়েকদিন ধরে সিরিয়ায় রাশিয়ার বিমান হামলা পরিস্থিতি বহুগুনে ঘোলাটে করে দিয়েছে। মোদ্দা কথা এখানে আমেরিকার একছত্র আধিপত্যে আঘাত হেনেছে যা বিশ্বযুদ্ধের অন্যতম প্রধান কারন হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে তেল সম্পদকে সামনে রেখে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার আমেরিকার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ।যুগ যুগ ধরে এই চিন্তা করে এলেও আফগানিস্তানের পর ইরাক হামলার মধ্যদিয়ে সেই সফলতা আসে ঠিকই কিন্তু এই আফগানিস্তান, ইরাক বা লিবিয়া আমেরিকার গলার কাটা হয়ে দাড়িয়েছে। এই এলাকা এখন জঙ্গী ও সন্ত্রাসের কার খানা। সাবেক সোভিয়েতকে পরাভূত করতে ওসামা বিন লাদেন ও তার জঙ্গী সংগঠন তৈরী করে আমেরিকা। প্রশিক্ষন ও অস্ত্র সব কিছু দেয়। জঙ্গিরা তার প্রতিদান দেয় টুইনটাওয়ারে হামলা করে। এবার অস্ত্র ও প্রশিক্ষন দিয়ে আইএস তৈরী করেছে আসাদ সরকারের পতনের জন্য। আই এস তার প্রতিদান দিতে ভোলে নি।
##একের পর এক যখন গণতন্ত্র রপ্তানির নামে তেল দখলের রাজনীতি করছে তখন সাবেক সুপার পাওয়ার রাশিয়ার পক্ষে আর বসে থাকে সম্ভাব হয়নি। শুধু তাই নয়, এসব দেশগুলো রাশিয়া পন্থি। তাই এদের পতন করা গেলে রাশিয়ার শক্তিও কমবে। অন্যদিক ইউক্রেনকে কেন্দ্র করে আমেরিকা ও ইউরোপের সাথে রাশিয়ার সম্পর্ক শীতলতম অবস্থায় পৌছেছে যা ঠান্ডা যুদ্ধ বা কোল্ড ওয়ার পরবর্তী শীতলতম। ন্যটোর বিশাল সামরিক মোহড়া, ন্যটো আক্রান্ত হলে দ্রুত সামরিক সহায়তার জন্য স্পেশাল ফোর্স গঠন, রাশিয়ার আশেপাশে ন্যটো ভুক্ত দেশগুলোতে সৈন্য ও সামরিক ভারি অস্ত্র মোতায়েন আরেকটি বিশ্ব যুদ্ধের ইঙ্গিত বহন করে। অতি সাম্প্রতিক রাশিয়ার সাথে ব্রিটেনের কুটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করা এ আশংক্ষা আরো বাড়িয়ে তুলছে। অন্যদিকে রাশিয়ার ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থা থেকে অনেকটা বেড়িয়ে এসেছে পুতিন সরকার যা একটি বড় ধরনের যুদ্ধে সাহস জোগাচ্ছে। অতি সহজে ক্রিমিয়া দখল ও ইউক্রেনের অন্যান্য এলাকায় রাশিয়া পন্থী প্রভাবে সরকারের আয়েত্তের বাইরে চলে গেছে। এ অবস্থায় যেমন ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ নিয়ে শংকিত একইভাবে অনেকেই মনে করে রাশিয়া তার সাবেক সোভিয়েতের দিকে ধাবিত হচ্ছে বিশেষ করে পশ্চিমারা মনে করে।
## এদিকে বিভিন্ন ইসুতে চাইনা-আমেরিকা সম্পর্কও বেশ শীতল, তাইওয়ানের স্বাধীনতা প্রশ্নে দীর্ঘ দিন ধরেই শীতল হয়ে আছে। চীন শত শত ভারী অস্ত্র তাইওয়ানের দিকে তাঁক করে রেখেছে। অন্যদিক তাইওয়ান প্রনালীতে (চীন-তাইওয়ান পৃথক করেছে যে প্রণালী) আমেরিকান রণতরী ঘুরাঘুরি করছে তাইওয়ানকে সেভ করার জন্য। এছাড়া বিভিন্ন দ্বীপ নিয়ে জাপান, ভীয়েতনাম, ফিলিপাইনসহ অন্যান্য দেশের সাথে রয়েছে শীতল সম্পর্ক। জাপান চীন মাঝে মাঝে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় চলে। আর এসব দেশগুলোকে আমেরিকা সহায়তা দিচ্ছে ফলশ্রুতিতে চীন আমেরিকা যুদ্ধ অবসম্ভাবী হয়ে উঠছে। একই সাথে এবং সময়ের প্রয়োজনে চীন রাশিয়া শীতল সম্পর্ক দিন দিন উষ্ণ হয়ে উঠছে। প্রায় প্রায়ই রাশিয়া বলছে চীন আমাদের সাথে আছে। জাতিসংঘের স্থায়ী সদস্য এদুদেশ ভেটো প্রদানসহ অন্যান্য কাজ একসাথে করতে দেখা যায়। বংলায় একটা প্রবাদ আছে, “শত্রুর শত্রু বন্ধু হয়” তাই চীন রাশিয়া বন্ধু হয়ে উঠছে।
## ইউরোপীয় ইউনিয়ন আমেরিকা ঘোড়নার হলেও সবাই যে আমেরিকার সাথে থাকবে তা কিন্তু নয়। ইউরোপের সবচে, শক্তিধর রাষ্ট্র জার্মানের সাথে রাশিয়ার বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বানিজ্য আছে। জার্মান সিংহ ভাগ গ্যাস আমদানি করে রাশিয়া থেকে, সম্পর্কও বেশ উষ্ণ। তাছাড়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ক্ষত এখন যায় নি জার্মানদের মন থেকে। তাই এই রাষ্ট্রটি রাশিয়ার সাথে থাকবে বলে মনে হয়। অন্যদিকে ফ্রান্সর অবস্থা বেশ নড়বড়ে, ইরাক যুদ্ধে বিরোধীতাকারী এদেশের অবস্থান কি হবে বলা মুশকিল। সুতরাং এই এলাকায় রাশিয়ার প্রথম টারগেট থাকবে ব্রিটেন তথা লন্ডন। যেমন ছিল হিটলারের। ওনি তো লন্ডনকে অক্ষশক্তির যুদ্ধের সদরদপ্তর করতে চেয়েছিলেন। আমেরিকার পরীক্ষিত বন্ধু ব্রিটেন। ন্যানসেল ম্যান্ডেলা টনি ব্লেয়ারকে বলেছিলেন, মি ব্লেয়ার ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রি নয়, আমেরিকার পররাষ্ট্র মন্ত্রী।
## আর মধ্যপ্রাচ্য? এটা বলার অপেক্ষা রাখে না আমেরিকার একমাত্র পুজি সিয়া-সুন্নির দ্বন্দ্ব। সৌদি আরবের নেত্রীত্বে সুন্নি, আর ইরানে নেত্রীত্বে সিয়া সম্প্রদায় জোট বেঁধেছে। আইএস কে অস্র ও প্রশিক্ষন সৌদি, কাতার, তুরুস্ক দিয়ে আসছে, আমেরিকা তো আছেই বলার অপেক্ষা রাখে না। অন্যদিকে সিয়া সম্প্রদয় ও রাশিয়া আসাদের হাত শক্তিশালী করছে। ইরাকও ইরানের দিকে ঝুঁকে যাচ্ছে। এই দ্বন্দ্ব এমন পর্যায়ে পৌছেছে যে, সৌদি সন্ত্রাসী রাষ্ট্র ইসরাইলের সাথেও সম্পর্ক করতে পিছপা হচ্ছে না। এখানে বলে রাখা প্রয়োজন, বিশ্বে যত বড় বড় সন্ত্রাসী ও জঙ্গী সংগঠন হয়েছে তা এখান থেকে এবং আমেরিকা ও তার বন্ধু রাষ্ট্রের হাত ধরে। তাই মধ্য প্রাচ্য আজকের এ রক্তের দায় আমেরিকা এড়াতে পারে না।
## পরিশেষে বলা যায় শীতল যুদ্ধো পরবর্তী সবচে খারাপ সময় অতিবাহিত করছে আজকের পৃথিবী। অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত এসব রাষ্ট্রসমুহের মধ্যে যদি একবার যুদ্ধ বেঁধে যায়, বিশ্বের যে কোন সম্প্রদায় বা রাষ্ট্র নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারে। নিশ্চিহ্ন হতে পারে গোটা পৃথিবী বা মানব সম্প্রদায়। এই যুদ্ধের ভয়াবহতা বুঝতে হবে বিশ্ব নেতাদের। একগুয়েমিতা সর্বনাশ ডেকে আনতে পারে। তাই একগুয়েমি নয় সহনশীলতার মাধ্যমে বাস্তবতা বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কোন রাষ্ট্র প্রধানকে জোর করে ক্ষমতা চ্যুত করে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয় ইরাক লিবিয়া তার জলন্ত প্রমান। সুতরাং বোধোদয় হোক বিশ্ব নেতাদের, শান্তি ফিরে আসুক এ বিশ্বে, সুখে থাক মানব সম্প্রদায়।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে অক্টোবর, ২০১৫ রাত ৮:৩২
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Ripe Age দুই প্রান্তের দুই মানুষঃ সামু শব্দের সেতু প্রজন্মের বন্ধন

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:২৪


একজন দাঁড়িয়ে জীবনের শুরুতে
চোখে তার অগণিত স্বপ্ন
আগামীর পথে কত প্রশ্ন
কত না-জানা, কত বিস্ময়
কত দূরের নীল আকাশ
ডাকে তাকে প্রতিদিন।

অন্যজন বসে জীবনের শেষে নয়
বরং দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আসা এক প্রান্তে
প্রায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও তার যতসব অপরাধ।।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১৫



আজ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বলতে গেলে সব মিডিয়াতে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ উঠেছে। উহা দুবাইয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, সিঙ্গাপুরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রেন টু কক্সবাজার: টিকিট পেলাম না, পেলাম বিকল্প পথের সন্ধান

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৭

কক্সবাজার যাওয়ার ইচ্ছে ছিল অনেক দিনের। তবে এবার লক্ষ্য ছিল একটু আলাদা—বাসে নয়, বিমানে নয়; ট্রেনের জানালায় চোখ রেখে সমুদ্রের শহরের পথে যাত্রা। কিন্তু সেই সহজ পরিকল্পনার প্রথম বাধাই হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহ কি বাঙালি মুসলমানের শত্রু?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৪


মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পাকিস্তানের স্বপ্নদ্রষ্টা বা পাকিস্তানের জাতির জনক। একজন বাংলাদেশী হয়ে পাকিস্তানের জাতির জনককে নিয়ে আলোচনা করলে কি গুনাহ হতে পারে কিংবা বড় ক্ষতি হতে পারে? বাংলাদেশে জিন্নাহর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেয়ার বাজারকে গতিশীল করতে স্টক ব্রোকারদের নিয়ে বৈঠকে বসছে ডিএসই আজ ১৪-০৯-২০২৬

লিখেছেন কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত), ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৭



বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে মন্দার কারণ ও প্রতিকার

ভূমিকা

একটি দেশের অর্থনীতিকে যদি একটি জীবন্ত দেহ হিসেবে কল্পনা করা হয়, তবে তার শেয়ারবাজার অনেকটা হৃদস্পন্দন ও তাপমাত্রা মাপার যন্ত্রের মতো। অর্থনীতির কোথায় প্রাণশক্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×