মা দিবসের ভাবনা গুলো থাকে ,
মধুর ম্ম্সৃতিচারন বা রত্নগর্ভা মায়েদের গল্পকথা শুনে কিন্ত এই করোনা মহামারীর যুগে
বোধহয় সবই বিবর্ন হতে চলছে ।

এমন কিছু চলমান ঘটনা :
ঘটনা =১
ছেলেটি একটি শপিং মলে চাকুরী করে বেতন তেমন কিছু নয়, মাস শেষে হাতে কিছুই থাকে না,
করনার এই মহামারীর চলমান সময়ে মা প্রচন্ড ব্যাথা নিয়ে বিছানায় শয্যা নিল , রোজার সময়ে তিনজনের
সংসার কি ভাবে চলবে ? মহল্লার যে ডাক্তার তার দেয়া ব্যবস্হাপত্রে কোন কাজ হচ্ছে না ।
পারিবারিক পরামর্শে প্রায় ১০ কিমি দুরে ডাক্তার দেখানো হলো, তারপর মামা কে ফোনে জানাল এখন কি করবে ?
ডাক্তার নিশ্চিত করেছে যক্ষা , বিপদজনক অবস্হায় আছে এখনই ভর্তি করতে হবে , কিন্ত কি ভাবে ?
চলমান করনার সময়ে কোন হাসপাতাল রুগি নিতে চায় না , যান চলাচল তো নাই; ম্বাভাবিক কোন কিছুই
আশা করা যায় না তদুপরি হাতে কোন টাকা নাই । লকডাউনের পর ঐ প্রতিষ্ঠান একদিনের জন্যও খুলে
নাই চাকুরী আছে কিনা জানে না, কোন বেতন পাবার ক্ষীনতম আশাও করা যাচ্ছে না ।বাড়ী ভাড়া ২মাসের বাকী
বাসায় খাবারের অভাব চলছে, চিকিৎসা জন্য আনুমানিক ২০,০০০,০০ টাকা লাগবে ।
এই মহামারীর সময় কোথায় মিলবে টাকা যা দিয়ে ছেলে তার একমাত্র আশার আলো মায়ের চিকিৎসা করাবে ?
আজ চারদিন হলো মা মহাখালী বক্ষব্যধী হাসপাতালে এডমিট নিয়েছে, ছেলে নিচে বিছানা পেতে ঘুমায়
আর চিন্তায় ভেঙ্গে পড়ছে কি করে চিকিৎসা ব্যয় নির্বাহ করবে, যার কাছে যোগাযোগ করছে সবারই
একই কথা এই করনা মহামারীর সময় কিছু করতে পারবেনা । সামাজিক দুরত্বর কারনে কোন আত্নীয় দেখা করার
কথা ভাবছে না ।
ঘটনা =২ :
নিউজিল্যান্ড একটি সুন্দর দেশ , ইতিমধ্যে করোনা নিয়ন্ত্রনে নিয়েছে । মা দিবসে ছেলের সকল চেষ্টা সত্বেও
মায়ের করোনা ভাইরাস চিকিৎসা কালীন আড়াইটার দিকে হাসপাতাল থেকে ফোন এলো। প্যালিয়েটিভ কেয়ার শুরু হয়েছে। ছেলে প্রার্থনা শুরু করল, যেন দ্রুত মা যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পান। ৫টা ২৫ মিনিটে নার্স ফোন দিল।
মিনিট পাঁচেক আগে মা চিরবিদায় নিয়েছেন।
পৃথিবীর দীর্ঘতম সপ্তাহ ফুরোল। একদিন হয়তো এই মহামারি শেষ হবে।
কিন্তু রেখে যাবে ভয়ংকর সব স্মৃতি।
আমার মায়ের স্মৃতির মতো। প্রতিদিনই শিকার হচ্ছে অসংখ্য মানুষ।
আমার মায়ের মতো। তোমাকে অনেক ভালোবাসি মা। (ইন্টারনেট ) ।
সদ্য মা হারানো শোকাতুর একজন সন্তানের তীব্র বিষাদ ও বেদনা ।
নিউজিল্যান্ড করোনা তথ্য : আক্রান্ত >১৪৯৪ , সুস্হ : ১৩৭১ , মৃত্যু : ২১ জন ।
ঘটনা =৩ :
পেশায় সাংবাদিক , একসময়ের তুখোর নেতা নারী আন্দোলন আর নারীর অধিকার নিয়ে, তিনি বিয়ে করলেন
একই পেশার এক সহকর্মীকে, দুজনের ইচ্ছায় গোপনীয়তা বজায় রেখে ।তারপর স্বামী মা অসুস্হ বলে বাড়ী গেলেন
এরপর খবর এলো স্বামী অন্যএক নারীকে বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে, স্ত্রী ছুটে গেলেন শশুর বাড়ী করনার এই মহা দুর্যোগে,
জানতে পারলেন যৌতুক দিতে পারলে এই বিয়ে টিকবে না হলে শশুরবাড়ী মানবে না , শাশুড়ী ভালো আছেন
তার কোন অসুস্হতা নেই ।
এই কষ্টদায়ক যন্ত্রনার সময়ে যাত্রার বিড়ন্বনায় অনাগত শিশুটি মারা গেল ।

পাদটীকা *** মা দিবসের প্রার্থনা , মায়েরা এমন অবস্হা থেকে যেন মুক্তি পায়, তাদের কেউ জংঙ্গলে ফেলে না আসে
আর বৃদ্ধ বয়সে বৃদ্ধাশ্রম না খুঁজে ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

