....................................................................................

দাদীর হাতের ভাতের সুবাস, তখন ছিলো সময় সেরা,
মাটির চুলার ওমে জড়ানো, মায়ায় মাখানো চারিপাশ ঘেরা।
সকাল সাঁঝেই ডাক পাড়তেন, "আয়রে খোকা, খাবি আয়,"
সেই ডাকের মধুর স্মৃতি, আজও মনে দোলা দেয়।
গরম ভাতে ঘিয়ের গন্ধ, কাঁচা মরিচ আর আলুভর্তা,
সেই স্বাদেরই কাছে হারায়, আজকের এই রাজকীয় কত্তা।
বাঁশের কুলায় চাল ঝাড়ার শব্দ, উঠোন জুড়ে রোদের খেলা,
দাদীর আঁচল ছুঁয়েই সেদিন, কেটে যেত সারা বেলা।
মনে পড়ে সেই শীতের সকাল, কুয়াশায় ঢাকা চারিপাশ,
চুলার পাড়ে উঁকি দিত, চাদর জড়ানো বারো মাস।
নতুন ধানের চালের গুঁড়োয়, দাদী বানাতেন ভাপা পিঠা,
খেঁজুর রসের শিউলি সুবাস, আহা কি যে ভারী মিঠা।
ক্ষীর ভরা সেই পাটিসাপটা, দাদীর হাতের যাদুর ছোঁয়া,
কড়াই থেকে নামতো যখন, মচমচে আর গরম ধোঁয়া।
চিতই পিঠার ওলট-পালট, আর হাঁসের মাংসের ঝোল,
পুলি পিঠার পুর ভরা মায়ায়, মনে উঠতো খুশির দোল।
আজকে আছে ডাইনিং টেবিল, হরেক পদের দামী খাবার,
দাদীর হাতের গভীর মায়া, যা ফিরে আসবে না আর।
ব্যস্ত শহরের দূষিত হাওয়ায় , হারিয়ে গেছে সেই পিঠার সুবাস,
স্মৃতির পাতায় বন্দি এখন, শৈশবের ঐ মুগ্ধকরা নীলাকাশ।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:৫৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


