somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফেলানী রোড - যৌক্তিকতা এবং অপ্রিয় সত্য

১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৩ দুপুর ২:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ফেলানি রোড নিয়ে উৎসাহের কমতি দেখছি না অনলাইনে। ব্যাপারটা ইউনিক তাতে সন্দেহ নেই তবে এই ইস্যুর শেষ টা দেখার ইচ্ছে মনে জাগছে। আমরা জাতগত ভাব হুজুগে জাতি। বিপুল বিক্রমে কাহিনী শুরু করি কিন্তু কয়েকদিন পর ভুলেই যাই কিসের জন্যে কি করছি? বেশি দুরে যাবার দরকার নেই, শাহাবাগ আন্দোলন তো সামনেই আছে।

যেই দাবী তে গর্জে উঠেছিল শাহাবাগ তার কি হাল? উত্তর সন্তোষজনক অবশ্যই না। তাও আমরা প্রায় ভুলে বসে আছি শাহাবাগ কে! আমরা খুব সহজে ভুলতেপারি যেকোন কিছু। আর ফলাফল তাই প্রায় শুন্য। যাক মূল কথা ফেলানীর বিষয়ে আসি।

গুলশানের একটি রাস্তা যার উপর ভারতীয় দূতাবাস অবস্থিত তার নাম ফেলানী রোড রাখার যৌক্তিকতা কতটুকু?- এই প্রশ্নের উত্তর জরুরী।

বাংলাদেশের উপর যেই দেশটির প্রভাব সবচাইতে বেশি সেটা ভারত। শক্তির বিচারে ভারত যেকোন মানদন্ডে বাংলাদেশের চাইতে বহুগুনে শ্রেয়তর। ইতিহাস ঘটলে স্পস্ট বোঝা যাবে ভারত কতটা গুরুতবপূর্ন আমাদের জন্যে।

সেই ভারত কে চটানো কতটুকু যৌক্তিক হবে? এটা চরম সত্যি ৭৫ এর পর ভারত আমাদের দিয়েছে যত তার চাইতে বেশি নিয়েছে। ইন্দিরা গান্ধির মত বাংলাদেশ অকৃত্তিম বন্ধু আমরা আর পাই নি ভারতের কাছ থেকে। আরো হাজারো অপ্রাপ্তি। সীমান্ত হত্যা, ছিটমহল সমস্যা, তিস্তা পানি বন্টন এর মত বড় বিষয় গুলি ভারত ঝুলিয়ে রেখেছে যুগ যুগ ধরে। আবার এর মাঝে সীমান্ত হত্যা সবচাইতে মর্মান্তিক এবং যুগপৎ ভাবে অপমানজনক।

আমরা দুর্বল দেশ তাই হয়তো এসবের শক্ত প্রতিবাদ করতে সাহস পাই না, তাই বলে কি এই অনাচার চলবে? অবশ্যই না। একদল তরুন ফেলানী হত্যার অন্যায় বিচারের ক্ষোভে একটি বিশেষ রাস্তার নাম বদলে হতভাগা কিশোরী ফেলানীর নামে রাখতে চাইছে যা অবশ্যই অন্যায় কিছু নয় তবে তা যদি হুজুগের বশে হয়? তাহলে কি হবে তা কি কেউ ভেবেছেন
ভারতের সাথে সম্পর্ক শীতল হলে ক্ষতি টা কার বেশি। দয়া করে হিসেব টা কষুন। যুদ্ধে জয়ীরাই ইতিহাস গড়ে পরাজিত রা নয়। রাস্তার নাম পরিবর্তন একরকম ভারতে বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনার মতই। তার চাইতে কি ভাল নয় আমাদের দেশের বাজারে ভারতীয় পন্যকে পর্যদুস্ত করে দেশি পন্যকে সামনে আনা? স্টার চ্যানেল গুলি কে বদলে নতুন করে টিউন করা। শাহারুখ খানের বদলে জলিলের মুভি দেখা? এয়ার টেল বাদ দিয়ে টেলিটক ব্যাবহার করা? এ তালিকা অনেক লম্বা। আর এর প্রতিটি থেকেই ভারত ব্যাবসা করে নির্মম ভাবে। ফেলানীদের আত্মা শান্তি এতেই খুজে পাবে। একটা সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে যদি মর্যাদা খুজে পাওয়া যেত তাহলে তো কথাই ছিলনা।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ খোকার অভিমান

লিখেছেন ইসিয়াক, ২০ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৬:৪৬


খোকা খাবে মুড়ি মুড়কি, মা দিলো খই
এই নিয়ে অশান্তি, ব্যাপক হই চই।

বাবা যাচ্ছে হাটে, খোকা পিছু ছোটে
বকা খেয়ে ঘরে ফিরে কাঁদছে মাথা খুঁটে। 

কত কাজই... ...বাকিটুকু পড়ুন

অপারেশন ইকারুস: বালির নীল গোলকধাঁধা

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২০ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:১২



কুয়ালালামপুর অপারেশনের ঠিক সাতদিন পর। ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপের ‘নগুরা রাই’ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যখন একটি প্রাইভেট চার্টার্ড বিমান ল্যান্ড করল, তখন বালির আকাশ জুড়ে গোধূলির রক্তিম আলো।

বিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

যদি কামের কাম না হয়, সংখ্যা দেখলে বিগাড় ওঠে

লিখেছেন অপলক , ২০ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:২২



বগুড়া জিয়াউর রহমান মেডিকেল বর্তমানে ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট। এতেই রুগিরা সেবা পায়না, অপরিচ্ছন্ন, লোকবল নেই, যন্ত্রাংশ নষ্ট, ওষূধ নেই, ১৫০০ শষ্যাবিশিষ্ট করে লাভ কি? সেবা নিশ্চিত হবে না...

এখন ডাক্তাররা... ...বাকিটুকু পড়ুন

তুমি কার জন্য বাঁচো? কীভাবে এ-আই দিয়ে কভার সং তৈরি করি?

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২০ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৩৩

প্রথমত, এ-আই দিয়ে গান তৈরি করা অনেক সহজ। আপনি নিজে কোনো লিরিক না লিখে, কোনো সুর তৈরি না করেও এ-আই-তে প্রম্পট দিয়েই গান তৈরি করে ফেলতে পারেন। তবে সেটা আপনার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পলাশবাড়ীর মূর্তি বিতর্ক, ধর্মীয় স্থাপনার আড়ালে কি অন্য কোনো নীলনকশা?

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ২০ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:১৪

সাম্প্রতিক ভূরাজনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার সমীকরণে হাইব্রিড ওয়ারফেয়ারবা অপ্রতিসম যুদ্ধকৌশল এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যার প্রধান লক্ষ্যবস্তু রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সামাজিক ফাটল ও অননুমোদিত কাঠামোর মাধ্যমে মানুষের মনস্তত্ত্ব নিয়ন্ত্রণ করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×