অণুগল্প
ওল্ডহোম
স্বীকৃতি প্রসাদ বড়ুয়া
অতীতের অনেক সুখস্মৃতি ও দুখস্মৃতি ভেসে আসছে আজ প্রকৃতির। স্ত্রী ছিল, এখন নেই। তিন তিনজন ছেলে থেকেও নেই। আজ জন্মদিনেও ছেলেদের পক্ষ থেকে কোন শুভেচ্ছা বা ভালোবাসার বার্তা নাই। তাহলে এই হলো জীবন। চাকরি বাকরি করো, বিয়ে করো, সন্তান জন্ম দাও, তাদের মানুষ করতে করতে বুড়ো হও, তারপর সন্তানদের একসময় ভিন্ন ভিন্ন বাসাবাড়ি হবে, সেখানে বৃদ্ধ বাবার কোন ঠাঁই হবেনা, এরপর অনুশোচনা, সুখের স্মৃতি চারণা করতে করতে একদিন ভবলীলা সাঙ্গকরে পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়া, এরই নাম তাহলে জীবন! প্রকৃতি নিজের সঙ্গে নিজেই এই কথাগুলো বলে যায়। ওল্ড হোমটি শহর থেকে একটু দূরে। আজ তার সমবয়সীরা মিলে প্রকৃতির জন্মদিন পালন করবে। কেক কেনা হলো, মোমবাতি। পোলাওমাংস রান্না করা হলো। সবাই এক হলো হ্যাপি বার্থ ডে বলে বুড়োরা মিলে কেক কেটে মোমবাতি জ্বালিয়ে নিভিয়ে পালন করা হচ্ছে জন্মদিন। এই আলো জ্বলা নেভার মধ্যেই প্রকৃতি একটি দিনের কথা মনে করে খুব কষ্ট পেল। সরকারি চাকরি থেকে অবসর নিলেও তার কাছে জমা ছিল প্রায় ষাট লাখ টাকার মতো। এটা একেবারে কম নয় একা মানুষের জন্য। তো একদিন প্রকৃতি তার তিন সন্তানকে কাছে ডেকে বলেছিল। আমার তো তোরা তিন ছেলে, আমার একটা ইচ্ছা তোদের কাছে বলি, আমার না ওল্ড হোমে আর ভালো লাগছে না, আমি তোদের কারো সঙ্গে বাকি জীবন টা কাটিয়ে দিতে চাই। এই কথায় তিন ছেলেরই মুখ গোমড়া হয়ে গেল, এবং তিনজনই তিন ধরণের গল্প বলে অপারগতা প্রকাশ করলো। অথচ অতীত দিনের বাবা মায়ের কষ্টের কথা একটুও মনে করলো না। মনে করলো না, তাদেরও বয়স হবে একদিন, প্রকৃতির নিয়মেই বৃদ্ধ হবে তারাও। উচিত শিক্ষা তারাও পাবে। বাস্তব, বড় কঠিন, আসলেই কঠিন ভাবে প্রকৃতি। তাহলে সারাজীবন যে শিক্ষা ছেলেমেয়েদের মা বাবা দেয়, তা থেকে ছেলে মেয়েরা কোন শিক্ষাই কি গ্রহণ করে না। বড় দের ভক্তি, মা বাবার প্রতি শ্রদ্ধা ভালোবাসা। এগুলো তাহলে সব বইয়ের কথা, শুধু কিছু কথার কথা........জীবন তাহলে কিছুই না, একমুঠো ধুলো!!!
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই নভেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:১৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


