অণুগল্প
গল্পটি বাসের
স্বীকৃতি প্রসাদ বড়ুয়া
প্রতিদিনের মতো আজও বাসে যাচ্ছি ভাতকপাল ঘরে মানে চাকরিস্থলে। ভিআইপি বাসের শেষের সিট এ দুজন ষাটোর্ধ্ব নারী পুরুষ দম্পতি। বেশভুষায় মনে হয় নিম্নমধ্যবিত্ত। ওই শেষসিটে আর কেউ নেই। আমি তাদের মুখমণ্ডল নিরক্ষণ করি কিছুক্ষণ, একটা সরল সরল মুখ, একটু দুখি দুখি ভাব আছে দুজনের চেহারায়। কিছুক্ষণ পরে দেখলাম একটা পোটলা থেকে পরটা ভাজি বের করে দুজন একটি পরটা ভাগ করে খাচ্ছেন। আহা শান্তিতে মন ভরে গেল। কাজের ভিড়ে হয়তো অবসর পাননি এই দম্পতি। আবার হোটেলে বসে যে খাবে সেই সময়টুকুও হয়তো তাঁদের নেই। হয়তো দুজনে কাজের খোঁজে যাচ্ছেন, অথবা তাদের ছেলেমেয়েরা কাছে নেই, অথবা এমনও হতে পারে তাদের ছেলেরা মধ্যপ্রাচ্যে আছেন, তাঁদের কাছে কেউ নেই। এরপর দেখি অন্য দৃশ্য একটি পনেরো থেকে ষোল বয়সের একটি ছেলে। একটু অন্যরকম ব্যক্তিত্বের এজন্য বললাম ছেলেটা ভালোমতে কথা বলতে পারে না, মুখ বেঁকে যাচ্ছে, আবার হাঁটতেও কষ্ট হচ্ছে। সে বিক্রী করছে একটি পেনসিল প্যাকেজ। তিনটি পেন্সিল, একটি কাটার ও একটি রাবার মোট ২০ টাকা। এই পাঁচটি জিনিস যে কোন দোকান থেকে কিনলে হয়তো ত্রিশ টাকার মতো লাগবে। কিন্তু অন্যরকম ছেলেটা বিক্রি করছে ২০টাকা। অনেকের মতো আমিও কিনলাম। যদিও আমার এগুলোর তেমন দরকার নেই। কিনলাম এই যুক্তিতে, এই একই ছেলেটি কোন কিছু বিক্রি না করেও টাকা চাইতে পারতো, বা ভিক্ষা করতে পারতো, কিন্তু জীবিকার জন্য সে এই হকার জীবন বেছে নিয়েছে। এটাকে একটা ক্ষুদ্র ব্যবসা মনে করে আমিও এর অংশীদার হলাম। হয়তো আমাদের সবার একটি একটি প্যাকেজ কেনার টাকা থেকে সে কিছু লাভ করবে, সংসার চলবে, মা বাবাকে নিয়ে সুখে থাকবে। কত বড়লোকই তো অন্যায়ভাবে, ধাপ্পা দিয়ে কত টাকা বাগিয়ে নিচ্ছে, অথচ আমরা তাই মেনে নিই, কিন্তু এই অন্যরকম ছেলেটির কাছ থেকে এক প্যাকেট পণ্য কিনতে অনেকের বাধে। এই দৃশ্য গুলো দেখে মনে হলো ‘আগে মানুষ মানুষকে ভালো বাসতো, কিংবা মানুষ মানুষের জন্য.......। জীবন কি তাহলে ভাসমান শ্যাওলার মতোন!!!
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই নভেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:২০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


