অণুগল্প
সিগারেট ছাড়ার ৩৬৫ দিন
স্বীকৃতি প্রসাদ বড়ুয়া
আগে একদিনে প্রায় ১০টি বেনসন লাগতো। ভালো মন্দ সব বিষয় শেষ বা শুরুর আগে সিগারেট এর এমন নেশা পেতো যেন মনে হতো এই মুহুর্তে সিগারেট এ টান না মারলে চলবে না। ভালো বাসতে যাবো সিগারেট লাগবে। সিনেমা দেখতে যাবো সিগারেট লাগবে। খাওয়ার পর সিগারেট লাগবে। একটি সুন্দর চিন্তা করছি সিগারেট লাগবে। ব্রেইন যেন সিগারেট ছাড়া কিছুই বোঝে না। সেই ইন্টারমিডিয়েট পাশের পর থেকে অনেক বছর সিগারেট চলতে লাগলো। সকাল, বিকাল, দুপুর, রাত সব সময়েই সিগারেট হয়ে গেল প্রাণের চেয়েও প্রিয়। দিনে দিনে চাকরি বাকরি হলো। বিয়ে করে সংসার হলো। ঘর আলো করে দু দুটো ফুটফুটে কন্যা সন্তান হলো। দুটোই এত ভালো, এত মজার, আমার জীবনটাই পাল্টে গেল। আর তাদের মায়ের কথা কি বলবো, সব সময় আমাকে বোঝাতো, তোমার এখন সিগারেট ছেড়ে দেয়া উচিত। এতে তোমার স্বাস্থ্য নষ্ট হচ্ছে, পয়সা নষ্ট হচ্ছে, মনমেজাজ খিটখিটে হয়ে যাচ্ছে, বাচ্চারাও তোমাকে পছন্দ করছে না। আমি এরপর অনেক চিন্তা ভাবনা করে অনেকদিনের প্রিয় সাথী আমার প্রাণের দোস্ত সিগারেট ভাইকে এক নতুন বছরের পয়লা জানুয়ারি ছেড়েই দিলাম। সেই থেকে অনেকবার তার কথা মনে পড়লেও বাচ্চাও বাচ্চার মায়ের কথা চিন্তা করে আর তার দিকে মুখ ফিরে তাকাইনি। এখন তাকে ছাড়ার বর্ষপূর্তি হতে যাচ্ছে। আগামী বছরের ১ জানুয়ারি বর্ষপূর্তি হবে আমার সিগারেট ছাড়ার। ওই দিন ঠিক করেছি তিনশো পঁয়ষট্টি দিনে সিগারেট বাবদ যে ৪২ হাজার টাকা বেচে গেল, তার থেকে দুই বাচ্চার জন্য দুটি সুন্দর ড্রেস, মায়ের জন্য একটি সুন্দর শাড়ি এবং আমার জন্য একটি সুন্দর পাঞ্জাবি কিনবো। আর যেই টাকা গুলো বেচে যাবে সেগুলো খরচ করবো কিছু খাওয়া দাওয়া এবং গরীব দুটো ছেলেকে পড়াশুনার কিছু খরচ দিয়ে। এ রকম সুন্দর স্বপ্ন দেখানোর জন্য আমার দুই মামনি ও তাদের মাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। ভালো থেকো ভালো কাজ।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই নভেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:২২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


