somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

”নাবিলা”

১৪ ই আগস্ট, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



মুখ ভরা হাসি আর আনন্দ নিয়ে সব সময় আমাদের সাথে থাকতো নাম তার ”নাবিলা” । আমার বন্ধুদের মাঝে সেই ছিলও হাসি খুশি , হাসি ছারা যেনো সে কথাই বলতেই পারতো না । অল্পতেই সে খুব খুশি থাকতো । আমরা যখন স্যার এর বাসাতে পড়তে যেতাম নাবিলা স্যার বাসাতে আনন্দ আর মজা নিয়ে পড়া পড়তো.....
পরীক্ষা শেষ স্যার এর বাসাতে আর যাওয়া হয় না । কোচিং এ যাদের সাথে পড়তাম প্রায় সবার সাথেই যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেলো । পরীক্ষার রেজাল্ট বের হবার পর স্যার এর বাসাতে দেখা করতে গেলাম সেখানে অনেকর সাথে দেখা হলোও , কয় এক জনের মোবাইল নম্বর নিলাম যোগাযোগ রাখার জন্য ।
আমার বরাবরি হাসিখুসি মানুষ দের ভাললাগতো , রাস্তায় চলার পথে যদি দেখতাম কেও মুখভরা হাসি নিয়ে কেও কথা বলছে বা হাসছে থেমে গিয়ে তা দেখতাম আর আরেকটা পাগলামি আমার মানুষ দেখতে ভাল লাগ তো সিলেটের চোহাট্টায় আমি প্রায় সময় বসে থাকতাম মানুষ দেখার জন্যও মিছিল হলে তো কথাই নাই যে মিছিল হক না কেন ঢুকে যেতাম তার ভিতর ।
আর সেই কারনে বুঝি নাবিলা কে মিস করতাম, হাসিভরা মুখ যেন আর দেখা হয় না নাবিলার মতো । কোচিং পড়া বন্ধুদের মাঝে উত্পি,তানজিনা,রাজু,শিমুল,জুবাই,নাদিম এদের সাথে যোগাযোগ ছিল এক দিন নাবিলা আমায় কল দিলো সেই হাসি ভরা মুখ যেন চোখের সামনে দেখতে পেলাম তার কথার মাঝে । সবার মতো তার সাথেও কথা চলতে থাকলো ।
আমি নাবিলাকে শয়তান বলে ডাকতাম কারন মোবাইলে যখন কথা বলতো শয়তানটা ফিসফিস করে কথা বলতো আমার সাথে । আমার শুধু মোবাইলে টাকাই নষ্ট হতো কিন্তু কথা বুঝতাম না প্রথম প্রথম আমি বলতাম “কিরে তুই কি খাটের নিচে বসে কথা বলছিস ” সে শুধু হাসতো । উত্পির কাছে যানতে পারি সে নাকি সবার সাথে এই ভাবে কথা বলে । সময়ের সাথে সাথে কথা বলার সময়টা পালটে রাতের বেলাতে কথা বলতে লাগলাম শয়তানটার সাথে এই সময়টা সে ঠিক ভাবে কথা বলতো ।
মাঝে মাঝে তার কথা শুনে আমি খুব অবাক হতাম রাতের ১২টা , ১টার সময় যখন কল করে বলতাম ”কিরে কি করিস ? সে বলতো “ কাজ করি । আমি হেসে বলি “এই রাতের বেলাতে কি করিস চুরি করিস নাকি ?? সে শুধু হাসতো । অনেক দিন ১২টার সময় বলতাম কিরে খেয়েছিস তুই ? বলতো এখনো খাইনি কিছু খন পরে খেতে বসবো আমি শুধু অবাক হতাম এতো রাতে না খেয়ে বসে আছে মেয়েটা কেন ? কিছু যানতে চাইলে শুধু হাসতো কিছু বলতো না তাই আমি কিছু যানতে চাইতাম না । একদিন নাবিলা কল করে আমার সাথে কথা বলতে লাগলো আমার কাছে কেন যানি মনে হতে লাগলো সে কানছে আমি কিছু না বুঝার ভান করে বললাম কিরে তোর কি মন খারাপ ? সে বলে আমার মন সব সময় খারাপ থাকে সকালে ঘুম থেকে উঠা থেকে শুরু হয় আর ঘুমানোর পর শেষ হয় । আমি কিছুই বুঝতে পারি না তারে বলি কি হযেছে বলতো ? কান্নার শব্দ শুনতে পাই । তোখন সে তার সব কথা আমায় বলতে থাকে---->
সে ছোট বেলা থেকে বড় হয়েছে দাদির কাছে সে দাদিকেই বেশি ভাল বাসে মায়ের পায়ের নিচে সে তার জান্নাত চায় না সে তার দাদি কাছে বলে তুমি তোমার পায়ের নিচে একটু যায়গা দিয়ো কারণ ছোট বেলা থেকে মা-বাবার আদোর কি সে যানে না । এখনো সে যানে না । যা ভালবাসা পেয়েছে সব দাদির কাছ থেকে এখন সে দাদির কাছ থেকে অনেক দুরে আছে মা-বাবার কাছে হটাৎ সে আমায় প্রশ্ন করে তোকে কি এখনো মারে এই বয়েসে আমি বলি না তো কেন ? সে বলে আমাকে এখনো মারে দিনে মা মারে রাতে আবার বাবা মারে । তার কথা শুনে আমার চোখে পানি এসে যায় । আমি যে তাকে কি বলে শান্তনা দিবো কিছুই বুঝতে পারছিলাম না । আমায় আবার বলে আমি কবেই মরে যেতাম যানিস,মাঝে মাঝে একটু ভালবাসে সেটার জন্য বেচে আছি আমি কোন সময় বাবার কাছে কিছুই চাইনি পরার জন্যও দামি কোন জামাও চাইনি, চাইবার মাঝে খালি চেয়েছি বই,খাতা,কলম এই সব । আবার সে কান্না করতে থাকে আমি চুপ করে ছিলাম কারণ বলার মতো কোন ভাষা ছিল না আমার কাছে ।
সে যে কেন সব সময় হাসি নিয়ে ঘুরে বেরাতো এখন বুঝি অল্পতে সে কেন এতো আনন্দ পেতো । বাসা থেকে বের হতে পারলে যেন খুলা আকাসের মত হয়েতো সে , সেখানে শুধু আনন্দ থাকে । যা নিয়ে সে ঘরে ফিরতে চায় । কষ্টটা অনেক রকম তাই না
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই আগস্ট, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:১৩
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তালেবান ও টিটিপি বিতর্ক: নূর আহমাদ নূরের ঢাকা সফর কি দিল্লির কোনো এজেন্ডা ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০১ লা জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৪৭


আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের ডামাডোলের মাঝে আফগান তালেবান সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তা নূর আহমাদ নূরের ঢাকা সফর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক ময়দানে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একদিকে যখন পশ্চিমা বিশ্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

ওয়াজী হুজুররা যত ফুলেফেঁপে উঠেছে, তত বিপন্ন ও নিরন্ন হয়েছে লোকশিল্পীরা

লিখেছেন মিশু মিলন, ০১ লা জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৩৭



ওয়াজী হুজুরদের একচ্ছত্র আয়-রোজগারের পথে বড় বাধা ছিল গ্রামীণ মেলা, যাত্রা, পুতুলনাচ, সার্কাস। কোনো এলাকায় এসব অনুষ্ঠিত হলে সেই এলাকার মানুষ ওয়াজ শুনতে যেত না। বিকেল থেকে মাইকে ডাকাডাকি করলেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইহকালে আল্লাহর ইবাদত না করলে পরকালে আল্লাহর ইবাদত করতেই হবে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০২ রা জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৭:২৭



সূরাঃ ৫১ যারিয়াত, ৫৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
৫৬। আমি জিন ও মানুষকে এ জন্য সৃষ্টি করেছি যে, তারা আমারই ইবাদত করবে।

* আল্লাহ মানুষকে ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন, সুতরাং তাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রমজান ও সিয়াম সাধনা: আধুনিক স্বাস্থ্য-বিজ্ঞানের আলোকে একটি সমন্বিত গবেষণা-বিশ্লেষণ, পর্ব-১

লিখেছেন নতুন নকিব, ০২ রা জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:২৭

রমজান ও সিয়াম সাধনা: আধুনিক স্বাস্থ্য-বিজ্ঞানের আলোকে একটি সমন্বিত গবেষণা-বিশ্লেষণ, পর্ব-১

ছবি, অন্তর্জাল থেকে সংগৃহিত।

ভূমিকা

রমজান মাসের ফরজ সিয়াম ইসলামের একটি মৌলিক ইবাদত। তবে সাম্প্রতিক দশকে এটি কেবল ধর্মীয় অনুশীলন হিসেবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয় কন্যা আমার- ৮৮

লিখেছেন রাজীব নুর, ০২ রা জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:১৬



প্রিয় কন্যা আমার-
আজ তোমার জন্মদিন। হ্যা আজ ৩১ ডিসেম্বর তোমার জন্মদিন। আজ বিশেষ একটি দিন! এবার জন্মদিনে তুমি আছো তোমার নানা বাড়ি। আমি আজ ভীষন ব্যস্ত।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×