somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একজন বন্ধু ও ভালোবাসার গল্প

২৫ শে মে, ২০১৪ বিকাল ৪:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পৃথিবীর সব বাবা মায়ের স্বপ্ন থাকে তার ছেলে/মেয়ে জীবনে থাকবে সুখে , থাকবে দুধে-ভাতে। তেমনি করে আমার বাবা-মা স্বপ্ন দেখেছিলো আমিও শিক্ষিত হয়ে থাকব সুখে। এজন্য শত কষ্টের মাঝেও তারা আমার পড়াশোনা বন্ধ না করে এইচএসসির পর উচ্চশিক্ষার জন্য ঢাকাতে পাঠানোর জন্য আমার চাচাদের সবাইকে অনুরোধ করতে করতে শেষ পর্যন্ত ছোট চাচার কাছ থেকে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি পেয়ে গেলেন। ফলে আমাকে ছোট চাচার বাসা তেজকুনীপাড়ায় পাঠালেন। ভাগ্যগুণে জগন্নাথে ভর্তিও হয়ে গেলাম। এখানেই পেলাম আমার সেই বন্ধুটির সান্নিধ্য। তার অকৃতিম ভালোবাসা ও সহমর্মিতা ।

প্রথম বর্ষে ভর্তি ও হলাম সেই সাথে চেষ্টা করতে থাকলাম একটা টিউশনি নামক সোনার হরিণ পাওয়ার চেষ্টায়। পেয়েও গেলাম ভাগ্যগুণে কিন্তু মাত্র এক হাজার টাকা তাও সপ্তাহে ছয় দিন পড়াতে হবে। রাজি হয়ে গেলাম।

এই টাকায় আমার সারা মাসের সম্বল, যা দিয়ে সারা মাসের বাস ভাড়া, পকেট খরচ, বই খাতা কেনা এবং ফটোকপি করতে হবে । তো যাইহোক এভাবেই চলছিলো কিন্তু বিপদ বাধলো যখন পরীক্ষার ফি ও বেতন দেওয়ার সময় হলো । লাগবে ২১০০ টাকা, ছোট চাচা দিলো ১০০০ টাকা, ল (তিন নম্বর ) চাচা ৫০০ টাকা কিন্তু এখনও দরকার ৬০০ টাকা । আমার কাছেও টাকা নেই আবার বাড়ী থেকে পাবো সে কল্পনাও বৃথা । কোন উপায় না পেয়ে চোখে অন্ধকার দেখছি, এভাবেই সময় শেষ যাচ্ছে. তো শেষ দিন মেহেদী বললো কবে ফ্রম ফিলাপ করবি ? আমি জানালাম যে টাকা ব্যবস্থা করতে পারিনি। ও কিছু বললো না । শুধু বলরো যে টাকা ব্যবস্থা হয়েছে সেটা আনিস। পরেরদিন তাই করলাম । ও আমার থেকে টাকা নিয়ে জমা দিয়ে আসলো । থখনো জানতাম না কিভাবে টাকার ব্যবস্থা হলো । কয়েকদিন পরে জানলাম মেহেদী ওর জমানো টাকা থেকে দিয়েছে। কিন্তু আমিতো জানতাম, ও বাড়ী থেকে মাত্র ১৫০০ টাকা নেয়। কিভাবে জমালো ....... আজও জানতে পারিনি।

দ্বিতীয় বর্ষে গিয়ে চাচার বাসায় খাওয় ও থাকা বাবদ কিছু টাকা দিতে হতো, তাই টিউশনির প্রায় সব টাকা শেষ হয়ে যেত । এর মাঝে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হওয়ায় বেতন ও অন্যান্য খরচ বেড়ে গেল । আর এদিকে প্রণপণ চেষ্টা করছি কুলিয়ে উঠার জন্য । এর মাঝে মা আবার অসুস্থ। তাই যে টাকা বাচত সবই বাড়ীতে দিয়ে দিতাম।

এভাবে দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষার ফি ও অন্যান্য খরচ বাবদ প্রায় ৫০০০ টাকার মত জমা দিতে হবে। দিলামও । কিন্তু এর পরেই আসলো আসল বিপদ । মা টেনিস এলবো এর ব্যথা ও ডায়াবেটিস এ খুব বেশী অসুস্থ হয়ে পড়লো । আমি কুষ্টিয়া তে চিকিৎসা করালাম কোন লাভ হলো না । ডাক্তার মাকে ঢাকার পপুলার মেডিকেলে ডাঃ তসলিম উদ্দিন সাহেবের কাছে পাঠালেন । কোন পূর্ব চিন্তা করেই ঢাকাতে নিয়ে আসতে বাধ্য হলাম । এ সময় আমার স্টুডেন্ট এর বাসা থেকে কিছু টাকা অগ্রিম নিলাম। কিন্তু এ টাকায় কিছুই হলো না । আমি মহা বিপদে পড়লাম ওদিকে মার মুখের দিকে তাকাতে পারি না । এর মধ্যে মেহেদী মাকে দেখতে এসে আমার অবস্থা জানতে পেরে বলরো চিন্তা করিস না ব্যবস্থা হবে।

পরদিন ও ৭০০০ টাকা আমার হাতে দিয়ে বললো নে খালার চিকিৎসা করা। আমি তো হতভম্ব , কি করবো বুঝতে পারছি না । এ সময় ও বললো তোর মা তো আমারও মা । আমার মা হলে কি তুই আমার জন্য কিছু করতিস না ? আমি কিছু বলতে পারলাম না । মায়ের চিকিৎসা করালাম। আমার মা এখন সুস্থ।
দোস্ত আমি আজীবন তোর উপকার শোধ করকত পারি পারব না।

আসলে লিখে তোর উপকার শেষ করা যাবে না। ভালো থাক দোস্ত ।



৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তোমার মুখের রেখা আঁকতে চেয়েছি।

লিখেছেন জায়েদ হোসাইন লাকী, ০৬ ই নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০



রাতটি ছিল নিকোটিনে ভেজা
ধোঁয়ার ভেতরে তোমার অবয়ব হঠাৎ উধাও হয়ে গেল
চাঁদ তখন লাল আর ঠিক আমার ফুসফুসের মতোই ক্লান্ত।
তুমি আলো হয়ে রইলে, আমি অবাধ্য আলোর ফসিল

আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ - ছোঁয়া

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০৬ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৭

আজ বৃষ্টি তাকে প্রথম ছুঁয়েছে। ওর স্পর্শে তার সমস্ত সত্তা যেন হীরের মত স্বচ্ছ স্ফটিকে ছেয়ে গেছে। বৃষ্টি বলেছে, সে আকাশের কাছে গিয়েছিল। মেঘের কাছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা কেন কওমী জননী হয়েছিলেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:২৯


আওয়ামী লীগ করেন এমন অনেক মানুষ বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তি বোধ করেন। শেখ হাসিনা কেন কওমি জননী উপাধি গ্রহণ করলেন? আসলে সবাই যা বলতে চান,আওয়ামী লীগের রাজনীতি তো এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×