somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পি‌রিয়ড এর সাতকাহন

০৬ ই আগস্ট, ২০১৬ দুপুর ১:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

‘পিরিয়ড’ বা ‘ঋতুস্রাব’ অথবা ‘মাসিক’ আর পাঁচটা স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়ার মতোই একটি প্রক্রিয়া। তবুও ঋতুস্রাবের মত স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে ঘিরে এখনো এই সমাজে নানা কুসংস্কার রয়ে গেছে। একজন নারীর ‘পিরিয়ড’ বা ‘ঋতুস্রাব’ অথবা ‘মাসিক’ হলেই তাকে এ সমাজ অশুচির তকমা দিয়ে থাকে! এ সমাজে এমন সংস্কৃতি বহুকাল আগের থেকেই চলমান।
ধরুন একজন নারী প্রতিদিনের মতোই পরের দিনের বেশ কিছু কাজের রুটিন তৈরি করে ঘুমোতে গেলেন। পরেরদিন সকালে উঠে তিনি অনুভব করলেন, তার ইউটেরাসে ব্যথা, তখন কি তার পক্ষে সম্ভব নতুন একটি দিন শুরু করা? কারণ, একই সময় তার শরীরের নানা অংশ ক্র্যাম্প হয়ে যাবে, শুরু হবে ‘ঋতুস্রাব’।
একজন মেয়ের জন্য ‘ঋতুস্রাব’ আনন্দের নয়, উল্লাসের বিষয়ও নয়। আবার কিন্তু লজ্জার বিষয়ও নয়। তবে এই ‘ঋতুস্রাব’ একজন মেয়েকে কতটা কষ্ট দেয়, কতটা যন্ত্রণা দিয়ে থাকে, তা একজন মেয়েই ভালো বলতে পারবে। তবে সব যন্ত্রণা সে নিজেই মুখ বুঝে সহ্য করে যায়। চিৎকার করে কাঁদতেও পারে না। বলতেও পারে না তার যন্ত্রণাটা কোথায়?
‘ঋতুস্রাব’র দিনগুলিতে একজন নারীর মন-মেজাজ এতটাই খারাপ থাকে যে, অনেক সময় সেই রাগ গিয়ে পড়ে সন্তান অথবা কাছে থাকা কোন মানুষের উপর। কিন্তু কেউ বোঝার চেষ্টা করে না, এই নারীর ‘ঋতুস্রাব’ চলছে, এবং এটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক একটি শারীরিক প্রক্রিয়া।
এ সমাজের অনেকে আবার ‌‘ঋতুস্রাব’ চলাকালীন মেয়েদের অপবিত্র তকমা দিয়ে থাকে। সমাজের একটা বড় অংশ এখনও মনে করেন, একজন মেয়ের ‘ঋতুস্রাব’ হওয়া মানে সে অশুচি, অ-পবিত্র! যার ফলে ‘ঋতুস্রাব’ চলাকালীন মেয়েরা রান্না করতে পারবেন না, মন্দিরে যেতে পারবেন না, আচারে হাত দিলে, তা খারাপ হয়ে যাবে, এছাড়া আরও অনেক কুসংস্কার প্রথা চালু আছে এই ‘ঋতুস্রাব’ নিয়ে।
তবে অবাক করার বিষয় হচ্ছে যে, এখনও বহু নারী বাজারে গিয়ে স্যানিটারি ন্যাপকিন কিনতে লজ্জা পান! দোকানের লোকও ন্যাপকিন এমনভাবে কাগজে মুড়ে দেন, যেন এগুলো অবৈধ কোন কিছু! যেন, কত গোপন একটা ব্যাপার!
কেন? স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রি করার সময় একজন দোকানদার এতোটা রাখঢাক করবেন কেন? আর মেয়েটিই বা কেন এতোটা ইতস্তত করে তা গোপন করে কিনবে? ‘ঋতুস্রাব’ হওয়া কি খারাপ?
তাহলে কি একজন নারীর উচিত, এটা লুকিয়ে রাখা? অথচ একজন মেয়ের ‘ঋতুস্রাব’ শুরু হওয়া মানে, ওই মেয়ে আরেকটি প্রাণের জন্ম দিতে পারার শক্তি সঞ্চার করেছে, এমনটাই তো জানান দিয়ে থাকে। এই ‘ঋতুস্রাব’ এর প্রচলন না থাকলে আমার মতো পুরুষগুলোই বা কিভাবে এই পৃথিবীর আলো-বাতাস দেখত?
এছাড়া ‘ঋতুস্রাব’ তো একটা স্বাস্থ্যকর প্রক্রিয়া এটাই বা কেন বুঝতে চাই না আমরা? নিয়মিত ‘ঋতুস্রাব’ হওয়া মানে অনেক রোগ-প্রতিরোধ সহায়ক। তাহলে এ নিয়ে এতোটা নোংরামি কেন? কেন এতোটা রাখঢাক? আর মেয়েরাই বা কেন এ নিয়ে এতটা অস্বস্তিতে ভোগেন?
এখনও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেয়েরা প্রতি মাসে এক সপ্তাহ করে স্কুল যাওয়া বন্ধ করে দেয় ‘ঋতুস্রাব’ চালু হলে। কেন না, অন্য কেউ যদি জানে তার ‘ঋতুস্রাব’ চলছে, তাহলে এ নিয়ে তাকে নানা টিটকিরিমুলক কথা শুনতে হবে। যার জন্য সে নিজ থেকেই স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয় লজ্জার হাত থেকে বাঁচার জন্য। আর এই সংস্কৃতির জেরে অনেক মেয়ের পড়াশোনারও ক্ষতি হয়।
কিন্তু না। ‘ঋতুস্রাব’ নিয়ে মানুষের ভুল ধারণা পরিবর্তন করার সময় এসেছে। যতদিন না ‘ঋতুস্রাব’ নিয়ে এসব কুসংস্কার দূর হয় ততদিন পর্যন্ত এ নিয়ে প্রতিটি মেয়েরই লড়াই করা উচিৎ। সেই সাথে দরকার, ‘ঋতুস্রাব’ চলাকালীন সময় যাতে কোন মেয়ে লজ্জা না পায়, লজ্জা ভেঙে যাতে সে বাইরে আসতে পারে, সে জন্য সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
মেয়ে, আর নয় মুখ লুকিয়ে কাঁদা, ‘ঋতুস্রাব’ স্বাভাবিক, এ নয় কোন বাধা। জাগো নারী জাগো, ‘ঋতুস্রাব’ নিয়ে কুসংস্কার, লজ্জা ভাঙার সময় এসেছে, জাগো এবার জাগো। লজ্জা নয়, গর্ব করেই বলো ‘আমার মাসিক চলছে’। জয়তু নারী।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রম্য: পর্নের সেকাল একাল!

লিখেছেন গেছো দাদা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬

গুরুত্বপূর্ণ একটা টপিক নিয়ে অনেকদিন ধরে লিখব লিখব করছিলাম। সময় হচ্ছিল না। আজ এই গভীর রাতে মনে হলো, লিখেই ফেলি। কেন মনে হলো, সে আলাপে আর না যাই। টপিক হলো:... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশভাগ এবং ধর্ম- অধর্ম

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৪



শীতের শেষে সমস্ত গাছের পাতা ঝরে পড়ে।
তখন পাতা ছাড়া গাছ একদম রুগ্ন মনে হয়। শুকনো পাতা দিয়ে মাটির পথ ঢেকে যায়। সেই পথ দিয়ে কোনো পথিক হেটে গেলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিরো থেকে হিরো (মহাজগৎ সংক্রান্ত) - পর্ব-১

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০




কোন কিছুর অস্তিত্ববিহীন অসীম শূন্যে উদ্ভব ঘটেছে সকল বস্তু ও শক্তি উপাদানের। তাতে কোন স্থান না থাকায় উক্ত বস্তু ও শক্তি উপাদান সমূহ একে অপরের স্থান হয়েছে। সুতরাং... ...বাকিটুকু পড়ুন

শব্দের শক্তি, ভাষার মাধুর্য....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:৫২

এমিরেটস, কাতার এয়ার লাইন্স ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট রিক্রুটমেন্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে গ্রুপ ডিসকাশন। গ্রুপ ডিসকাশনের সারমর্ম হচ্ছে—৬-৮ জন কয়েকটি গ্রুপে একটি নির্দিষ্ট টপিক নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করবে। নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

উচ্চবংশীয় ছাগল!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:০৯



এককালে কেবল ঘড়িতেই বাজতো টিক টিক- টিক টিক;
বারবেলায় এসে দেখছি টিক টিক বলে কিছু নেই আর ঠিক ঠিক!
বরং 'টিকটক'- এ আকণ্ঠ বুদ হয়ে আছে আবালবৃদ্ধবনিতা!
মানুষের লম্ফঝম্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

×