শহরের স্বনামধন্য এক হাসপাতাল।
সে হাসপাতালে খণ্ডকালীন চিকিৎসক হিসেবে কাজ করে অনীক। অনীকের ডিউটি মূলত ইমার্জেন্সীতে অর্থাৎ জরুরী বিভাগে।
তরুণ চিকিৎসক, ক্ষেত্রবিশেষে সকল চিকিৎসকের জন্যই ইমার্জেন্সী ডিউটি মানেই বিভীষিকা; যেকোনো মুহূর্তেই ধুপধাপ কিল ঘুষি, চড় থাপ্পড় বা ফ্লাইং কিক খাবার সম্ভাবনা থাকে।
আর সেই ইমার্জেন্সিতেই অনীকের সব ডিউটি-ই নাইট ডিউটি। ১১ ঘন্টার দীর্ঘ নাইট ডিউটি।
এদিকে রাতে ডিউটি ডাক্তারের জন্য কোনো বেড নাই, যাতে রাতের বেলায় ডাক্তার ঘুমাতে না পারে। এরপরও কোনো 'বেহায়া' ডাক্তার শুতে চাইলে, ইমার্জেন্সী রুগীদের জন্য রাখা বেড এ শুতে হবে৷
ইমার্জেন্সীতে আবার প্রচুর মশা।
রুগী দেখবে নাকি গায়ে বসা মশা মারবে, দিশ কূল পায়না অনীক। তাছাড়া সময়টাও ত ভালোনা, চারিদিকে ডেংগুর ভীষণ প্রকোপ!
কিন্তু মশা মারারও উপায় নাই।
কর্তৃপক্ষ নিয়ম করে দিয়েছে, ২০ দিনের আগে এরোসল শেষ হয়ে গেলে, আর দেওয়া হবে না। স্বাভাবিকভাবেই, এতো মশা মারতে গিয়ে এরোসল বেচারা ২০ দিনের আগেই নিঃশেষ হয়ে গেছে।
অতএব, কর্তৃপক্ষের আজ্ঞা মতোন আপাতত মশার কামড় খেয়ে যাচ্ছে অনীক। শক্ত চেয়ারে সারা রাত বসে থেকে ঘুমও আসছেনা, তবু উর্ধতনদের মর্জি তো পূরণ হচ্ছে৷
তাছাড়া, জুনিয়র ডাক্তারের শরীর থেকে কিছু রক্ত গেলে কি এসে যায়? জুনিয়র ডাক্তারের কি অভাব আছে? ফি বছর ত তিন-চার হাজার প্রডাকশন হচ্ছে৷ এতো জুনিয়র ডাক্তার আর তাদের দেহের লিটার লিটার রক্তের প্রয়োজনটা কি?
চাপড় দিয়ে মশা মারার ব্যর্থ চেষ্টা করতে করতে ভাবতে থাকে অনীক......
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ৩:২৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



