somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি অতি সংক্ষিপ্ত চিরন্তন ভালবাসার গল্প

২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৯:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একটি ছেলে আর একটি মেয়ে, চোখে অনেক সুন্দর সুন্দর স্বপ্ন, কল্পনায় রঙ্গিন প্রজাপতি হয়ে ঘুরে বেড়ায়...। সুন্দর একটা ঘর বাঁধার স্বপ্ন তৈরী করে। অবস্থাটা আসলে প্রেমে পরলে আর সবার যেমন হয় অনেকটাই সেরকম।

প্রথম দেখা ঢাকাতে একটা বিয়েতে। প্রথম দেখাতেই ছেলেটার চোখে লেগে যায় মেয়েটিকে। যদিও অনেক সময়ই এমন অনেককেই ভাল লাগে, গুরুত্ব দিলনা বেপারটাকে। এই গুরুত্ব না দেওয়ার পরেও প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় পরে তাদের ফোনে যোগাযোগ হয়ে গেল। মেয়েটার তখন মাত্র ইন্টার পরীক্ষা দিয়ে খুব ভাল রেজাল্ট করে কোচিং চলছে। আস্তে আস্তে ব্যাপারটা যোগাযোগ থেকে ভালবাসায় রূপ নিতে থাকে। যদিও পরে জানা যায় যে; প্রথম দেখায় ভাল লাগাটা একতরফা ছিল না।

যাইহোক, ভালবাসা ভালই চলছিল; একটা ঝামেলা হয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত। একদিন ছোট একটা ভুল হওয়ার কারনে তাদের প্রেমের ব্যাপারটা জানাজানি হয়া গেল। শুরু হয়ে গেল ঝামেলা। মেয়েটার ফোন নিয়ে নেয়া হল। শুরু হয়ে গেল মেয়েটিকে পাহারা দিয়ে রাখা।

এত কিছুর মধ্যেও খারাপ চলছিল না তাদের প্রেম করা। ছেলেটি মেয়েটিকে নিয়ে মাঝে মধ্যে ঘুরতে যেত, যদিও খুব কঠিন ছিল কাজটা। বেশি যেটা করা হত তা হচ্ছে, ছেলেটি তার জান এর মেডিকেল কলেজ এর সামনে যেয়ে থাকত। হয়ত কখন কখন দেখা যেত ৩ ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকার পরে তার দেখা পাওয়া যেত। কারন ফোন না থাকার কারনে জানাতে পারতনা যে ক্লাস কখন শেষ হবে।

ভালবাসার কোন কমতি ছিল না তাদের মধ্যে; প্রচন্ড ভালবাসত একজন আরেক জনকে। অবশ্য তাদের মধ্যে যে ফোনে একদমই কথা হতনা তা না। মাঝে মধ্যে চুরি করে কথা হত মা'র ফোন দিয়ে। কিন্তু যখন মা চলে যেত আর বোন এসে ছোট বোনকে পাহারা দিত তখন আর কথা বলা মোটেই সম্ভব হত না। আর কথা বা দেখা না হলেই শুরু হয়ে যেত মেয়েটির কান্নাকাটি।

অনেক না বলা কথা জমা হয়ে যেত তাদের। কিন্তু দেখা হলে কিছুই বলা হত না। বলবে কখন? দেখা হলে একজন আরেকজনের চোখে চোখ রেখে হাত ধরে বসে থাকত, আর না হলে মেয়েটি ছেলেটির বুকে মাথা রেখে পরম আশ্রয় খুজতো। মেয়েটি হয়ত শান্তি খুজে পেত।

এটা শেষ দিকের কথা। ততদিনে দেড় বছর পার হয়ে গেছে। তাদের কথা বা দেখা হচ্ছে না ৭ দিন যাবত। যোগাযোগের কোন উপায় পাওয়া যাচ্ছে না। হঠাৎ কোন এক ক্রিসমাস এর রাত, ছেলেটির ফোনে তার এক বন্ধুর ফোন এল। ছেলেটির মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ল। শুধু একটা কথাই কানে গেল "বন্ধু তোর ভালবাসার তো বিয়ে হয়ে গেল এক ঘন্টা আগে"।

ছেলেটির সব শেষ হয়ে গেল। শেষ হয়ে গেল ভালবাসার কাহিনি।

তারপরেও ছেলেটির কাছে মাঝে মাঝে মেয়েটির খোজ খবর আসত। কিছুদিন পরে ছেলেটি জানতে পারল মেয়েটি মাঝে মধ্যে কান্নাকাটি করে।

না এটা ভাবার কোন কারন নেই যে মেয়েটি ছেলেটির জন্য কাঁদে!!!

মেয়েটি আসলে তার স্বামীর জন্য কাদে; যদি মেয়েটিকে সে একা রেখে দূরে কোথাও যায়।

(লেখতে ইচ্ছা হল তাই লিখলাম। পড়তে ভাল লাগার কোন কারন নাই)
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৯:৫৬
৮টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রফিকুল ইসলামের ২য় বিয়ে করার যুক্তি প্রসঙ্গে chatgpt-কে জিজ্ঞেস করে যা পেলাম...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৭ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০



ইসলামে একাধিক বিয়ে বৈধ, তবে সেটা বড় দায়িত্বের বিষয়। শুধু “বৈধ” হলেই কোনো সিদ্ধান্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে উত্তম বা সবার জন্য উপযুক্ত হয়ে যায় না। Qur'an-এ বহু বিবাহের অনুমতির সাথে ন্যায়বিচারের শর্তও... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এখনই কওমী মাদ্রাসাগুলো বন্ধ করে দিন

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৭ ই মে, ২০২৬ রাত ৮:৪৮


মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এখনই কওমী মাদ্রাসাগুলো বন্ধ করে দিন। এর জন্য যদি আকাশ ভেঙে পড়ে, তাহলে ভেঙে পড়ুক। এর কারণে যদি দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়, তবে তা-ই হোক। এখনই উপযুক্ত সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমজনতা আর রাজনীতি

লিখেছেন কিরকুট, ০৭ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:১৮

দেশটা এখন এমন এক মোড়ে দাঁড়িয়ে, যেখানে চায়ের দোকানের বেঞ্চি থেকে শুরু করে ফেসবুকের কমেন্টবক্স পর্যন্ত সবাই ভূরাজনীতির গোপন উপদেষ্টা। কেউ ন্যাটো বুঝে, কেউ "র" এর ফাইল পড়ে ফেলেছে বলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাজনৈতিক দল গঠনের মতো জনপ্রিয়তা ইউনুস সাহেবের ছিলো না ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই মে, ২০২৬ রাত ২:২৬


মাঝে মাঝে আমি ইউটিউবে বা মাহফিলে গিয়ে হুজুরদের ওয়াজ শুনি। শোনার কারণটা ধর্মীয় যতটা না, তার চেয়ে বেশি হলো আমাদের সমাজের হুজুররা দেশীয় অর্থনীতি বা সামাজিক ইস্যুগুলো নিয়ে সাধারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সীমিত মগজ, লিলিপুটিয়ান, ডোডো পাখি (সৌজন্যে - চাঁদগাজী)...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ১১:২৯



১. যেনা করব আমরা, ৫০১-এ যাব আমরা, পার্কে যাব আমরা। তুমি তো আলেম। তুমি কেন যাবে? তুমি তো ইসলামের সবক দাও সবাইকে। তুমি মাহফিলে কোরআন, হাদীস বয়ান কর। তুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×