somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সময়ের সাথে জীবনের ভাবনা ১৫

১৪ ই আগস্ট, ২০১৪ রাত ৮:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ইদানিং অল্পতেই মন খারাপ হয়ে যায়, সবকিছু খুব দ্রুত এলোমেলো হয়ে যায়, মনে হয় সবকিছু শেষ হয়ে গেলো, এই পরিস্থিতি থেকে নিজেকে স্থিতি করতে অনেক সময় চলে যায়, মনের সাথে ক্রমাগত যুদ্ধ করে বেচে থাকা বড় কস্টদায়ক, সারাক্ষন পীড়া দিতে থাকে। যত জীবন পার করে যাচ্ছি অনেক কিছু মেনে নিয়ে অভ্যস্ত হতে হচ্ছে, প্রচন্ড অপছন্দের কিন্তু বলতে পারি না, শেয়ারও করতে পারি না, ভালো লাগছে না তবুও মেনে নিতে হয়, নিজের খারাপলাগা শেয়ার করতে আড়স্ট হয়ে পড়ি, নিজেকে ছোট মনে হয়, কেনো আমার ইচ্ছে অনিচ্ছা ভালোলাগা খারাপলাগা মানিয়ে নিতে বলবো, আমার জন্য কারো স্বপ্ন ভেঙ্গে যাক, কারো জীবনের স্বাধীনতা ক্ষুন্ন হোক তা চাই না। কিন্তু এই না বলে থাকা, না মানতে পারা, আবার জীবনে একটু সরলতার সাথে বাচার জন্য মেনে নেই, কিন্তু এই মেনে নেয়াটা নিজেকে অস্তিত্বকে শেষ করে দিচ্ছি এই ভাবনা সবকিছু আমাকে জটিলতায় ফেলে দেয়। এখানেই এসেই জীবনের কিছু সময় নস্ট হয়ে যায়, অনেকক্ষন নিজেকে বুঝিয়ে বাস্তবতায় ফিরেয়ে নিয়ে আসি। মনের মধ্যে কিছু প্রশ্ন আসে আমিই শুধু মেনে নিয়ে জীবন পার করছি, এখনকার জীবনের প্রতিটি বিষয়ে আমাকে নিজের মনের একান্ত ইচ্ছের বিরুদ্ধে চলতে হচ্ছে। তাহলে যারা আমার নিকটজন তারা কি আমার জন্য কিছু করবে না বা করছে না। হয়তো আমি মুল্যহীন, হয়তো আমি ভুল, হয়তো আমার অপ্রত্যাশিত স্বপ্ন, হয়তো আমার চিন্তা ধারনা এযুগীয় নয়। আমি কি সর্বদাই ভুলের মধ্যে থাকি, আমার ইচ্ছে বা ভালো লাগা খারাপ লাগা কি এতই অযোক্তিক। কারো জন্য তা প্রযোজ্য নয়। সবসময়ই অন্যের ধারনাই সঠিক হবে? অন্যের ইচ্ছেটাই প্রাধান্য পাবে। যদি আমি সময়ের উপযোগী না হই তাহলে এই পৃথিবীতে আমার প্রয়োজন কি। অথচ অনেক দিনের স্বপ্ন বা এই ইচ্ছে নিয়ে বড় হয়েছি কিছু করবো যা কিছু পৃথিবীতে রয়ে যাবে।

আমার মনজগতের উভয় সংকট আমাকে নাড়িয়ে দেয়, আমার জন্য কারো জীবনের আনন্দ, গতি স্থবির হোক আমি মানতে পারি না। অথচ আমার আচার আচরনে কিছু সমস্যাতো তাদের হচ্ছে, কেনো আমি তাদের জীবনের প্রতিবন্ধকতা হবো, এই যে আমার অক্ষমতার অপরাধবোধ আর নিজের মনের কস্টের এই পারস্পারিক দ্বন্ধ আমাকে এলোমেলো করে দিচ্ছে, মাঝে মাঝে প্রশ্ন মনে আসে আমি অক্ষম নাকি পারিপার্শ্বিকতা আমাকে অক্ষম করে রেখেছে, হয়তো এই সমাজের মাপকাঠিতে মুল্যায়িত হতে পারছি না। তা খোলা চোখে এই অসফল ধারনাই আমাকে জীবন্মৃত করে রেখেছে।

আসলে নিজেকে ভালোবাসতে পারা এক ধরনের যোগ্যতা, সেটার ঘাটতি আছে আমার মাঝে তাই বিভ্রান্ত হয়ে যাই, অনেক দিন আমার ইচ্ছের মতো কিছু ঘটেনি আমার জীবনে, তাই নিজের প্রতি ধারনাটাও খুব ভালো নয়, অথচ কত নিকট জনের কাছে নিজের অক্ষমতা আর মানসিক অবস্থার কথা বলে কিছু কিছু অনুরোধ করেছি, যাতে কিছুটা স্বস্তি পাই, এই স্বস্তিতে নিজেকে গুছিয়ে নিতে পারি কিন্তু নিজের সে ইচ্ছের মতো করে চাওয়া জীবন হয়ে উঠেনি।তাই পরের উপর নিজের জীবনের নির্ভরতা কে ঘৃনা করি। আর এই আপনজনের নির্ভরতা কমাতে গিয়ে জীবন আর জীবন থাকছে না, কখনো কখনো বিদ্রোহ করি, এইবিদ্রোহবোধ জমতে জমতে একধরনের গোড়া একগুয়ে জীবনের পথে ঠেলে দিচ্ছে। সাময়িক শান্তি পাই বিদ্রোহ করে, নিজেকে ঘৃনা করে, নিজে যা করছি তাই সঠিক এইসব ভেবেভেবে, কিছু কাল্পনিক কথাবার্তা আকাশে ছুড়ে মেরে, নিজের অক্ষমতার উল্লাস করি নিজের সাথে উত্তেজিত কথাবার্তা বলে, কিছুক্ষন নিশ্চুপ বসে থাকি, লোকচক্ষুর আড়ালে মনস্তাত্তিক জটিলতার বিকৃত অঙ্গি ভঙ্গি করি, হাত পা ছুড়ি, এরপর মানুষ হবার জন্য মুখোশটা পড়তে শুরু করি। আর এভাবে ইচ্ছের বিরুদ্ধে কমপ্রোমাইস করতে করতে জীবনের আগ্রহ হারিয়ে ফেলছি। জীবনের গভীরতায় যেতে পারি না ভাসা ভাসা উদ্বাস্তু হয়ে বেচে আছি, বাচতে হয় বলে বেচে আছি,

আর এই পরিক্রমায় অনেকদিন থেকে নিজের জীবনের ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নিতে পারছিনা, ভবিষ্যতে কিছু করবো সেটাই ভাবতে ভুলে যাচ্ছি বর্তমানের আবেগ আর পারিপার্শ্বকতায়, এত দ্রুত সবকিছু পরিবর্তণ হচ্ছে, বর্তমানকে সামলে ভবিষ্যত নিয়ে কনক্রিট চিন্তা করতে পারছি না। অথচ একটু স্বস্তি বা নিশ্চিন্ততা পেলেই সবকিছু আমার মতো হবে এটি বিশ্বাস করি।
খুব দ্রুতই সেটা হবে, আমাকে সেটা পারতেই হবে, আমি পারবো আমি পারবো, আমি পারবোই।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোথায় পাই পাগলের শ্বশুর

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮


পাগলের পাতা ছাগলে খায়,
দাঁতের দোষটা হাতেই যে কয়;
দেয় রে দোষটা দেয় চোখের,
মনটা যে ধোয়া তুলসীপাতা,
কেউ দেখে না রে মুখের।

মুখের কথা ঠোঁটে কয়,
ছাগল ডাকে রে ভাই, ব্যাঁ-ব্যাঁ;
পাগলের কাজ পাগল করে সই,
সাধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×