somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অসহায় সময়টার কিছু কথা

২৮ শে আগস্ট, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইদানিং দিনের মধ্যে কয়েকবারই ডিপ্রেশনের মাঝে আটকে যাই, তখন একদম কিছু করতে ভালো লাগে না, মনে হয় এই বিষন্নতা নিয়েই থাকি। মনে হয় এখানেই আমার সব সুখটুকু রয়েছে। বেদনাভরা চিন্তার সাথে সাথে দুখবোধ বাড়তেই বাড়তেই থাকে। খুব একা মনে হয়, এই সময় একই কথা বারবার ঘুরে ফিরে আসে, একই চিন্তা অনেক্ষন ধরে চলতে থাকে, মনযোগটা একটা কেন্দ্রকে নিয়ে ঘুরেফিরে। নিজেকে এর থেকে বের করে আনতে অনেক সময় লাগে, আমি বুঝতে পারছি, আমি একটি বিষয় নিয়েই অনেক্ষন ধরে ভাবছি, একই অনুভূতি নিয়ে অনেক্ষন পড়ে আছি, এখনই চিন্তা, অনুভূতির পরিবর্তন করা দরকার কিন্তু পারছি না, যখন পারি তখন অনেক সময় চলে যায়। আসলে বিষন্নতা কখন আসে বুঝতে পারি না, কোন ধরনের পূর্বাভাস নেই হুট করেই আমাকে ঝাপটে ধরে, একেবারে বিপর্যস্ত না করা পর্যন্ত মুক্তি পাই না। যখন মুক্ত পাই তখন রাগে ফেটে পড়ি, কেনো এতক্ষন সময় নস্ট করলাম, কেনো নিজেকে নিয়ন্ত্রন করতে পারিনি, এই দুর্বলতা আমার মধ্যে কেন থাকবে, আমি কেনো পারি না, নিজেকে দোষ দিতে দিতে, নিজেকে পরাজিত ভাবতে ভাবতে এ এক দুর্বিসহ অনুভূতির ক্যাচালে আটকে যাই।

ধরুন আমি আপনার একটি কাজে, আচরনে কস্ট পেলাম, তখন থেকেই এই কস্টের অনুভুতিতে আটকে যাই, অপ্রকাশিত দু:খবোধে জর্জড়িত হয়ে পড়ি, আর এই সময় আমি ভাবতে থাকি আপনাকে আমি কিভাবে আমার অবস্থানে ফেলবো, এমন পরিস্থিতি তৈরী করবো যেভাবে আমি মনে আঘাত পেলাম, সেভাবেই আপনি কস্ট পাবেন, সেইম সেইম পরিস্থিতি তৈরী হবে আমি থাকবো আপনার স্থানে আপনি থাকবেন আমার আগের স্থানে, এরপর আমি আপনার মতো আচরন করবো যাতে করে আপনি আমার মতো সেইম কস্ট পান। এভাবেই আমার চিন্তার জগত ঘুরপাক খেতে থাকে, পরিকল্পনা জল্পনা কল্পনা চলতে থাকে, একা একা নিজের সাথে কথা বলতে থাকি, কিন্তু সেটা একবার কল্পনা করেই থেমে গেলে ভালো হতো কিন্তু এই একই প্লান বারবার ঘুরপাক খেতে থাকে, এক অসহ্য অনুভূতির মধ্যে আটকে থাকি। আপনি হয়তো বলবেন প্রতিহিংসাপরায়ন মানসিক জগত, কিন্তু এটা কি বলা ঠিক হবে। আপনিই তো আমাকে না বুঝতে পেরে আমাকে কস্ট দিলেন আর আমি আপনাকে দিলেই খারাপ হয়ে যাবো। আপনার কি একবারের জন্য ভাববার সুযোগ নেই? কেনো আপনি আমার সাথে এভাবে আচরন করলেন? আমার সাথে এই আচরন করা কি ঠিক হচ্ছে? আপনি যদি না ভাবেন তাহলে আপনার আচরনের দায়ভার আমি কেনো নিতে যাবো। অথচ আমাকে নিতে হচ্ছে আর আপনি ক্রমাগত আমার মনোজগত বুঝতে পারলেন না। তখন মনে হয় আপনিও আমার অনুভূতির অভিজ্ঞতাটা নিন এতেই আপনিও শুধরে যাবেন। আমাকেও বুঝতে পারবেন।

আর এভাবেই আমার মনজগত ক্রমাগত দু:খবোধে ভরে যাচ্ছে, আমি ক্লান্ত হয়ে পড়ছি, তখন মনে হয় অসামাজিক হয়ে যাই, কারো সাথে ব্যক্তিসম্পর্কে না জড়াই, একা একা থাকি, কারো সাথে সম্পর্ক না থাকলেই ব্যথা পাবো না, বারবার দু:খ পাবো না, আর অপ্রকাশিত অনুভূতিতে ভরে যাবে না আমার মনজগত, কারো দয়া বা করুনার জন্য আমার জীবন আটকে যাবে না। কারো জন্য আমার অপেক্ষা থাকবে না, কারো জন্য মনখারাপের সময় তৈরী হবে না। নিজের স্বাধীনতা বলে কিছু থাকলো ।

এই মনখারাপের সময়টা থেকে মুক্তি পেতে আমি অনেক কিছুই করি, সর্বপ্রথমে আমার আম্মুকে ফোন দেই, কিন্তু আম্মুকে কখনই বুঝতে দেই না আমার মন খারাপ, আমার মনের মধ্যে এত এত জমাট বাধা দু:খবোধ, আমার মাথায় ঘুরছে কিছু আবেগতাড়িত পুরনো স্মৃতি, মায়ের কন্ঠশুনি, তাকে আমি খুব খুব অনুভব করি। এই সময়টাতে খুব একজনকে চাই যে আমাকে বুঝবে, আমার পাশে থাকবে, আমার আনন্দিত মুখের জন্য কিছু করবে, মোটকথা খুব খুব করে কারো অপেক্ষায় থাকি যাকে দেখলেই মন ভালো হয়ে যাবে। যার উপর ভরসা করতে পারি, যাকে মনখুলে সব কথা বলতে, যিনি আমার দুখে ব্যথিত হবে, যিনি হবে আমার আশ্রয়স্থান। যার জন্য আমার ভালোবাসাটুকু সম্পুর্ন সমর্পন করতে পারি। যাকে দেখেই আমি হাউমাউ করে কেদে উঠবো, কাদতে কাদতে মনটাকে হালকা করবো। কিন্তু সবটুকু আমাকেই করতে হয়, আমাকেই নিজেকে বুঝাতে হয়, উপছেপড়া মনকস্টের সময়টুকু একা একা কাটাতে হয়, গুমোট সময়টা অতিবাহিত করি। এভাবেই অনেকসময় পার করে নিজেকে মুক্তি দেই। আর এই কাজ করছি অনেকদিন থেকে ক্রমাগত।
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের হ্যালোইন উদযাপন

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩


আজ ছিল হ্যালোইন। এই উৎসব ফসল কাটার মৌসুমের শেষ ও শীতের শুরু - এই উপলক্ষে হলেও বছরের এ সময়ে কানাডায় ঠান্ডা পড়ে যায়। তবে আজ আবহাওয়া ছিল ভালো। সারাদিন রোদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৫



সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

ফরাসি ভাষায় বহুল প্রচলিত একটি বাক্য- Cherchez la femme। অর্থাৎ, ‘সেই মেয়েটিকে খোঁজ’।

ফরাসি লেখক আলেকজান্ডার ডুমা (Alexandre Dumas) ১৮৫৪ সালে তাঁর উপন্যাস Les Mohicans de Paris-এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাহসিফের মৃত্যু: খাতা আর টাওয়ার খুললেই যেসব প্রশ্নের উত্তর মেলে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:২৩



তাহসিফের মৃত্যু: খাতা আর টাওয়ার খুললেই যেসব প্রশ্নের উত্তর মেলে-

বিমান বাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যু এখন রহস্যের আরেক নাম। ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় জুনিয়র বন্ধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

দারিদ্র্য কি মানুষকে মহান করে তোলে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৬


হুমায়ূন আহমেদ। বাংলাদেশের শেষ জনপ্রিয় লেখক। তিনি ছিলেন একাধারে একজন গুণী লেখক ও নাট্যনির্মাতা। হুমায়ূন আহমেদ সমুদ্রবিলাস নামে একটি নাটক নির্মাণ করেছিলেন। সেখানে একজন শিক্ষক ছিলেন, নাম চ্যালেঞ্জার। তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

DNA — ঈশ্বর এবং প্রশ্ন ?

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১২



১. ক্ষুধা
পৃথিবীর জনসংখ্যা বাড়ছিল, বাড়ছিল মানুষের খাদ্যচাহিদা; কিন্তু সীমিত জমিতে প্রচলিত পদ্ধতিতে সেই চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে উঠছিল।
মানুষ নির্বাচিত প্রজনন ও বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে এমন ব্রয়লার মুরগির জাত তৈরি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×