somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হেফাজতঃ ৫ মে নিহতদের নামে বিদেশ থেকে আনা বিপুল অর্থ কোথায়?

০৯ ই মে, ২০১৪ সকাল ৮:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গেল বছর ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজত-জামায়াতের তাণ্ডবে আহত ও নিহতদের পরিবারের সাহাযার্থে বিদেশ থেকে আনা অর্থ নিয়ে নতুন বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে হেফাজত। হেফাজতের নেতাকর্মীদের জন্য দেশ-বিদেশ থেকে সংগ্রহ করা অনুদানের বিপুল অর্থ এখন কোথায়? এ প্রশ্ন নিয়ে শীর্ষনেতাদের মধ্যে শুরু হয়েছে টানাপোড়েন। হেফাজতের ইমেজকে কাজে লাগিয়ে আমিরের ছেলেসহ কয়েক নেতার সম্পদের পাহাড় গড়া নিয়েও শুরু হয়েছে বিরোধ। দেশ ও বিদেশ বিশেষত সৌদিআরব, কাতার, কুয়েত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য থেকে আসা বিপুল অর্থ সহায়তার কিছুই না পেয়ে ক্ষুব্ধ আহত ও নিহতদের পরিবারগুলো। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা ইতোমধ্যেই হেফাজত নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন যে, নেতারা আসলে কওমি মাদ্রাসার সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিজেদের মতো নিয়ন্ত্রণে রেখে ব্যবসা করতে চায়। এরা মাদ্রাসার আহত, নিহত ছাত্রদের নামে টাকা আনলেও তা পায় না ভুক্তভোগীরা। এর আগে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির তদন্তেও হেফাজতের পক্ষ থেকে সংগঠনের আহত-নিহতদের সাহায্য না করার প্রমাণ মিলেছিল।
হেফাজত ও মাদ্রাসার সাধারণ ছাত্রদের ব্যবহার করে নেতাদের রাজনীতি করা, অবৈধভাবে সম্পদের পাহাড়গড়া ও কওমি মাদ্রাসার সরকারী সনদের স্বীকৃতির বিরোধিতা করা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ছাত্র অভিভাবকরা। নেতাদের কর্মকাণ্ড প্রকাশ হয়ে পড়ায় হেফাজতের প্রতি ক্রমেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন শিক্ষক-ছাত্র ও তাদের অভিভাবকরা। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই হেফাজত নেতাদের কর্মকা-ে ক্ষুব্ধ নেতাকর্মী, সমর্থক, ভক্ত ও অনুরাগীরা। নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছর ৫ মে রাজধানীর শাপলা চত্বরে কর্মসূচীর আগে ও পরে হেফাজতে ইসলামের নামে প্রচুর অনুদান সংগৃহীত হয়েছে। গ্রগতিবিরোধী ১৩ দফা দাবি আদায়ের আন্দোলন-সংগ্রাম ও ৫ মে সংগঠিত অপারেশনে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার কথা বলে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে এসব আর্থিক সহায়তা আনা হয়। কওমি মাদরাসার প্রবাসী ছাত্র-শিক্ষক, ধর্মভিত্তিক দলের নেতাকর্মীরা ব্যাংকে, হাতে-হাতে এ বিপুল পরিমাণ টাকা প্রদান করেছেন সংগঠনটির সদর দফতর হিসেবে খ্যাত চট্টগ্রামের হাটহাজারীর দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদরাসায়। তবে আজ পর্যন্ত এসব অর্থের কোন হিসাব দিতে পারেনি হেফাজত কিংবা হাটহাজারী মাদরাসা। ৫ মে’র ক্ষতিগ্রস্তদের নামে অনুদান সংগ্রহ করা হলেও নিহতের পরিবারগুলো এসবের কিছুই জানে না। এমন কয়েকটি পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তাঁরা জানতে পেরেছেন ওই দিন আহত নিহতদের সাহায্যের জন্য দেশ-বিদেশ থেকে টাকা আনা হয়েছে। সৌদিআরবসহ বিদেশের অনেক দেশে নেতারা গিয়েও সংগ্রহ করেছেন অর্থ। তবে সেই টাকা আজও নিহত আহতরা পায়নি। তাদের প্রশ্ন, ‘আমাদের নামে অনুদান এলে আমরা পাব না কেন? যদিও হেফাজতের কোন নেতা এ অর্থ নিয়ে এখন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে চাচ্ছে না। আহত, নিহতদের পরিবারের সদস্যদের ‘শীঘ্রই’ টাকা দেয়া হবে কিংবা টাকা আসার খবর সত্য নয় এমন সব তথ্য নিয়ে আপাতত বোঝানোর চেষ্টা চলছে। হেফাজত-জামায়াতের সূত্রগুলো বলছে, হেফাজতের কর্মকা- চালানো, আহত নিহতদের পরিবারের সদস্যদের জন্য সবচেয়ে বেশি টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে সৌদিআরব ও যুক্তরাজ্য থেকে। ৫ মের আগে ও পরে হেফাজতের আমির আহমদ শফীসহ প্রায় সকল নায়েবে আমির সৌদিআরব ও লন্ডন সফর করেছেন। এখনও কয়েকজন লন্ডনে অবস্থান করছেন। সৌদিআরব, কাতার, কুয়েত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, লন্ডন থেকে বেশিরভাগ অনুদান এসেছে সরাসরি হেফাজতে ইসলামের আমির শফীর ছেলে মাওলানা আনাস মাদানিসহ কয়েক নায়েবে আমিরদের কাছে। সংগৃহীত অর্থ দিয়ে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে তিনি বিশাল অট্টালিকাও নির্মাণ করছেন।
হেফাজতের শরিক একটি দলের শীর্ষ এক নেতা জানান, লন্ডনে প্রবাসী জমিয়ত নেতা মাওলানা শোয়াইব আহমদের নেতৃত্বে অনুদান সংগ্রহ করা হয়েছে। তিনি নিহতের পরিবারের জন্য এক হাজার পাউন্ড ও আহতের জন্য সাত শ’ পাউন্ড করে অনুদান সংগ্রহ করেন। অর্থ সংগ্রহ করে আনাসসহ শীর্ষনেতাদের কাছে অনুদান দিয়েছেন কুয়েত খেলাফত মজলিসের আমিরও। হেফাজতের এক নেতা জানালেন, আন্দোলন কর্মসূচী বাস্তবায়নের জন্য চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদরাসায় কোটি কোটি টাকা এসেছে নামে-বেনামে। এসব অর্থ পরোক্ষ-প্রত্যক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছেন হেফজাতের শীর্ষনেতারা। ওই নেতার দাবি, ৫ মে পর কয়েকজন নেতার উত্তরোত্তর উন্নতি হয়েছে। কেউ ফ্ল্যাট কিনেছেন। কেউ সারা মাসই গাড়ি ভাড়া করে চলেন। স্বয়ং আনাস মাদানি বাড়ি করছেন অর্ধ কোটি টাকা ব্যয়ে। অথচ অনুদান সংগ্রহ করা হলেও ৫ মে নিহতরা কোন সাহায্য পায়নি। সহযোগিতা পাননি শাপলা চত্বরে নিহত কাজী রাকিব উদ্দীনের পরিবারও। তার স্ত্রী সালমা হক ইতোমধ্যেই জানিয়েছেন, হেফাজতের পক্ষ থেকে কোন যোগাযোগই করা হয়নি, অর্থ দেয়া তো দূরের কথা। তার ছবি দেখে ছেলে রূপাই সবাইকে বলছে, বাবা মসজিদে গেছে। ততক্ষণে চোখের পানিতে ভাসছে সালমা হকের গাল। রাজধানীর একটি মাদ্রাসায় গত সপ্তাহে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন ওইদিন হেফাজতের তা-বের সময় নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্যরা।
ময়মনসিংহে হেফাজতের এক কর্মী সাহাদাত বলছিলেন, আমার ছোটভাই ওইদিন মারা গেছে। হুজুর বলছিলেন, ঢাকা যেতে হবে। সরকার ইসলাম ধ্বংস করছে। সরকারকে শিক্ষা দিতে হবে। কিন্তু মারা যাওয়ার পর আজ পর্যন্ত হেফাজতের কেউ খোঁজ নেয়নি। তাদের কাজ শেষ হয়ে গেছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ তিনি বলছিলেন, হেফাজতের সমাবেশে তো ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। হেফাজত কোন সাহায্য করেনি। মহাসমাবেশে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন নরসিংদী শহরের সাটিরপাড়া (বকুলতলা) গ্রামের মাহমুদুল হাসান জুবায়ের। তিনি মাধবদী দরগাবাড়ী হাফিজিয়া আজিজিয়া মাদরাসার নবম শ্রেণীর ছাত্র ছিলেন। তাঁরা দুই ভাই ও তিন বোন। তিনি সবার ছোট। এ পর্যন্ত কারও কাছ থেকে কোন আর্থিক সহযোগিতা পায়নি তার পরিবার। রাজধানী ঢাকায়ও অনুদান সংগ্রহ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হেফাজতের ঢাকার কমিটি সূত্র জানায়, ঢাকার ফান্ড বিষয়ে পরিষ্কার কোন ব্যাখ্যা অদ্যাবধি দেননি হেফাজতের নায়েবে আমির এবং ঢাকা মহানগরের আহ্বায়ক নূর হোসাইন কাসেমী। কত টাকা জমা আছে, কত ব্যয় হয়েছে- এসব বিষয় নিয়ে তিনি আজ পর্যন্ত কমিটির বৈঠকও ডাকেননি। উল্টো ফান্ডের টাকা দিয়ে নিজ দলের মহাসচিব মুহাম্মদ ওয়াক্কাছের চিকিৎসা, কারাগারের খরচ যোগানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে তার বিরুদ্ধে। হেফাজতের লালবাগ মাদ্রাসার এক নেতা বলছিলেন, হেফাজতের নেতা মামুনুল হক ও সাখাওয়াত হোসাইন গ্রেফতার হয়ে কারাগারে গেলেও তাদের আইনী খরচ থেকে শুরু করে কোন ব্যয়ই হেফাজতের ফান্ড থেকে দেয়া হয়নি। অথচ ফান্ডের নামে বিদেশ থেকে অর্থ সংগ্রহ করেছেন নগর কমিটির সদস্য জুনায়েদ আল হাবিব। গত বছরের ৫ মে’র পর একাধিকবার লন্ডন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে তিনি অনেক অর্থ সংগ্রহ করেছেন। সুত্র
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

দেখা হবে যুদ্ধ ফুরোলে সন্ধের মাহফিলে;
দেখা হবে ঠিক চেনা রাস্তার অচেনা-অন্ত্যমিলে।
ছড়াব আবার শস্যের দানা দেশ থেকে মহাদেশে
মানুষই জেতে, খুঁজে নেয় আলো অন্ধকারের শেষে...

তোমার গল্পে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×