somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নিজামীর মৃত্যুদণ্ড: গণ দাবির জয়

০১ লা নভেম্বর, ২০১৪ সকাল ৯:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মুক্তিযুদ্ধ বাঙালি জাতির অবিস্মরণীয় অধ্যায়। একাত্তরে একদল স্বজাতিদ্রোহী শুধু পাকিস্তানকে সমর্থনই করেনি, তারা যুক্ত হয়ে পড়েছিল গণহত্যায়ও। তারা গড়ে তুলেছিল বিভিন্ন বাহিনী এবং এসব বাহিনী পাকিস্তানি সেনাদের দোসর হয়ে সব ধ্বংসযজ্ঞে শামিল ছিল। গোলাম আযম, মতিউর রহমান নিজামী গং তখন যে রকম রক্তপিপাসু হয়ে উঠেছিল, সে সবই ইতিহাসের পাতায় জ্বল জ্বল করছে। তাদের অপকর্মের বিচারের দাবি এ দেশের কোটি কোটি মানুষ বিগত চার দশক ধরেই জানিয়ে আসছিল। এই স্বজাতিদ্রোহী, ঘাতক চক্রকে রাষ্ট্রক্ষমতার অংশীদার পর্যন্ত করেছিল বিএনপি। একটা জাতির এর চেয়ে গ্লানির বিষয় আর কি হতে পারে! স্বাধীন দেশেও জামায়াত-শিবির অর্থাৎ একাত্তরের পরাজিত শত্রুরা কম ধ্বংসযজ্ঞ চালায়নি। শেষ পর্যন্ত বিগত মহাজোট সরকার বিলম্বে হলেও মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু করে ও বর্তমান সরকারও এ ব্যাপারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বলেই মনে হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকজন যুদ্ধাপরাধীর বিচার হয়েছে, একজনের চূড়ান্ত দণ্ডও কার্যকর হয়েছে।
২৯ অক্টোবর ২০১৪ তারিখে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ জামায়াতের আমির ও বদর বাহিনীর প্রধান মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে তার মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এই রায়ই জাতির প্রত্যাশিত। বলা যায়, এর ফলে গণদাবিরই জয় হলো। জামায়াত এই রায়ের বিরুদ্ধে ৩ দিনের হরতালের (মধ্য ২ দিন বাদ দিয়ে) ডাক দিয়েছে। আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা খুব তিক্ত। যুদ্ধাপরাধী সাঈদীর রায়ের পর কি তাণ্ডব ও নৃশংসতা তারা চালিয়েছিল তা ভুলে যাওয়ার নয়। তাদের এসব তাণ্ডবই ছিল আইন, আদালত, বিচার ব্যবস্থার প্রতি চ্যালেঞ্জসম। এবারো তাই মনে হলো। তাদের সমর্থনদানকারী রাজনৈতিক শক্তি এসব রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে কোনো প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে ব্যক্ত না করলেও তাদের সমর্থন যে রয়েছে হরতালের প্রতি, এমনটি বলা যায় দ্বিধাহীনভাবেই। সম্প্রতি পত্রিকান্তরে ভারতীয় গোয়েন্দাদের বরাত দিয়ে দেশের গণমাধ্যমে প্রকাশ, ভারতে ঘাপটি মেরে থাকা বাংলাদেশি জঙ্গিদের হিটলিস্টে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াসহ অনেক রাজনৈতিক নেতা ও প্রগতিমনা মানুষের নাম রয়েছে। জঙ্গিদের হিটলিস্টে বেগম খালেদা জিয়ার নাম এবারই প্রথম শোনা গেল। বিএনপি বিষয়টিকে কিভাবে দেখছে জানি না, তবে এ কথা তো সত্য যে, এই জঙ্গিরা জামায়াতেরই সৃষ্টি। বিগত চারদলীয় জোট সরকারের শাসনামলে জঙ্গিরা দেশে কোন পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিল তাও ভুলে যাওয়ার নয়। মতিউর রহমান নিজামীসহ সব যুদ্ধাপরাধীর চূড়ান্ত শাস্তিই কাম্য। ওরা কোনো দিনই ক্ষমা পেতে পারে না। ওরা সেদিন অর্থাৎ একাত্তরে নারী-পুরুষ-শিশু-বৃদ্ধ-বৃদ্ধা-গর্ভবতী কোনো বাছ-বিচার না করে নির্বিচারে মানুষ হত্যা করেছে। আজ কেন এই যুদ্ধাপরাধীর কারো কারোর বয়স ও শারীরিক অবস্থা আমলে নেয়া হচ্ছে তা বোধগম্য নয়। তারা সেদিন কোনো কিছুই আমলে নেয়নি। মানবতাবিরোধী, যুদ্ধাপরাধের সব মামলার কার্যক্রম গতিশীল করে দ্রুত আদালতের রায় কার্যকর করতে সরকারকে আরো তৎপর হতে হবে। নিজামীদের মৃত্যুদণ্ড অর্থাৎ চূড়ান্ত শাস্তি এ দেশের শান্তিপ্রিয়, প্রগতিবাদী, মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ ও চেতনাধারী সবাইকে নিঃসন্দেহে খুশি করছে এবং করবে। আমরা বিলম্বে হলেও ইতিহাসের দায় মেটাচ্ছি। সময়ক্ষেপণ না করে এই দায় মেটানোর সব কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। কলঙ্ক মোচনে কোনো রকম শৈথিল্য প্রদর্শন কাম্য নয়। আদালতের রায়ের প্রতি সবাইকে হতে হবে শ্রদ্ধাশীল। আইনের শাসন ও ন্যায় বিচার আরো মসৃণ করতে হবে সরকারকেই। সুত্র
৫টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ঝর্ণা জল

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:২১


আমি ব্যস্তবতা দেখি
পানকৌড়ির সাঁতার-
কল্পনায় শুধু স্বপ্ন আঁকি,
মধ্যবিকাল ঢেউ তোলা সাগর
হতাশা ডিঙিয়ে যায়- নিরিবিলি
রাত দুপুরের বাসর।

উড়ে ধোয়া, নিঃশ্বাসে সাদা বক,
খেলা করে যে, প্রণয়ের চক-
নীল মেঘ ভীর জমায়, বর্ষা কাঁদাময়,
ভোরের ক্লান্তি দেখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিশীথের মুঠোয় - কেয়া ।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪



আমি সূর্যোদয়ের অপেক্ষায়,
হিমশীতল সকালের ভেতর নত চোখে চেয়ে আছি।
হিমার্ত জানালায় জমে ওঠে নিঃশ্বাসের মেঘ—
আঙুল বুলিয়ে মুছে দিই;,
যদিও জানি, আজ সেখানে তোমার পদচিহ্ন নেই।

শরতের বৃক্ষেরা পত্রমোচনের ভাষা জানে;
আমি কেবল তোমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিম করা কি হারাম?

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৬




জিম করা কি হারাম?

হ্যাঁ, জিম করা হারাম!

যদি জিমে গিয়ে নিজের পেশিবহুল বাহুডোরে কোনো ললনাকে জড়িয়ে ধরেন!

কিন্তু তারপরেও কথা থাকে।

এখানে জড়িয়ে ধরাটা হারাম। জিম করাটা নয়!

অর্থাৎ, জিমে গিয়ে শরীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কো রুবিও ভারতে কী করছেন?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২২


আওয়ামী দোসর নবনীতা আপার মতে, মার্কো রুবিও ভারতে গেছেন শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ব্যবস্থা করতে। ডিসেম্বর মাসে যাতে শেখ হাসিনা ট্রাভেল পাস নিয়ে দেশে ফিরতে পারেন, সেই আলোচনা করতেই নাকি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সুন্দর সর্বনাশ

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:২১



সবকিছুই পাওয়া যায় এখন বিপণনের কল্যাণে,
বিপনি বিতানে বিতানে;
চাইলে কিনে নিতে পারো লালনীলহলুদ মনও!

মন চাইলে পোষ মানাতে পারো বনের অবাধ্য পশুও;
শুধু পোষ মানাতে যেও না মানুষ;... ...বাকিটুকু পড়ুন

×