somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আইএসআই কানেকশন

১১ ই নভেম্বর, ২০১৫ সকাল ৮:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটির বিরুদ্ধে যে বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থা অপতৎপরতা চালিয়ে আসছে, তা হচ্ছে পাকিস্তানের আইএসআই। তারা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল ও অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করে একাত্তরের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে বদ্ধপরিকর। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর হতে অর্থাৎ ১৯৭২ সাল থেকেই তারা এই দেশটিকে পাকিস্তানী ভাবধারায় ফিরিয়ে নেয়ার জন্য সশস্ত্র অনুসারী গড়ে তুলেছে। এক্ষেত্রে তাদের সহায়ক একাত্তরের পরাজিত শান্তি কমিটি, রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনী ও তাদের পরিচালনাকারী জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলামী, মুসলিম লীগ নামক রাজনৈতিক দলগুলো। বিশেষ করে পাকিস্তানভিত্তিক রাজনৈতিক দল জামায়াত এ ক্ষেত্রে অগ্রগণ্য। তারা একাত্তরের পর পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশে পালিয়ে যায়। এরপর আবার সংগঠিত হয়। লন্ডনে দফতর খুলে তারা পূর্ব পাকিস্তান পুনরুদ্ধার প্রকল্প চালু করে। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী চীনপন্থী সশস্ত্র সংগঠন ও গ্রুপগুলো দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলতে সক্রিয় তৎপরতা চালায় আইএসআইয়ের সমর্থনে। তাদের এক নেতা ভুট্টোর কাছে পত্র লিখে অর্থ ও অস্ত্র সহযোগিতাও চেয়েছিল। ভুট্টোর জীবনীগ্রন্থে সেই পত্রের বিবরণ রয়েছে। স্বাধীনতাকে পরাধীনতার শৃঙ্খলে বাঁধার জন্য পঁচাত্তরের পটপরিবর্তন ঘটানো হয়। যে কারণে পঁচাত্তরের ৭ নবেম্বর কথিত সিপাহী-জনতার বিপ্লবকালে ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ সেøাগান ধ্বনিত হয়েছিল তাদের কণ্ঠে।
আইএসআই যে নেপথ্যে সক্রিয় ছিল তা ফুটে ওঠে পরবর্তী কার্যক্রমগুলোতে। পঁচাত্তর পরবর্তীকালে পরাজিত ও নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলোসহ যুদ্ধাপরাধীদের পুনর্বাসনে জান্তা শাসক জিয়াউর রহমান সর্বময় তৎপরতা চালিয়ে তাদের প্রতিষ্ঠিত করেন। আইএসআই তাদের ভারতবিরোধী তৎপরতা চালাতে পার্বত্য চট্টগ্রামে ঘাঁটি করে সশস্ত্র পন্থা বেছে নেয়। একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়। পাহাড়ে সশস্ত্র সংঘর্ষে অনেক প্রাণহানিও ঘটে। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোটকে আইএসআই অর্থ প্রদান করেছে বলে পাকিস্তানের পার্লামেন্টে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই নির্বাচনে জয়লাভ করে পাকিস্তানপন্থী দল বিএনপি যুদ্ধাপরাধীদের সরকারে অন্তর্ভুক্ত করে মন্ত্রী বানায়। আর শুরু হয় সংখ্যালঘু নির্যাতন। এমনকি তাদের অনেককে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়। বর্তমানে আওয়ামী লীগসহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করে যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায় আইএসআই বাংলাদেশে জঙ্গীবাদের বিস্তার ঘটানোসহ নাশকতামূলক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। জিয়ার আমল হতেই পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও লিবিয়ায় বাংলাদেশী জঙ্গীরা প্রশিক্ষণ পেয়ে আসছে। তারা এখনও জঙ্গীদের নিত্যনতুন কৌশল শিখিয়ে তা বাংলাদেশে রফতানি করছে। নব্বইয়ের দশক থেকে বাংলাদেশে বোমা হামলা চালানো হচ্ছে এসব প্রশিক্ষিত জঙ্গীর মাধ্যমে। এই জঙ্গী গোষ্ঠীগুলো মূলত জামায়াতের সদস্যদের নেতৃত্ব ও পরিচালনায় নাশকতা অব্যাহত রেখেছে। তাই দেখা যায়, জামায়াত, জেএমবি, হরকত-উল-জিহাদ, হিযবুত তাহরীর, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম, আনসার আল ইসলাম ইত্যাদি বিভিন্ন নামের সংগঠনের আদর্শ ও উদ্দেশ্য এক। এরা রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির পৃষ্ঠপোকতায়, আশ্রয় ও প্রশ্রয়ে লালিত। গত তিন বছর ধরে দেশে যে নাশকতা-নৃশংসতাপূর্ণ কর্মকা- চলছে তার নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ে আইএসআই। বহুসংখ্যক পাকিস্তানী নাগরিক বর্তমানে এদেশে অবস্থান করছে। এদের অধিকাংশই জঙ্গী প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করে আসছে। এই পাকিস্তানীরা আফগানিস্তানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত, বোমা বানানো, নাশকতায় এরা পারদর্শী। সম্প্রতি জেএমবির প্রশিক্ষক চার পাকিস্তানী গ্রেফতার হওয়ার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়েছে আইএসআই কানেকশন। সরকারের কর্তব্য হবে, এই গোয়েন্দা সংস্থার তৎপরতা বাংলার মাটি থেকে চিরতরে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া।
সুত্র
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই নভেম্বর, ২০১৫ সকাল ৮:৫৯
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এটাই কি সামুর প্রথম পোস্ট?

লিখেছেন অধীতি, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৩১


https://www.somewhereinblog.net/blog/deborah/9
২০১৩ সালের দিকে ঢাকায় আসি। তখন মাত্র মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ করেছি। ঢাকায় এসে যেই বিষয়টা নেশার মত হয়ে যায় তা হলো বিভিন্ন জায়গায় কম্পিউটার চালানোর জায়গা ছিল। ডেমরা রানী মহল... ...বাকিটুকু পড়ুন

পদ্মা ব্যারাজের ডিজাইনার : খাল বাবা স্বয়ং

লিখেছেন অপলক , ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১৮

আসন্ন বিসিএস পরীক্ষার কমন প্রশ্ন ফাঁস করে দিলাম। পদ্মা ব্যারাজের ডিজাইনার মহাপ্রতিভাবান খাম্বা/খাল বাবা। তিনি HSC ডিগ্রীধারী হলেও তার প্রতিভা আকাশচুম্বী। রবিঠাকুর বা নজরুলের সাথে তার কোন তুলনা হয় না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ ডেভেলপমেন্টে করণীয় কি?

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৬



গত কয়েক বছর ধরে সামহোয়্যারইন ব্লগ সহ দেশের সকল পত্রিকা ও টিভি চ্যানলে রাজনৈতিক লেখা বেশি আসছে যা সকলের কাছে ভালো লাগার বিষয় না। রাজনীতি ভালো লাগবে শুধুমাত্র জেনজি’দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফ্যাসিবাদ মোকাবেলায় এআই প্রশিক্ষণ দিচ্ছে সরকার

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৫৬


ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করা গেছে, কিন্তু পুরোপুরি নির্মূল করা যায়নি। অন্তত প্রযুক্তির দিকে তাকালে এমনটাই মনে হচ্ছে। যে আওয়ামী লীগ এতদিন মানুষের ভোট, মতামত, রাজপথ, রাষ্ট্রযন্ত্র সবকিছুর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা... ...বাকিটুকু পড়ুন

"টোকাই থেকে হিরো"

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৬



টোকাই থেকে হিরো! বাংলা ছবির  অশ্লীল যুগে মুক্তি পাওয়া এক ঢাকাইয়া চলচ্চিত্র। ছবিতে প্রেক্ষাপটে অনেকটা এইরকম - বস্তিতে বেড়ে উঠা; মানুষের লাথি- উষ্টা খেয়ে বড় হওয়া এক টোকাই (ছবির... ...বাকিটুকু পড়ুন

×