
তনু হত্যা বিষয় টা দিন দিন কেন যেন অন্য দিকে মোড় নিচ্ছে। আসুন আমরা সবাই সঠিক তদন্তে সবাইকে সাহায্য করি। আমার এই বিষয় টা নিয়ে লেখার কোনো ইচ্ছা ছিল না। চারদিকে শার্লক হোমস এর ছড়াছড়ি দেখে চুপ থাকতে অনেক কষ্ট হচ্ছিলো। আবশেষে লেখা শুরু করলাম।
আজ একজনের সাথে কথা বলার সময় আমি বললাম যে তনুর গায়ে আঘাতের কোনো চিহ্ন ছিল না। সাথে সাথে তার উত্তর "তাহলে তনুর গায়ে কাপড় ছিল না কেন? গায়ে এত রক্তের দাগ ছিল কেন?" আমার নিজের উপরেই বিশ্বাস হারায়ে ফেলছিলাম যে আমি ভুল করছি কি না? আসলে এখন পর্যন্ত কেউ এই কথা আমাকে বলে নি। সাথে সাথে আমি ফেসবুক এ সার্চ দিলাম তনুর কি ছবি দেওয়া হয়েছে তা দেখার জন্য। এই ছবি সবাই দেখেছে, এই ছবি দিয়েই সবাই বিচারের দাবীতে অনেক কিছু করেছে। অবশই আমরা সবাই বিচার চাই, তনু হত্যার বিচার চাই, তার ফাঁঁসি চাই, নিজের হাতে মারতে পারলে সেটাও চাই। কিন্তু আমার মনে হল কিছু জিনিস সবার জানা উচিত যেন এই ব্যাপার টা অন্য দিকে মোড় না নেয়, আমাদের দেশ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

তনুর যে ছবি নিয়ে আমরা অনেক গল্প বানিয়েছি, অনেক কথা বলেছি, অন্যদের কে শেয়ার করেছি সেটা নিয়ে আমি গুগোল করলাম। অবাক হলাম আমি ও, আমাদের তরুন সমাজের বুদ্ধি দেখে।

গত ২৪ ডিসেম্বর ২০১৫ তারিখে ভিয়েতনাম এর একটি অনলাইন পত্রিকায় "PHÁT HIỆN 3 XÁC PHỤ NỮ ĐANG TRÊN BÀN MỔ LẤY NỘI TẠNG CĂN BIỆT THỰ TẠI HẢI PHÒNG" শিরনামে একটা প্রবন্ধ লেখা হয়েছে যার বিষয়বস্তু হলো "ভিয়েতনাম এ মানবদেহের যন্ত্রাংশ পাচার।" আর সাথে এই এক ই ছবি ... আমরা তনু বলে চালিয়ে দিচ্ছি। আমার ল্যাপটপ থেকে স্ক্রিনশট নেয়া ছবিগুলো ও দিলাম।

অনেকেই আবার হয়ত বলতে পারেন তাহলে আসল ছবি দেয়া হোল না কেন? আমার ও এক ই প্রশ্ন, কেন দেয়া হোল না, কে চায়নি সত্য টা প্রকাশ পাক? কে চেয়েছে এটা নিয়ে দেশে বড় ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হোক? আসুন আমরা তাদের কে ও সমান দোষী করি যারা দেশের ১৬ কোটি মানুষের কাছে মিথ্যা ছবি প্রকাশ করেছে।

আর আপনাদের সবার জন্য আমি আবার তনুর সত্যিকার ছবি দিলাম। এই ছবি টি ঘটনার দিন রাত ১১ টা ৪৫ মিনিটে তোলা। আর আরেকটি সত্য কথা, লাশ টা যখন পাওয়া গেছিল তখন তার ড্রেস এভাবেই পরানো ছিল। যারা ১ জন ধর্ষন করেছে না কি ৪/৫ জন মিলে ধর্ষন করেছে এটা নিয়ে দ্বিধায় আছেন তাদের মনে হয় ভেবে দেখা উচিত যে আদৌ ধর্ষন করা হয়েছে কি না। আমরা আমাদের নিষ্পাপ মৃৃত বোন এর গায়ে হয়তো নিজের অজান্তেই ধর্ষিতা নামের অপবাদ জুড়ে দিচ্ছি শুধু জানা ও বোঝার ভুল এ।

আমি কাউকে উপদেশ দেওয়ার মতো কেউ না, তবু ও ছোট্ট একটা উপদেশ, "আমাদের বন্ধু ও আছে আবার শত্রু ও আছে, কিছু করার আগে একটু বুঝে নিয়ে কাজ করি যেন কোনভাবেই শত্রু রা লাভবান না হয়ে যায়।"
কয়েকদিন আগে #জুনায়েদ নাম টি নিয়ে আলোড়ন উঠেছিল নিজের সবচেয়ে কাছের বন্ধু কে অন্যের শোনা কথায় কান দিয়ে পিটানোর জন্য। ফলাফল হল, জুনায়েদ কে সবাই ছি ছি করছে। আমাদের কি উচিত না এই ছোট বিষয় থেকে শিক্ষা নেয়া??
অনেক লিখেছি। আমি ১০০ ভাগ নিশ্চিত যে, কোন মিথ্যা বা ভুল তথ্য এখানে দেই নি। কারও যদি আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার ইচ্ছা থাকে তাহলে দয়া করে প্রমান সহ করবেন, আমি মেনে নিব।
সুত্র

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

