somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মাহমুদুর রহমান ও শফিক রেহমানকে মুখোমুখি করা হচ্ছে

২৫ শে এপ্রিল, ২০১৬ ভোর ৬:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে এবং তাঁর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় অপহরণ ও হত্যা চেষ্টার পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ছাড়া আরও তিনজনের নাম বলেছেন রিমান্ডে থাকা সাংবাদিক শফিক রেহমান। দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে রিমান্ডে নেয়ার জন্য ডিবি আদালতে যে আবেদন করা হয়েছে তার শুনানি আজ সোমবার। শফিক রেহমানের বাড়ি থেকে এফবিআইয়ের যে নথিপত্র পাওয়া গেছে তা তিনি মাহমুদুর রহমানের অফিসে গিয়ে তাকেও দিয়েছিলেন এবং মাহমুদুর রহমান তা কপি করে আবার শফিক রেহমানকে ফেরত দেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানান শফিক রেহমান। মাহমুদুর রহমানকে আজ সোমবার রিমান্ডে পাওয়া গেলে সাংবাদিক শফিক রেহমানের মুখোমুখি করে জিজ্ঞাসাবাদ করবে ডিবি। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) যুক্তরাষ্ট্রের জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের ও এফবিআইয়ের তদন্তের কিছু ডকুমেন্ট সংগ্রহ করেছে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবাদ সম্মেলনে জয়ের ৩০০ মিলিয়ন ডলারের সন্দেহজনক লেনদেনসহ যে বক্তব্য দিয়েছেন তা রাজনৈতিক বক্তব্য বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম।

রবিবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মুখপাত্র ও অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ করে হত্যার ষড়যন্ত্রের মামলায় জিজ্ঞাসাবাদে সাংবাদিক শফিক রেহমান বলেছেন, ‘আমার দেশ’ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ছাড়া আরও তিনজন রয়েছেন। যে তিনজনের নাম বলেছেন তা যাছাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। ওই তিনজনের সম্পৃক্ততা থাকলে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। তবে তদন্তের স্বার্থে ওই তিনজনের নাম প্রকাশ করবেন না বলে জানান ডিএমপির মুখপাত্র।

ডিএমপির মুখপাত্র মনিরুল ইসলাম বলেন, সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ করে হত্যার ষড়যন্ত্রে বাংলাদেশ থেকে ৩০ হাজার মার্কিন ডলার পাঠানোর খবর শুনেছেন তারা। এর মধ্যে ১০ হাজার ডলার সাংবাদিক শফিক রেহমানের নামে গেছে। বাদবাকি ২০ হাজার কাদের নামে গেছে তা খুঁজে দেখা হচ্ছে। এসব তথ্য যাছাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে রিমান্ডে দেয়ার যে আবেদন জানানো হয়েছে আদালতে আজ সোমবার তার শুনানি। আদালতে রিমান্ড মঞ্জুর হলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ করে হত্যার ষড়যন্ত্র মামলায় মাহমুদুর রহমান ও শফিক রেহমানকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

ডিবি সূত্র জানায়, গ্রেফতারের পর শফিক রেহমান পুলিশকে জানিয়েছেন, এফবিআইয়ের কিছু নথিপত্র মাহমুদুর রহমানের কাছেও আছে। শফিক রেহমানকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা অব্যাহত থাকা অবস্থায় আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের বিষয়ে এ ধরনের তথ্য পাওয়ার বিষয়টিকে খুবই গুরুত্ব দিচ্ছে ডিবি। এ জন্যই মাহমুদুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়েছে আদালতে। মাহমুদুর রহমানের রিমান্ড মঞ্জুর হলে দু’জনকে মুখোমুখি করে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে শফিক রেহমানের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা এফবিআইয়ের নথিপত্র ও মাহমুদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাবে বলে আশাবাদী ডিবি।

মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক বক্তব্য ॥ ঢাকা মহানগর পুলিশের মুখপাত্র মনিরুল ইসলাম রবিবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক প্রেস বিফ্রিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের (বিএনপির মহাসচিব) ওই বক্তব্য রাজনৈতিক এবং জিজ্ঞাসাবাদে শফিক রেহমানের দেয়া তথ্যের কোন মিল নেই।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রে সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ চক্রান্তে এফবিআই কর্মকর্তাকে ঘুষ দেয়ার মামলার বিচারে তার ৩০০ মিলিয়ন ডলারের সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য উঠেছে। ওই বিচারের সূত্র ধরে শফিক রেহমানকে গ্রেফতার করা হলেও ওই লেনদেন নিয়ে কেন কথা হচ্ছে না তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিএনপির মহাসচিব। তিনি প্রশ্ন করেন, যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে পেশকৃত মার্কিন সরকারের ডকুমেন্টে ‘ইনডিভিজুয়াল ওয়ান’ অর্থাৎ সজীব ওয়াজেদ জয় ও ৩০০ মিলিয়ন ডলার অর্থাৎ প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের বিষয়টি নিয়ে সরকার টু শব্দ করছেন না কেন? শেয়ার মার্কেট ও ব্যাংকগুলোর যে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট হয়েছে তার বিচারও কেন হচ্ছে না?

ঢাকা মহানগর পুলিশের মুখপাত্র মনিরুল ইসলাম রবিবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত প্রেস বিফ্রিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের (বিএনপির মহাসচিব) বক্তব্য নাকচ করে দিয়ে শফিক রেহমান জিজ্ঞাসাবাদে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিচ্ছেন। মির্জা ফখরুলের সংবাদ সম্মেলনে দেয়া তথ্যের সঙ্গে তার মিল নেই। তিনি বলেন, আমরা জানি না যিনি বক্তব্য দিয়েছেন তার সঙ্গে শফিক রেহমানের সঙ্গে তিনি নিজে কথা বলেছেন কি-না? আমাদের ধারণা তিনি কথা বলেননি।

ডিএমপি মুখপাত্র বলেন, আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসী জানতে পেরেছে, তাকে (শফিক রেহমান) আইনের মধ্য থেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সেখানে তার ওপর কোন চাপ প্রয়োগ বা নিপীড়ন করা হয়নি। তিনি স্বতঃস্ফূর্তভাবে যে তথ্যগুলো দিয়েছেন সে তথ্যর ভেতরে সবকিছুই উল্লেখ করেছেন তিনি। জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের এবং অন্যান্য এফবিআইয়ের তদন্তের কিছু ডকুমেন্ট যেগুলো আমরা সংগ্রহ করেছি, সেগুলোতে স্পষ্ট বলা হয়েছে কী কারণে তাদের সাজা হয়েছে।

ডিবি মুখপাত্র মনিরুল বলেন, কাজেই সংবাদ সম্মেলনে (বিএনপির মহাসচিব) যে ধরনের বক্তব্য দেয়া হয়েছে সেটি তাদের রাজনৈতিক বক্তব্য। রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়ে কোন মন্তব্য করতে চাই না। শফিক রেহমানের বাসা থেকে এফবিআইয়ের গোপন নথি উদ্ধারের দাবি করলেও পুলিশ তা আদালতে জমা দেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তার আইনজীবীরা। সাংবাদিকদের এ ধরনের প্রশ্নের উত্তরে মনিরুল বলেন, মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত আলামত আমরা জব্দ করেছি। যথাসময়ে সেগুলো আদালতে জমা দেয়া হবে।

প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তাঁর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ করে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে পুলিশ ২০১৫ সালের আগস্টে রমনা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। এরপর তা মামলায় রূপান্তরিত হয়। গত ১৬ এপ্রিল ডিবি পুলিশ শফিক রেহমানকে আটক করে। পরে তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখায় পল্টন থানার পুলিশ। ওই মামলা তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। গত বৃহস্পতিবার তার পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষ হয়। এরপর গত শুক্রবার শফিক রেহমানকে দ্বিতীয় দফায় পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। এ মামলায় দৈনিক ‘আমার দেশ’ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। মাহমুদুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন জানিয়েছে ডিবি। আজ সোমবার আদালতে মাহমুদুর রহমানের রিমান্ডের আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

সূত্র
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে এপ্রিল, ২০১৬ ভোর ৬:২৫
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তেল গ‍্যাস অনুসন্ধান আর বিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে, সুদি মহাজন আর খাম্বা/কার্ড সরকারের মিথ্যাচারের জবাব॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৮



২০০৮-২০২৪ এই ১৬ বছরকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন "chronicle of shoddy gas exploration" - মানে গ্যাস অনুসন্ধানের ধীরগতির ইতিহাস।

২০০৮-২০২৪ এর মূল চিত্র

< Between 2008 and 2024, bureaucratic interference... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবননগর

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৯ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৪১



গ্রাম দেখতে কোলাহলের বাইরে গিয়ে দেখি-
কোথাও নেই একরত্তি গ্রাম!
বিলুপ্ত হয়েছে যাবতীয় সবুজ সুন্দর;
সর্বত্র বিস্তার লাভ করেছে কংক্রিটের বন!
ভ্রমণক্লান্তিতে খুব তৃষ্ণার্ত হয়ে-
জলপানাঙ্ক্ষা জানাতেই পেলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ নেপালের চেয়েও ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে।

লিখেছেন কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত), ২৯ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:২৬

বাংলাদেশ নেপালের চেয়েও ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে।



বাংলাদেশে যদি একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প বা বড় ধরনের নগর দুর্যোগ আঘাত হানে, তাহলে দেশটি নেপালের অভিজ্ঞতার চেয়েও বহুগুণ ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

চাকরির বন্যা আসার আগেই চাকরির বাজারে খরা!

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৬



জুলাইয়ের পর বলা হয়েছিল দেশে নাকি চাকরির বন্যা বয়ে যাবে। অর্থনীতি ঘুরে দাড়াবে, ২০৩০ সালের মধ্যে আমরা অর্থনীতিতে মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনামকে ছাড়িয়ে যাবো। ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিও হবে।

দেশে এমনিতেই কর্মসংস্থানের অবস্থা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কি তাহলে গুহা যুগে ফেরত যাচ্ছি?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৫০



বিশ্ব যেখানে উন্নতির প্রতিযোগিতা করছে, কীভাবে জীবনমান আরও উন্নত এবং সহজ করা যায় তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে আর আমরা ঠিক তার উল্টো পথে হাঁটছি। চারদিকে ভয়াবহ অবস্থা!! চাঁদাবাজি, খুন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×