somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রাষ্ট্রদ্রোহিতার হাল হকিকত ও বানরের হাতে কুড়াল

২১ শে জুন, ২০১৬ সকাল ৯:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর রানা দাশ গুপ্ত ও অভিনেতা পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় একটি গর্হিত অপরাধ করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নির্যাতন প্রতিরোধে এবং সংখ্যালঘুদের রক্ষায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। আমাদের সুশীল সমাজের একটি অংশ এই আবেদনকে রাষ্ট্রদ্রোহী অপরাধ হিসাবে বিবেচনা করে এদের শাস্তি দাবী করেছেন।আমাদের দেশের আভ্যন্তরীণ সমস্যা অবশ্যই আমরা নিজেরা সমাধান করব। মরব না হয় মারব। আমি এর সাথে একমত।


সম্মানিত সুশীল সমাজ এবার আসুন আমরা রাষ্ট্রদ্রোহিতার একটা হিসাব মেলানোর চেষ্টা করি।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারীরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়েছিল। যারা ১৯৭৫ সালের পরে বাংলাদেশে ফিরে এসেছিল। এদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে কি বিচার চেয়েছিলেন?

১৯৭৫ সালের বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা কারীরা বিদেশে কি বলে আশ্রয় নিয়েছিল। এদের কি বিচার আপনারা চেয়েছিলেন?

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর এর বিরোধিতা করে বিভিন্ন রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ কামনা করা বিচার বানচাল করার চেষ্টা যারা করেছেন। দিনের পর দিন পত্রিকায় টেলিভিশনে আদালতের, বিচার ব্যবস্থার সমালোচনা করেছেন। সংবিধান কে অস্বীকার করেছেন এখনো করেন। এইসব রাষ্ট্রদ্রোহিতার আওতায় পরে কিনা ?

দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী যখন অন্য দেশের সরকার প্রধানের কাছে বাংলাদেশের উপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের অনুরোধ করেন সেটি রাষ্ট্রদ্রোহিতার অংশ কিনা ?

বাংলাদেশে নিরাপত্তা হীনতার কথা উল্লেখ করে লন্ডনে বসে যারা রাজকীয় জীবন উপভোগ করছেন তাঁরা রাষ্ট্রদ্রোহিতার আওতায় পড়েন কিনা?

ইউরোপ আমেরিকা তথা ব্রিটেনে কতো লাখ মানুষ রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য দেশকে প্রতিনিয়ত বিক্রি করছেন তা কি আসিফ নজরুলরা জানেন। তাঁদের পিয়ারের বিভিন্ন সংগঠন অধিকার, আরও কি কি আছে। যারা ৫ মে শাপলা চত্বরে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেছিল কাগজে কলমে! প্রতিদিন টাকার বিনিময়ে দেশের কুৎসা লিখে কি পরিমাণ চিঠি বিদেশ দিচ্ছে সেই খবর কি রাখেন। এইসব সংগঠন কি রাষ্ট্রবিরোধীতার আওতায় আসবে।

বাংলাদেশে কোন ঘটনা ঘটলেই আমাদের সংবাদ মাধ্যমগুলো যে ভাবে বিদেশি কূটনৈতিক কে ঘিরে ধরেন মন্তব্য করার জন্য, মনে হয় বাংলাদেশ এর সব সিদ্ধান্ত বুঝি বিদেশী কূটনৈতিকরাই করে থাকেন। আভ্যন্তরীণ বিষয়ে বাইরের দেশের এই হস্তক্ষেপ কামনা কি রাষ্ট্রদ্রোহিতার আওতায় পড়েনা?

বাংলাদেশের জন্ম ইতিহাস মহান মুক্তিযুদ্ধ কে যারা বিতর্কিত করছে প্রতিনিয়ত। শহীদ বীরাঙ্গনাদের আত্মাহুতির সাথে রীতিমত ফাজলামো করছে তাদের বিরুদ্ধে তথাকথিত এই সুশীল সমাজ নীরব। রাষ্ট্রদ্রোহিতার কোন অভিযোগ ও তুলেন না বিচার ও দাবী করেন না।

কাদের মোল্লা থেকে শুরু করে মানবতা বিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া জামায়াত ইসলামের নেতাদের ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর পাকিস্তানের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে শুরু করে খোদ পাকিস্তানের সংসদ যখন প্রতিবাদ জানায় তখন কেউ জামায়াত ইসলাম বাংলাদেশ কে রাষ্ট্রদ্রোহী সংগঠন হিসাবে বিচার দাবী করতে দেখি না।

আমি ভয়ে আছি, কোনদিন না ১৯৭১ সালে জীবন বাঁচাতে ভারতে যারা শরণার্থী হয়েছিলেন তাঁদেরকে রাষ্ট্রদ্রোহী হিসাবে কেউ বিচার চেয়ে বসে।

প্রতিদিন সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন হচ্ছে। অনলাইনে চোখ রাখলেই কোন না কোন ঘটনা।যা বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে আর এরয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। পরিকল্পিত সংখ্যালঘু নিধন ছাড়া আর কিছু বলা যাবেনা। এবং প্রতিটা ঘটনার পর সংখ্যালঘু বা হিন্দু শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হবার পর এক ধরণের মানসিক দুর্বলতায় পড়ে যায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ। একধরনের আতঙ্ক কাজ করে তাঁদের মাঝে। কুপিয়ে হত্যা, ধর্ষণ, ঘরবাড়ি দখল শিক্ষক নির্যাতন যাই ঘটুক এর আগে সংখ্যালঘু বা হিন্দু শব্দটি কি খুব জরুরী?

হিন্দু , মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, আদিবাসী যেই হোক। তাঁর প্রথম পরিচয় একজন মানুষ, রাষ্ট্রের একজন নাগরিক। কিন্তু সংবাদ মাধ্যমগুলো ও যেন নাগরিক পরিচয়ের বাইরে ধর্মীয় পরিচয়কে প্রাধান্য দিতে চায়। রাষ্ট্র কি আলাদা কোন সংখ্যালঘু আইনে এদের বিচার করে নাকি সংবিধানে দেশের নাগরিক হিসাবে প্রচলিত আইনে এসব ঘটনার বিচার করে?

অনেকেই বলেন, বঙ্গবন্ধু একটি অনিচ্ছুক জাতিকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন। যার জন্য স্বাধীনতার মূল্য দিতে শিখে নি। আর আমাদের বর্তমান অনলাইন সাংবাদিকতা আর ফেইসবুকের যুগে আমি বলি শেখ হাসিনা বানরের হাতে কুড়াল দিয়ে দিয়েছেন। মিডিয়ার নাম করে যা খুশি টাই লিখছে। সত্য মিথ্যার কোন বালাই নেই।

রানা দাশ গুপ্ত ও পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় কে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদটি ও একটি মিথ্যা সংবাদ ছিল।যার প্রতিবাদ তাঁরা জানিয়েছেন।

আর সেই মিথ্যা সংবাদে আমাদের এক শ্রেণীর সুশীল গর্ত থেকে মাথা তুলেছেন। রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ তুলে বিচার দাবী করছেন। এবং এই মিথ্যা সংবাদে অনেকের মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে। তাঁদের সাম্প্রদায়িক চরিত্র ও ভারত বিদ্বেষের আসল রূপ দেখা সম্ভব হয়েছে।

বিতর্কের খাতিরে ধরেই নিলাম সংখ্যালঘুদের রক্ষায় তাঁরা ভারতের সহায়তা চেয়েছেন। খুব কি ভুল করেছেন সেটি করে। চোখের সামনে প্রতিদিন ধর্ষিত হচ্ছে, ভিটে থেকে উচ্ছেদ হচ্ছে, খুন হচ্ছে, আগুনে পুড়িয়ে মারছে। কেউ প্রতিবাদ করছে না। কোন ঘটনার বিচার হচ্ছে না। কোন কোন ঘটনার বিচার প্রক্রিয়া শম্বুকগতিতে অগ্রসর হচ্ছে। কোথাও বা গ্রেফতার হলে দিন দশেক পরেই বেড়িয়ে আসছে আসামী। ছাড়া পেয়ে দ্বিগুণ বিক্রমে তখন আবার নির্যাতন শুরু করে। ঢাকার এক বৌদ্ধ বিহারে রোজার সময় মুসলমানদের মাঝে মাস ব্যাপী ইফতার বিতরণ করছে। সাংবাদিক এক প্রবীণকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন ভিন্ন ধর্মের দেয়া ইফতার নিচ্ছেন কোন সমস্যা আছে কিনা? ভদ্রলোক উত্তরে বলেছিলেন ভাতের কোন জাত নাই।

জীবনের ও কোন জাত নাই। বেঁচে থাকাটাই সত্য। বাকি সব মিথ্যা। সংখ্যালঘুরা যদি বেঁচে থাকতে সাহায্য প্রার্থনা করে থাকে, খুব কি ভুল করেছে। একটা প্রবাদ আছে ‘’ ভাত দেয়ার মুরোদ নেই কিলাইবার ঠাকুর’’ (বউকে ভাত দিতে পারে না কিন্তু পিটানোর জন্য উস্তাদ)।

আমাদের অবস্থা ও তাই। বাংলাদেশ সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে পারছে না । আবার তাঁরা যদি নিরাপত্তা খোঁজার চেষ্টা করে তবে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে বিচার হবে। আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন এরপরে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করান সমস্যা নেই।
সুত্র
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে জুন, ২০১৬ সকাল ৯:০৩
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মিলাদুন্নবী: ভালোবাসার নবী, মানবতার শ্রেষ্ঠ আদর্শ

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৮


মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মদিন বা মিলাদুন্নবী শুধু একটি ঐতিহাসিক স্মরণদিন নয়; এটি মানবতার জন্য এক মহান আদর্শের কথা স্মরণ করার উপলক্ষ। তাঁর আগমন ছিল এমন এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ একটি পরিচ্ছন্ন শৌচাগার

লিখেছেন রাজসোহান, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৮



বাড়িটা দেখতে বাড়ির মতো না, যেনো একটা ঘোষণা। দ্যাখো, আমি কে।

গেটে দুইটা সিংহ, পাথরের, মুখ হাঁ করা; সিংহ দুইটা কী পাহারা দিচ্ছে তারা নিজেরাও জানে না। ভিতরে উঠান... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪২


ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঁধনের কেন ফেমিকন লাগে !!!

লিখেছেন অপলক , ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৩৪



বাঁধন এখন বন্ধন মুক্ত। মিডিয়া পাড়ায় সরব উপস্থিতি। উপর মহলের ডাকে সারা দিতে হয়। কাজেই ফেমিকন লাগতেই পারে। মানে ফেমিকনের এ্যাড করা লাগতেই পারে। মিডিয়া আইকন হিসেবে জনসচেতনাতা বাড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“উন্নয়নের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ”

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৮



বাং/লাদেশের মূর্খ জনগণ উন্নয়নের চেয়ে কথিত ফ্যাসিবাদকে বড় করে দেখেছে কিন্তু “উন্নয়নের দুর্ভিক্ষ” কি জিনিস তা দেখেনি।

দেখতে থাকুক….। আর ভাতের দুর্ভিক্ষ শুরু হলে বলে…..।

ফ্যাসিবাদ দূর করতে গিয়ে উন্নয়নই "নাই"... ...বাকিটুকু পড়ুন

×