somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইউরোপের অনেক দেশ থেকে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ঈর্ষণীয়

২৬ শে ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ১২:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


প্রাচ্যের দেশগুলো অনেক দূর এগিয়ে গেছে। ইউরোপের অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ওদের কাছে যথেষ্ট ঈর্ষণীয়।

বিংশ শতাব্দী ছিল পশ্চিমের আর একবিংশ হয়ে উঠবে প্রাচ্যের। এমনটাই মনে করেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ বিষয়ক বাণিজ্য দূত রুশনারা আলি। তিনি যুক্তরাজ্য পার্লামেন্টে একজন নির্বাচিত এমপি। গত বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ হাইকমিশনারের বাসভবনে এ কথা বলেন তিনি।
গত সপ্তাহে বাংলাদেশ সফর করেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই ব্রিটিশ রাজনীতিক। এ সফরে তিনি প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেত্রী, বিএনপি চেয়ারপারসন, বাণিজ্যমন্ত্রীসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং দুই দেশের বাণিজ্যবিষয়ে আলোচনা করেন। রুশনারা আলি ঢাকার প্রশংসা করে জানান, দারিদ্র্য নিরসন করে সমতা অর্জনের জন্য দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করে যাচ্ছে। সক্ষমতার সব চেষ্টা শিকড় থেকে মজবুত হতে হবে। সততার সঙ্গে পণ্য উৎপাদনের পাশপাশি জনগণের অধিকার অনুশীলন ও শ্রমিকের কাজের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ এবং সেরা মজুরি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশের বাণিজ্য গোটা বিশ্বে বিকশিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন রুশনারা। তিনি বলেন, শুধুমাত্র ব্রিটেন ও বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণের দিকে চোখ বুলালেই তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। অতীতে আমার বাবা এবং আত্মীয়স্বজন ব্রিটেনে শুধু সেখানকার পণ্যই ক্রয় করতেন। আর এখন আমি সেখানে বসে বাংলাদেশের পণ্য হাতের নাগালে পাচ্ছি। শুধু তাই নয়, গড়ে উঠেছে বাংলাদেশি চেইনশপও। বর্তমানে আড়াইশ ব্রিটিশ কোম্পানি এদেশে বিনিয়োগ করেছে। এই সংখ্যাই প্রমাণ করে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক কতটা সুদৃঢ়।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য বাণিজ্যিক সম্পর্কের ভিত্তি-দুই দেশের বন্ধুত্ব ও সৌহার্দের সম্পর্ক। ব্রিটেনে পাঁচ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি কমিউনিটির মানুষ রয়েছেন; যারা সুযোগ পেলেই যার যার অবস্থান থেকে বাংলাদেশকে তুলে ধরেন, বিভিন্ন ফোরামে বাংলাদেশ নিয়ে কথা বলেন। যা ব্রিটিশ সরকার এবং নীতিনির্ধারকদের বংলাদেশ নিয়ে ইতিবাচক ভাবনা ভাবতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রতি ব্রিটেনের বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। বিশেষ করে, গত এক দশকে বাংলাদেশ যেভাবে উন্নতি করেছে; তা সত্যিই ব্রিটেনের সরকার ও বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের নজর কেড়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ বাণিজ্যের জন্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও বাংলাদেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। সে সঙ্গে প্রয়োজন আরও কিছু সংযোজন বিয়োজনের। কিছু কিছু বাণিজ্যের ওপর যেসব নিষেধাজ্ঞা রয়েছে বাণিজ্যে সম্প্রসারণের জন্য সেগুলোকে সচল করা দরকার। এ ছাড়া ব্রেক্সিট নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার সুযোগ নেই বলে মতামত ব্যক্ত করেন রুশনারা আলি। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনো সময় আসেনি। ব্রেক্সিট বাস্তবায়নে আরও সময় লাগবে। আগামী দুই বছর ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এ বিষয়ে অনেক সুযোগ রয়েছে। অহেতুক উদ্বিঘ্ন হওয়া ঠিক হবে না। ব্যবসায়ীরা কী পাচ্ছেন এবং পরবর্তীতে কী সুযোগ পেতে পারেন সেটা নিয়ে দ্বিপক্ষীয় ব্যবসায়িক আলোচনা হতে পারে। যুক্তরাজ্যে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে আলাদা হলেও বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের অমিত সম্ভাবনা থাকবে বলে জানান রুশনারা।

এদিকে ঢাকা-লন্ডনের সরাসরি কার্গো ফ্লাইটের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রুশনারা বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে গোটা বিশ্বেই নিরাপত্তা ইস্যুটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ব্রিটেনেও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে‘সর্বোচ্চ গুরুত্ব’ রয়েছে। যখন এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলো সেখানকার জনগণ আশ্বস্ত হলো। এ সফরে এখানকার অনেক নীতিনির্ধারকদের সঙ্গেও এ ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বেশ ভালো করছে যার যার অবস্থান থেকে। একটা সময় তাদেরকে খাটো করে দেখা হতো যা এখন পাল্টে গেছে। এ ছাড়া ব্রিটেনে গত নির্বাচনে একাধিক বাংলাদেশি জয়লাভের পর বাঙালি কমিউনিটির মাঝে স্থানীয়রাও আশার আলো দেখছেন।

রুশনারা বলেন, সর্বশেষ নির্বাচনে জয় লাভের পর অনেক পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছি ব্রিটিশদের দৃষ্টিভঙ্গিতে। আমি নিজে যখন প্রথমবার নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিলাম অনেকেই নাক শিটকে বলত; ইউ উইল গো টু পার্লামেন্ট! অথচ জয় লাভের পর বুঝতে পারে তাদের ভ্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গি। ইতিমধ্যে কিছু লিডারশিপ প্রোগ্রামও চালু করা হয়েছে। যেখানে বাংলাদেশি অনেক তরুণ-তরুণী প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। ভবিষ্যতে ব্রিটেনের রাজনৈতিক অঙ্গনে এগুলো অনেক সহায়ক হবে বলে মনে করি।
সূত্র
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ১২:৪৮
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জগন্নাথবাসীগণ, আমার কথা শুনছেন কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

জগন্নাথবাসীগণ,
আপনাদের গরু কোরবানি যদি হযরত জাবের (রাঃ)-এর মতো
নবীজীর সম্মানে হয়ে থাকে, তাহলে মোবারকবাদ।
আর, শুধু প্রতিবাদ দেখাতে একটি অবলা পশুকে হত্যা করে থাকলে,
তার জন্যে খোদার দরবারে বিচার দিলাম।
...বাকিটুকু পড়ুন

রংয়ের মানুষ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৫০


গ্রেট মাদ্রাজ ফ্যামিন যখন অনুপ্রেরণার উৎস
একদিন আমাদের সবার প্রিয় সংসদ সদস্য আমির হামজা ওয়াজে বেশ গরম গরম কথা বলছিলেন। মহান আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টির সৌন্দর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হঠাৎ রাশমিকা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনন্দন নাবিহা সাকলায়েন: ৩০ বছর পরের এআই পটেনশিয়াল

লিখেছেন কলাবাগান১, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৩৮


কনসেপ্ট টা খুবই সোজা...পৃথিবীর তাবত মানুষ ই জানে যে আপনার বিশ বছর বয়সে শরীরে যে কোষ গুলি আছে তা আপনার ৬০ বছর বয়সের কোষ আর সেইম না ..লম্বা সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

লক্ষ্মীপুরের সুপারি থেকে উপকূলের অর্থনীতি: কৃষিজ সম্পদই পারে গ্রামীণ ভাগ্য বদলাতে

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮


বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলে এমন কিছু নির্দিষ্ট ফল, ফসল বা মৎস্য সম্পদ প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত হয়, যা শুধু স্থানীয় চাহিদা মেটায় না, বরং পুরো অঞ্চলের অর্থনীতিতে জোরালো প্রভাব ফেলে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

×