somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রিজভীকে সংবাদ সম্মেলন না করার পরামর্শ জাফরুল্লাহর

১৫ ই জানুয়ারি, ২০১৭ সকাল ৯:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বিভিন্ন বিষয়ে নিয়মিত সংবাদ মাধ্যমের সামনে আসা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে সংবাদ সম্মেলন করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।


শনিবার রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় রিজভীর কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বিএনপি সমর্থক এই পেশাজীবী নেতা বলেন, “উনি প্রতিদিন স্টেটমেন্ট দিয়ে বেড়ান, কারও সাথে আলাপ না করে ঘোষণা দিয়ে কিছু একটা করে কাগজ ছেড়ে দেন। এতো বড় দলের ইয়েকে তো উপদেশ দেওয়া যায় না, এই ধৃষ্টতা আমার নেই। তবে একটা সুপারিশ করতে পারি।

“রিজভী সাহেব অনুগ্রহ করে আর প্রেস কনফারেন্স করবেন না, আর প্রেস নোট ছাপবেন না।”

রিজভীকে নিয়ে এক আত্মীয়ের বক্তব্য তুলে ধরে জাফরুল্লাহ বলেন, “আজকে সকালে এখানে আসার জন্য তৈরি হচ্ছিলাম, তখন আমার এক আত্মীয় বললেন, সেখানে যদি রিজভী সাহেব থাকেন, তাকে একটা কথা বইলেন। এটা বোঝে না দেশের মানুষ কী শুনতে চায়, ঘরের মধ্যে থেকে শুধু...।”

তার ওই কথা শুনে সাবেক সামরিক শাসক এইচএম এরশাদের কথা মনে পড়ে যায় বলে জানান জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

“যখন এরশাদ সাহেব ক্ষমতায় ছিলেন, তখন উনি প্রতিদিন টেলিভিশনের পর্দায় আসতেন। আমার ছোট মেয়ে ছিল বৃষ্টি। সে বলত যে, বাবা- হু ইজ দ্যাট টেলিকাস্টার, হু কামস এভরি ডে। না না বৃষ্টি, হি ইজ আওয়ার প্রেসিডেন্ট এরশাদ।”

পরে এরশাদের সঙ্গে দেখা হলে আট-নয় বছরের মেয়ের ওই প্রশ্ন তাকে জানিয়েছিলেন এবং তাতে কাজ হয়েছিল বলে জানান তিনি।

“উনার (এরশাদ) বুদ্ধি ছিল বলে এরপর থেকে উনি টেলিভিশনে এত বেশি আসতেন না। দুর্ভাগ্য, বিএনপির মাথায় সেটাও নাই, তারা সব কিছু জানে।”

সরকার মিছিল করতে দেয় না অজুহাত দেখিয়ে রুহুল কবির রিজভী সংবাদ সম্মেলন করেন বা বিবৃতি দেন বলে মন্তব্য করেন জাফরুল্লাহ। তা না করে ঢাকার ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে গিয়ে সভা-সমাবেশ করলে তাতে বিএনপি লাভবান হবে বলে মনে করেন তিনি।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উপস্থিতিতেই রিজভীর সমালোচনা করেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উপস্থিতিতেই রিজভীর সমালোচনা করেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী

রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ নামের একটি সংগঠন আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকেও নানা পরামর্শ দেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি জাফরুল্লাহ চৌধুরী।
সরকারবিরোধী ছোট-বড় সব দলকে নিয়ে ‘সম্মিলিত বিরোধী দল’ গঠনের জন্য্ খালেদা জিয়ার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

তা না হলে বিএনপিকে বহুদিন বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “ওই মূল আসনে যেতে পারবেন না। মূল আসনে যেতে হলে জিয়াউর রহমানের জিনিসগুলো উপলব্ধি করতে হবে, জনগণকে উপলব্ধি করতে হবে, অন্যের কথা শুনতে হবে। নিজেদের এতো পণ্ডিত ভাবলে চলবে না।”

যে কোনো বক্তব্য দেওয়ার আগে বিএনপি নেতৃত্বকে অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ, মাহবুবউল্লাহ, মাহফুজউল্লাহ ও দিলারা চৌধুরীর মতো যেসব ব্যক্তি আছেন তাদের সঙ্গে আলোচনা করার পরামর্শ দেন তিনি।

“নিজেদের এতো পণ্ডিত মনে করলে হবে না। জিয়াউর রহমান এটা মনে করতেন না। জিয়া সন্ধ্যা থেকে রাত ৪টা পর্যন্ত নানা মানুষের সাথে আলাপ করতেন,” বলেন তিনি।

খালেদা জিয়াকে শিমুল বিশ্বাসের পাশাপাশি আরেকজন নারী সহকারী রাখার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “উনি সকাল ৮-৯টার সময় গুলশানের বাসায় যাবেন, দিনের ১-২টা পর্যন্ত থাকবেন, কর্মীদের সাথে নেত্রীর দেখা করানোর ব্যবস্থা নেবেন।”

বিএনপির ‘১০ হাজারের মতো’ নেতা-কর্মী এখন কারাগারে আছেন জানিয়ে তাদের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে খালেদা জিয়ার প্রতি আহ্বান জানান জাফরুল্লাহ।

“তাদের সকলকে ফোন করে খোঁজ নেওয়া, তার মায়ের খোঁজ নেওয়া, বউয়ের খোঁজ নেওয়া। নেত্রীকে বলব- এসব করুন। দেখেন কী রকম জাগরণ সৃষ্টি হয়। আমি বলব, জনগণের সাথে সম্পৃক্ত হন, ওই আবরণের বোরকা ছেড়ে দিয়ে রাস্তায় নামুন, তাহলে দেখবেন যে আপনার উন্নতি হবে,” বলেন তিনি।

ওই অনুষ্ঠানে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাদের গুটি কয়ের উপস্থিতিতেও হতাশা প্রকাশ করেন জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

“আজকের এখানে ৫৭২ জনের কমিটির কজন উপস্থিত আছেন? যে দলের এ রকম অবস্থা হয় তাদের ভবিষ্যৎ খুব বেশি উজ্জ্বল না। তাদের অনেকদিন বক্তৃতা দিয়ে বেড়াতে হবে। সেই বক্তৃতা হচ্ছে প্রেস কনফারেন্স করা।”

‘ভারতপ্রীতি’ দিয়ে বিএনপি কখনও ক্ষমতায় আসবে না মন্তব্য করে কাশ্মির পরিস্থিতি, বাংলাদেশের ওপর দিয়ে ট্রানজিট সুবিধা-এসবের বিষয়ে দলটির নেতাদের সরব হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সুত্র
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জানুয়ারি, ২০১৭ সকাল ৯:০৪
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৭

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিট। গুলশানের একটি হাসপাতালে থেমে গেল ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের হৃদয়- দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর।

আর ঠিক তখন, শহরের অন্য প্রান্তে, মুন্সিগঞ্জ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঈশ্বর আমার সঙ্গে আছেন

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:১০



যুদ্ধের আগে
আকাশের দিকে তাকিয়ে,
মানুষ নিজ নিজ পতাকা ঈশ্বরের রঙে রাঙায়।

প্রথম আঘাতের পর,
প্রথম রক্তের ফোঁটা মাটিতে পড়ার পূর্বে,
মানুষ আকাশের দিকে তাকিয়ে বলে—
"ঈশ্বর আমার সঙ্গে আছেন।"

প্রতিটি যুদ্ধের আছে একেকটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×