somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মাদকাসক্তি নির্মূলে কমিউনিটি পুলিশিং

১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ভোর ৬:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


একজন অল্পবয়সী ছেলে বা পরিণতবয়স্ক মানুষ কেন মাদক গ্রহণ করে? প্রথমেই হতাশার কথা বলি, হতাশা মানুষকে নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। হতাশাগ্রস্ত ব্যক্তি কোনো উপায় না পেয়ে মাদক সেবন করে একপর্যায়ে। কেউ কেউ আবার বন্ধুদের সঙ্গে মিলে সিগারেট খেতে খেতে একসময় মাদক ধরে ফেলে। ভঙ্গুর পরিবারের সদস্যরা সহজেই মাদকের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। বেকারত্ব থেকেও মানুষ জীবন সম্পর্কে বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়ে। কারণ প্রত্যেক মানুষের কাজ দরকার। শখের বশবর্তী হয়ে খাওয়া, প্রেমে ব্যর্থতা, সমাজে আদর্শ ব্যক্তির অভাব, শারীরিক সমস্যা, একাকীত্ব ও মানসিক অশান্তি, দাম্পত্য কলহ, মাদকের সহজলভ্যতা প্রভৃতি কারণে একজন মানুষ মাদকাসক্ত হতে পারে।

মাদকাসক্তরা যে কতটা কষ্টকর ও অমানবিক জীবন-যাপন করে, তা চোখে না দেখলে বোঝা যাবে না। যাহোক ওরা আমাদের ভাই-বোন, সন্তান, ওদেরকে রক্ষা করতে হবে; ফিরাতে হবে স্বাভাবিক সুন্দর জীবনে। আমরা খুব চেষ্টা করেছিলাম মাদক সরবরাহ বন্ধ করার জন্য এবং কমাতেও পেরেছিলাম। ফলে ফেন্সিডিলের দাম বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু অভ্যন্তরীণ চাহিদা থাকায় বিকল্প একটি মাদক দেশের ভেতর তৈরি হতে থাকলো। মাদক মূলত দু’ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। প্রথমত, চাহিদা (ডিমান্ড) কমিয়ে এবং দ্বিতীয়ত, সরবরাহ (সাপ্লাই) কমিয়ে। কিন্তু যেহেতু আমাদের দেশে মাদক প্রবেশ করে জল, স্থল ও অন্তরীক্ষ দিয়ে। সুতরাং আমাদের চাহিদা (ডিমান্ড) কমানোর উপর জোর দিতে হবে। এক মাদক ব্যবসায়ীকে ধরার পর ইন্টারোগেশনে জানা যায় মাদক খুবই লাভজনক এক ব্যবসা। কেউ যদি একবছর এ ব্যবসা করে তাহলে সে কোটিপতি হয়ে যাবে। সুতরাং এহেন লাভজনক ব্যবসা থেকে লোভী ব্যক্তিরা সহজে বের হবে না। সেজন্য আমাদের ডিমান্ড কমাতে হবে।

ডিবিতে থাকাকালীন মাদক উদ্ধারে অনেক অপারেশন করেছি। দেখা গেছে, দেশে মাদক ব্যবসার একটা বিরাট অংশ, বিশেষ করে বেচা-কেনা ও পরিবহন (ক্যারি) করা হয় মহিলা ও শিশুদের দ্বারা। দরিদ্র পরিবারের মহিলা ও শিশুদের এ ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। মাদকের চাহিদা কমানোর পাশাপাশি সমন্বিতভাবে সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থা কর্তৃক অভিযান পরিচালনা করে মাদকের সরবরাহ বন্ধ করতে হবে। মাদক ব্যবসায়ী, বিশেষ করে বড় ব্যবসায়ীরা সাধারণত ধরা-ছোঁয়ার বাইরেই থাকে। তাদেরকেও আইনের আওতায় আনতে হবে। একসময় কারওয়ান বাজারের রেলগেট বস্তিতে একজন মহিলা ব্যাপকভাবে মাদকের ব্যবসা শুরু করলো। কিন্তু তাকে কোনোভাবে ধরা যাচ্ছিল না। এক কোরিয়ানকে ধরার পর সে ঐ মহিলার নাম বলে। তখন আমি সাব-ইন্সপেক্টরকে নির্দেশ দিলাম ঐ মহিলার নাম এজাহারে অন্তর্ভুক্ত করতে। পরে ঐ মহিলাকে ধরা হয়েছিল। এভাবে কৌশলে বড় মাদক ব্যবসায়ীর নাম মামলায় আনতে হবে এবং তাদেরকে ধরতে হবে। শুধু মাদকের সরবরাহ কমিয়ে বা মাদক উদ্ধার করে এ সমস্যার সমাধান হবে না। মাদকাসক্তরা অসুস্থ, তাদেরকে চিকিত্সা করাতে হবে। তাদেরকে পুনর্বাসন করতে হবে। এদের সংখ্যা খুব একটা বেশি না। একযোগে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিকগুলোতে চিকিত্সা দিতে হবে। সেই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা কর্তৃক অভিযান পরিচালনা করা যেতে পারে এবং সরবরাহ কমাতে হবে। চিকিত্সা নেয়ার পর সে যখন সমাজে ফেরে, তখন সমাজের লোক তাকে ভালোভাবে নেয় না। কেউ বলে সে মাতাল, আবার কেউ বলে পাগলা। তাকে অসম্মান বা ভর্ত্সনা করা যাবে না, তাকে কাজ দিতে হবে। তাদেরকে সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনতে হবে।

মূলত সমাজের সকল গোষ্ঠী বা কমিউনিটিকে একত্রে ইতিবাচকভাবে কাজ করতে হবে। এখন কমিউনিটি পুলিশিং শুধু পুলিশের কাজে ব্যবহার করলে হবে না। এটা এখন এক দর্শন। এ দর্শনকে কাজে লাগিয়ে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে বিপথগামী এবং মাদকাসক্তদের চিকিত্সা ও পুনর্বাসন করে জাতিকে অভিশাপমুক্ত করতে হবে। তাহলেই মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের কাজ সফল হবে।
সূত্র
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ভোর ৬:৫২
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=মনে রং নেই আর=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৫২


মন তো ছিল গোলাপী রঙ আভায় বন্দি, মন ছিল চন্দ্র মল্লিকা,
মন আর সেই মন নেই, মনের চারিপাশে এক সমুদ্দুর কুহেলিকা;
মন যেন পাথর হয়ে আছে, নেই অফুরন্ত ফুরসত
মন গোলাপী রঙ নয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতটা নির্লজ্জ বেহায়া ভিসি সারা দুনিয়াতে নেই-- ছি:

লিখেছেন অপলক , ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০১

একটা মানুষ কতটা নির্লজ্জ হতে পারে, সেই সাথে ক্ষমতার+ টাকার+ সরকারী সুবিধাদী পাবার কাঙ্গাল হতে পারে, চুয়েটের ভিসি (Vice-Chancellor) কে না দেখলে জানতেই পারতাম না। এতদিন শুধু লোভী বলে বুবু... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ, রাজনীতিতে আতঙ্ক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:৫০


দেশে এখন যারা ক্ষমতায় আছেন, তারা মধ্য ডানপন্থী রাজনৈতিক দলের মানুষজন । সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে আছেন প্রবীণ নেতা নিতাই চন্দ্র রায়। এই অবস্থায় শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে দেয়ালে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথের ধর্মীয় পরিচয়, গ্রাফিতিতে চুনকালি ও পলিটিক্যাল ইসলাম

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:০৪


রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজন প্রগতিশীল লেখকের লেখা পড়ে আমি হতাশ ও বিস্মিত হয়েছি। তাঁদের মধ্যে একাধিকজন লিখেছেন, রবীন্দ্রনাথ হিন্দু ছিলেন না, তিনি ছিলেন ব্রাহ্ম।... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথের নামে কত শত অভিযোগ

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০৫


*রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নাকি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা চুরি করে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন! বাস্তবতা হলো, রবীন্দ্রনাথ যখন নোবেল পান, নজরুল তখন লেখালেখেই শুরুই করেননি। তাঁর বয়স সবে ১৪ ছিল।

প্রাপ্ত বয়সে নজরুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×