somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আসুন সর্বাগ্রে সময়টাকে চিনতে শিখি

১৯ শে জানুয়ারি, ২০১৫ রাত ৮:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আপনি অনবরত বকবক শুনতে শুনতে বিরক্তবোধ করেন। তাহলে কি আপনাকে কারো বকে চলা অনবরত ‘বকবক’ প্রভাবিত করল? হয়তো। নয়তো আপনি বিরক্ত হলেন কেন। এখানে আপনি চাননি কেউ বকবক করুক এরপর আপনি বিরক্তিবোধ করবেন। বরং আপনার পক্ষ থেকে এই বিরক্তবোধের জন্য কোন প্রকার কর্মতত্পরতা ছাড়াই সম্পূর্ণ ‘উড়ে এসে জুড়ে বসার মতো’ কারো বকবক আপনাকে ‘বিরক্তিবোধ’ এর ভাবে প্ররোচিত করতে সক্ষম হয়েছে। এমনকি কখনো আপনাকে উত্তেজিত করতে আবার কখনো কোন স্বার্থের হিসাব-নিকেশ ছাড়াই মারামারি করতেও। শুধু এক অর্থহীন বকবকই আপনার ইচ্ছা না থাকা সত্তে¡ও আপনাকে যদি এতটা প্ররোচিত করতে পারে তাহলে যা ‘বকবক’ নামের অর্থহীন প্রলাপ নয় তা কতটা করতে পারে!

হ্যাঁ, আপনি চান বা না চান, চারপাশের কথা, লেখা, আর ঘটনাবলী দ্বারা আপনি এভাবেই প্ররোচিত হন। চারপাশের ঘটনাবলী, আলাপচারিতা এভাবেই আপনাকে প্ররোচিত করে। প্ররোচিত না হওয়ার জন্য মানুষের সামনে কতগুলো বাধা থাকে। আপন বিশ্বাস, আস্থার সংকট, এক ধরণের কথা, লেখা ও ভাবনার সাথে সাথে ভিন্নধর্মী কথা, ভাবনা ও লেখার অবস্থান ইত্যাদি। আর এই সবগুলো সংকট কাটিয়ে দিতে পারে আর কাটাতে না পারলেও অন্তত দুর্বল করতে পারতে অনবরত ‘আধিক্য’। অর্থাৎ কোন বিশ্বাস, বিষয় বা বক্তব্যের অনবরত উপস্থিতি, উপর্যুপরি আঘাত, প্রচার প্রাচুর্য দুর্বল করে দিতে পারে বিপরীত মেরুর অবস্থান, বিশ্বাস, ভাবনা ও বক্তব্যকে।

হ্যাঁ, বিশ্বাস বা বক্তব্যকে শানিত করার জন্য অন্তত রক্ষার জন্য পর্যাপ্ত রসদ-যোগান যদি ব্যক্তি নিজের থেকেই তৈরি করে নিতে পারে, এই পরিমাণ মেধা বা খোদাপ্রদত্ত আত্মশক্তি যদি ব্যক্তির নিজের ভেতরেই থাকে, অথবা নিজেকে রক্ষার জন্য পর্যাপ্ত জানাশোনা, প্রশিক্ষণ যদি ব্যক্তির কোথা হতে গ্রহণ করা থাকে তাহলে অবশ্য ভিন্ন কথা। কিন্তু এটাই বাস্তবতা যে, সমাজের সিংহভাগ লোক এই দুই শ্রেণির কোন শ্রেণিরই নয়। অধিকাংশই সাধরণ শ্রেণির, আম মানুষ। অতএব তত্ত¡কথা যাই হোক সমাজে প্রচার-প্রাচুর্যেরই জয়জয়কার। বলব না সে প্রচার-প্রাচুর্য কেবল মিডিয়ার মাধ্যমেই হতে হবে। বরং অন্য অনেকভাবেই হতে পারে। তবে এটা অবশ্য বলতেই হবে, মিডিয়া ছাড়াই প্রচার-প্রাচুর্যে আপনি জয়ী হয়ে যাবেন, আর হতে পারলে পরিণামে টিকেও যাবেন হাল যামানা মে এ বহুত দূর কী বাত হে!

বলবেন টিকে তো আছি। কিন্তু এখনও যে পরিমাণ শক্তি-সামর্থ আপনার তা নিয়ে আপনার শুধুই কি ‘টিকে থাকা’র কথা ছিল। আপনি ভাবছেন, শুধু টিকে আছেন; এটা কি ভেবে দেখেছেন যে, পূর্বের চেয়ে আপনার টিকে থাকার সামর্থ কতটা কমেছে অথবা এখনও প্রতিনিয়ত, প্রতিদিন তা কমছে। ক্রমশ ক্ষয়ে যাওয়ার হিসাবটা আপনি করেন না, করলে বর্তমান নিয়েই তুষ্ট থাকার মানুষ আপনি হতেন না। বেঁচে থাকার জন্য, অতীতকে কেবল তুষ্টি লাভের জন্য সামনে না এনে হিসাবের জন্যও সামনে আনতে হয়। দেখতে হয় কতটুকু এগুলাম অথবা পিছু হটলাম। কতটা হওয়ার ছিল কতটা হয়েছে। কল্পিত চাহিদা দিয়ে নয় সময় বাস্তবতার চাহিদা দিয়েই মাপতে হয় অগ্র-পশ্চাতের হিসাব। এরপর খুঁজে বের করতে হয় পশ্চাদপদতার প্রকৃত কারণ ও তার প্রতিকার। কল্প-রাজ্যের অধিবাসীরা কোনদিনই যা পারে না। কল্পিত আত্মতুষ্টির ঘোরাটোপ এদেরকে এই বাস্তবতার নির্মমতা থেকে বিমুখ রাখে।

কি রাজনীতি, অর্থনীতি, আইন-আদালত, ব্যবসা-বাণিজ্য, সংস্কৃতি, আচার-অনুষ্ঠান, বোধ-বিশ্বাস, কোথায় নেই এই মিডিয়ার প্রভাব। প্রচারনার জাদু। প্রচার শক্তির ব্যবহার তো সৃষ্টির শুরু থেকেই। যেদিন থেকেই মানুষ ভাবতে শিখেছে। কিছু করতে শিখছে। কী করবে ও ভাববে তার জন্যই প্রয়োজন হয়েছে কিছু একটা প্রচারের। এরপর পৃথিবীতে যত ভাব, ভাবনা ও আদর্শের উদ্ভব ঘটেছে প্রচারণাতেই ঘটেছে তার বিস্তার। প্রচারহীন চিন্তা-ভাবনা ভাবুকের মনের আড়ালেই রয়ে গেছে। পৃথিবীর আলো-বাতাস দেখেনি। এই কিছুদিন পূর্ব পর্যন্তও এই প্রকাশ ও প্রচারণার একমাত্র মাধ্যম ছিল মানুষের মুখ ও হাতের লেখনি। সুতরাং প্রচারণার জন্য এই মুখ হাতের সংখ্যা যত বাড়ানো যাবে ততই বাড়বে প্রচার-প্রাশিদ্ধি। হ্যাঁ, কিছুদিন পূর্ব পর্যন্তও হিসাব নিকাশটা এমনই ছিল। লোকবলের বেড়ে চলার উপর নির্ভর করত প্রচার-প্রসারের প্রবৃদ্ধি। এরপরই মানুষ এক আধুনিক যুগে প্রবেশ করল। প্রযুক্তির কল্যাণে আবিস্কার করল একটি কণ্ঠকে লক্ষ্য কণ্ঠে রূপ দেওয়ার মাধ্যম। ফলে হিসাবটা চলে আসল প্রচারশক্তির কারিশমা দেখার জন্য লোকবল নয় এই প্রযুক্তি কার কতটা দখলে আছে। এই প্রযুক্তি কে কতটা মুন্সিয়ানায় ব্যবহার করতে পারছে। ফলে এখন একটি কণ্ঠ দিয়েই লক্ষ কণ্ঠের আওয়ার চুপসে দেওয়া সহজ। সহজ লক্ষ কণ্ঠের আওয়াজের উপর দশটি মানুষের কণ্ঠ গমগম করে বাজানো। প্রচার শক্তির দানবীয় এই মাধ্যমই পরিচিতি পেয়েছে গণমাধ্যম নামে। আরেক নামে এটাকে আমরা মিডিয়াও বলি।

আপনি রাজনীতি করেন, ব্যবসা-বাণিজ্য চালান, আইন-আদালতে যান অথবা করেন আদর্শের প্রসার ও প্রচারের কাজ; যাই করেন আপনার প্রচুরের পরিশ্রমকে পণ্ডশ্রমে পরিণত করতে পারে এই মিডিয়া। আবার এর ঘাড়ে যদি সওয়ার হতে পারেন তাহলে আপনার সামান্য শ্রমকেই বৃহৎ থেকে বৃহৎ শ্রমের বিনিময়ে সাধ্য ফল ও সুফল লাভের উপযুক্ত করে তুলতে পারে। আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন, অন্য আর কোন কিছুকেই এর বিকল্প আপনি দাঁড় করাতে পারবেন না। যদি এই বাস্তবতার ময়দানে কিছুমাত্র অভিজ্ঞতার সঞ্চয় থাকে বলবেন- বিকল্প? কল্পনাই করা যায় না।

এ দুনিয়ায় আপনি যাই করেন, সফলতার সর্বপ্রধান শর্ত হল, আপনি যে সময়টাতে অবস্থান করছেন সর্বাগ্রে সে সময়টাকে চেনা।


০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৫ আগস্ট-পরবর্তী ৩ দিনের বাংলাদেশ-

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৩৯



৫ আগস্ট-পরবর্তী ৩ দিনের বাংলাদেশ-

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর বাংলাদেশ জুড়ে যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে, তার ক্ষয়ক্ষতি ছিল ব্যাপক ও বহুমাত্রিক। সংবাদমাধ্যম ও তদন্তকারী সংস্থাগুলোর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি আত্মহত্যা করতে যাচ্ছি।

লিখেছেন সুম১৪৩২, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৬




আমি আত্মহত্যা করতে যাচ্ছি।

সিদ্ধান্তটা গতকাল নিইনি। অনেক দিন ধরে একটু একটু করে নিয়েছি।

আজ শুধু বাস্তবায়ন করতে বের হয়েছি।

ঘর থেকে বের হওয়ার সময় বিদ্যুৎ ছিল না।

আমি এমন এক জায়গায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্ধকারের আলোকবর্তিকা

লিখেছেন স্প্যানকড, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৬




একটা দেশ যখন শিক্ষিত চাপাবাজ, ক্ষমতার দরবারে নতজানু বুদ্ধিজীবী এবং মুখোশধারী ডাকাতদের হাতে পড়ে, তখন সেই দেশ আর মানচিত্রে থাকা একটি ভূখণ্ড থাকে না, হয়ে যায় আলীবাবার চল্লিশ চোরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যুর আগে কি মানুষ টের পায়, সে মারা যাচ্ছে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭



মৃত্যুর কয়েক মুহুর্ত আগে, টের পাওয়া যায়- মরে যাচ্ছি।
সময় শেষ। তবে সবাই বুঝতে পারে না। কেউ কেউ বুঝতে পারে। আমার বাবা একদিন মাকে বলল, আমার দোষ ত্রুটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ সাইটের জন্য ডোমেইন নাম সাজেস্ট করুন

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৪:৫৫


বাংলায় ব্লগিং করার জন্য একটি ওয়েব সাইট তৈরী করতে চাচ্ছি। আপাতত মূল উদ্দেশ্য হলো সামুতে লিখা আমার সবগুলো পোস্ট ধীরে ধীরে সাইটটিতে আর্কাইভ করে রাখা। সামুতে অনেকে নিবেদিত প্রাণ ব্লগার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×