(ছবি- ম্যাথিউ ডিয়ার)
অশ্রুডাঙ্গার
একটি সর্পিল ছায়াপথে
ভিনদেশী তারা অধ্যুষিত নিষাদ আঁধারজুড়ে
নেমে আসা
যখন খুব অস্পষ্ট এই শহরের ধূলোরা,
আমি তোমাকে দেখেছি।
আমি তোমাকে দেখেছি-
অতল গহ্বর থেকে, যতটুক দেখা যায় ওপরের ছায়াগুলোকে।
যেন হাত বাড়ালেই ছুঁয়ে ফেলবে
ঠিক সেখানেই দাঁড়িয়ে ছিলে।
লজ্জা, ভয়, ঘৃণা...তারপর ক্ষমা;
সরে থাকা সমস্ত ঋণাত্মক আবেগের কাফন পড়ে
যখন ডুবতে ডুবতে আমি কোনো গর্ত থেকে গর্তে,
অতল থেকে
আরও অতলে,
ওখানে যেন তোমাকেই দেখেছি শুধু;
দাঁড়িয়ে ছিলে।
কেউ বলেনি যখন
সুস্থ মানুষও ক্ষমা পাবার যোগ্য হয়,
অসুস্থ করুণার পাত্ররাই শুধু নয়!
আমার মূল্যহীন উপস্থিতিজুড়ে
তখন,
শুধু তোমার মরুভূমির ধূলিকণা হয়েই এই বিশাল শূন্যতার এক অবহেলিত সাক্ষী থেকেছি আমি।
দেখেছি তোমাকে। কোনো প্রয়োজন কিংবা দরকারে নয়,
বরং সবটা সময়ে, নির্লিপ্ত প্রতীক্ষায়।
মনের একান্ত উচ্চারণগুলি বুকের কবর ভেদ করে যতক্ষণ না অঙ্কুর হয়ে ওঠে,
ততক্ষণ তারা তুলতুলে সন্তান- খুব যত্নের সাথে বহমান থাকে দেহের রন্ধ্রে রন্ধ্রে।
বেড়িয়ে গেলে, ভিন মস্তিষ্ককোষ দ্বারা কলুষিত; মথিত-মণ্ডিত-ধর্ষিত
আহ!
সত্যগুলো কত বড় বড় বৃত্তের আকার নেয় নিমিষেই।
বৃত্তবন্দী মিথ্যের আকার!
একটা কক্ষপথে -
কেন্দ্র ঘিরে আবর্তিত আবেগেরা যেখানে নিয়মিত গ্রহণের তাড়নায় ছুটছে,
তোমাকে নিয়ে কোনোদিন সেখানে কোনো অনুভূতিকে শব্দ হতে দেইনি।
ভাষা হতে দেইনি। দু'একবার পেন্সিলে ছুঁয়ে গেছি বোধহয়
কল্পনার বাস্তব ছবিগুলোকে।
আজ,
হতে দেবার সাথে সাথে সবকিছু কেমন মিথ্যে হয়ে গেলো; যেন-
যাঁতা দিয়ে শব্দগুলোর ওপর আমি নির্দিষ্ট কোনো আবেগকে পিষে যাচ্ছি অবচেতনে। যেন-
দ্বিতীয় শব্দ লেখার আগেই প্রথম শব্দটা ধূসর হয়ে উড়ে যাচ্ছে বেখেয়ালে,
..',',. উড়ে যাবার অস্পষ্ট দিকে।
আমার হাতদুটো কাঁপছে।
গুপ্তঘর থেকে যত্নের গুনগুনগুলো বেড়িয়ে পড়ছে তোমাকে উদ্দেশ্য করে।
কখনো তুমি পর্যন্ত তারা পৌঁছুতে পারবে কিনা জানিনা।
কিন্তু, মিথ্যে নিশ্চিত হবে।
সত্য বেড়িয়ে গেলে সে কি আর কোনো প্রমাণ সাথে রাখে?
কিছু থাকে না।
আমারও কিছু থাকবে না।
হয়তো খুব তাড়াতাড়ি, আমিও থাকবো না সবকিছুর মতই।
খুব বলতে ইচ্ছে করছিলো, যেভাবে আমার কল্পনাগুলো বলে প্রতিদিন।
গ্রাস করে প্রতিদিন।
জানি, সেগুলোও একদিন মিথ্যে হয়ে যাবে 'শুধু বাস্তব' হয়ে।
তবুও মনে হয়েছিল, তুমিই ছিলে।
আমাকে টেনে তুলবে বলে প্রতিদিন আমার কবরের পাশে এসেছিলে।
তোমার পায়ের আওয়াজে ভাঙাঘুমে আমার স্বপ্নের মৃত্যু হতো।
আর জীবন্ত হয়ে উঠতো সব অন্ধকার, একটি ছন্দের মতো।
এতো অন্ধকার!
এতো অন্ধকার রয়ে গিয়েছিল ...আকাশগঙ্গার প্রতিটি ধূলিকণাজুড়ে!
তোমায় বলতে ইচ্ছে হয়েছিলো,
'যেওনা...
কক্ষনো যেওনা!'
বলেছিলাম।
সেও মিথ্যে হয়ে গেল।
সেও মিথ্যে হয়ে গেল-
অশ্রুডাঙ্গার একটি সর্পিল ছায়াপথে।
ভিনদেশী তারা অধ্যুষিত নিষাদ আঁধারজুড়ে,
তোমার ছায়ায় লুকিয়ে
কল্পনার একটি কবরফোঁড়া অঙ্কুরে।
- পেন আর্নার
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই মে, ২০১৪ রাত ১০:৩৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



