যে গানটি এই ক'টা দিন একমনে বেজে চলছিলো, সেই গানটির সাথে আমার সমস্ত থমকে থাকা অনুভূতিরা হেঁটে বেড়াচ্ছে এখন।
''মানুষটা এতো সুন্দর, এতো সুন্দর!''
শান্ত চোখ, নিষ্পলক। চোখের নিচে ধূসর-কালো মেঘ, অযত্নের ছোপ ছোপ অস্তিত্ব। মেহেদীর রঙে, অগোছালো চুলটায় ঢেকে গেছে বিকেল পর্যন্ত জমে থাকা আনমনা ক্লান্তিগুলো। সত্যিই আজ তাকে অনিয়মিতভাবে এতো স্বাভাবিক লাগছে, যেন এতদিন নিয়মিত থাকার পরও তাকে তার মতো করে স্বাভাবিক লাগেনি। একপাশ থেকে তার চিবুক দেখা যাচ্ছে, চিবুকে থমকে আছে এলোমেলো অনেক প্রশ্ন। দু'ঠোঁটের মাঝখানে একটি সরলরেখা দেখলে সেটা বোঝা যায়। কিন্তু তিনি কোনো প্রশ্ন করবেন না। কারণ, একগালে হাত দিয়ে তিনি এখন খাওয়ার টেবিলে বসা লোকটার কথা শুনছেন। লোকটা তার জীবনসঙ্গী। গাম্ভীর্য মাখা স্তিমিত হাসি মানুষটার মুখে। প্রায়শই খাবার খেতে খেতে জীবনের ছোট ছোট সংগ্রামগুলো গল্পের মতন বলে ফেলেন। তার চুলের শাদা অংশগুলো যেন সেইসব অভিজ্ঞতারই রঙবন্দী দিস্তা। চোখের পাতাদুটো কুঁচকে গেছে, কিন্তু চাহনি স্পষ্ট।
''তিনি এতো সাধারণ, এতো সাধারণ!''
দুটো মানুষকে দেখছি; নিরন্তর, চোখে অথবা কল্পনার চোখে। ভাবছি, এই দু'জন ছাড়া আমার অস্তিত্ব আর কীভাবে সম্ভব ছিল? বা আদৌ ছিল কি!
না। আমার বেঁচে ওঠা, আমার বেড়ে ওঠা, অনুভূতির স্ফুরণ পাওয়া- সমস্ত ঋণই জীবনরক্ষকের খতিয়ানে আমার হিসাবে, এই মানুষদুটোর বিনিয়োগের বিপরীতে 'ওভারড্রাফ্ট' নামে লেখা থাকবে।
একটি নারীর সাথে একটি মা জন্ম নেয়। তাই ভুল বলা হবে না- মা, আজ তোমার জন্মদিন কিংবা প্রতিদিন। পৃথিবীর সমস্ত সন্তানদের জন্য আজকের দিনটি, কারণ সবার একজন 'মা' আছেন।
আর বাবা, তুমি সেই মানুষ যে আমার মাকে আরও একটি 'মা' জন্ম দেবার মর্যাদা দিয়েছো।
একসময় তোমাদের এইটুকুনি পুতুল ছিলাম। এখন তোমরাও আমার সেইটুকুনি পুতুল হয়ে থাকো, খুব কাছেই।
প্রার্থনা।
- পেন আর্নার
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই মে, ২০১৪ ভোর ৫:৩১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



