আগুনের আঁচ্ / অমিতাভ দাশ
=================
বাইরে পড়ছিলো বরফ ।
ফিলাডেলফিয়ার কোন এক ইউনিভার্সিটি লাইব্রেরীতে
প্রায় মাঝরাত, একগাদা রেফারেন্স বই ছড়ানো –
থিসিস্ লিখছি,– একলা আমি, আলোকিত বিশাল এক ঘরে, –
মনের আগুনে গনগনে আঁচ্ !
মনে পড়েছিলো, তোমার কথা...
কলকাতার প্রত্যন্ত এলাকার উদ্বাস্তু এক কলোনীর
বেড়ার বাড়ির দরিদ্র রান্নাঘরে,
ভাত-ও-এক-ব্যঞ্জন তৈরীর হিমসিম-এর মাঝে,
তুমি আরেক আগুন জ্বালাতে,
চুপিচুপি –
সবার চোখের আড়ালে!
তোমার ভাই-এরা কলেজে যায়, ছোটবোনেরা ইসকুলে –
তোমার আর যাওয়া হয় না, ক্লাস এইটে শেষ ছিল
দিদিমণির প্রশংসা-ভরা-চোখ পড়ে নেওয়ার ইতিহাস।
এখন তুমি বোনেদের স্কুলব্যাগ গোছাতে গোছাতে
অন্যমনা হও। ছিলে কি অন্যমনা কখনো?
কিভাবে? দশভূজা যে ছিলে
মা-মরা অনটনের সংসারে!
প্রাইভেট-এ দিলে ম্যাট্রিক, বোনেদের পুরনো বই নিয়ে
পড়া, আর রাত জেগে সময় বার করার পুরস্কার তো পেলেই--
দারুণ রেজাল্ট! তাও কলেজ যাওয়ার ছাড়পত্র মিললো কই!
তোমার বরং বিয়ে হলো –
সে এক অন্য গল্প!
এই সব তোমার জ্বালানো, না-নেভা আগুন বুকে নিয়ে
আমি অবলীলায় উঠেছি এক শিক্ষায়তন
থেকে আরেক মহা-শিক্ষায়তনে, দেশ-বিদেশের গন্ডি ছাড়িয়ে
স্ব-সন্মানে।
আজ শুধু মনে পড়লো -- কোন এক শরতের রাতে --
সন্ধ্যা-শেষে ঢুলছিলাম ঘুমে এবং আগুন-নেবানো
না-পড়ায়, --
তুমি রেগে আমার মাথা ঠুকে দিলে খাটের কোণায় --
আমার ছোট্ট কপাল থেকে ঝরঝর ঝরঝর রক্ত!
আর আমাকে “সোনা রে”বলে জড়িয়ে তোমায় কাঁদতে দেখে –
কাঁদতে ভুলে গেছি আমি! আর বলছি 'একটুও লাগেনি মা,
সত্যি একটুও লাগে নি!'
কোথায়, মা তুমি? কোথায় এখন?
আর একবার মাথাটা ঠুকে দেবে?
আমার অন্য ব্যাথা-গুলো যাবে না উবে এই ব্যাথায়?
অনেকই বড়ো কি হয়ে
গেলাম – ওই “সোনা রে” বলা
মাতৃস্পর্শ পাবার জন্য?
**ভার্চুয়াল জগতে আমার কয়েকজন প্রিয় লেখক ও কবি আছেন। অমিতাভ দাশ তাঁদের একজন। মানুষটি কেমন, তা অল্প কথায় বলা যায় না। কিন্তু দাদার লেখা পড়ে আমি অল্প অল্প করে তাঁকে জানার চেষ্টা করেছি।
উপরের কবিতাটি আজকে লেখা। আমি যতবার পড়েছি, শব্দগুলোর মাঝে আটকে গেছি। তারপর কী জানি মনে হলো, কবিতাটি আবৃত্তি করে ফেললাম। কোনো একসময় দাদাকে বলেছিলাম তাঁর একটি কবিতা আবৃত্তি করবো। কিন্তু অলসতার খাতিরে সেটা হয়ে ওঠেনি। আমার গানের গুরু একদা এই বিষয়ে বলেছিলেন, ''তুমি মহা অলস হে। কিন্তু একবার যদি সেটা কেটে যায়, তাহলে দশ ঘণ্টার কাজ এক ঘণ্টায়ই করে ছাড়বে!''
হয়তো তিনিই বুঝেছিলেন যে, প্রথম নয় ঘণ্টা আমি আসলে ঝিমানোর ভান করে চুপচাপ প্ল্যানিংটা সেরে ফেলি
আজ আবেগে আটকে না গেলে এই শব্দগুলো উচ্চারণ করা হতো না। তবে আবৃত্তি নিয়ে এটুকুই বলবো যে, এইক্ষেত্রে আমি ব্যাপক রকমের আনাড়ি। আমি যেটা পারিনা, সেটা নিয়ে চেষ্টা চালাই বটে কিন্তু উচ্চবাচ্য করি না। তবুও...আজকে কেমনে লোভটা সামলাই বলুন! তাই আমার করা ঘরোয়া আবৃত্তির আনন্দটা আপনাদের সাথে ভাগাভাগি করে নিচ্ছি। :-)
আবৃত্তিটা আছে এখানে ।
শুভকামনা সবাইকে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



