somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

NEWTON

০৮ ই মে, ২০২০ বিকাল ৫:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এর আগে বেশ কয়েকবার দেখতে বসেও দেখা হয়নি। আজ শেষ করা গেল। NEWTON কি শুধুই কর্তব্যনিষ্ঠ ক্ষেপাটে সরকারি কর্মচারীর আখ্যান? না কি ভারতীয় এস্টাব্লিশমেন্টের নেতিবাচক ভাবমূর্তিরও বয়ান?

হিন্দু মাইথোলজির গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দন্ডকারণ্য। সেই দন্ডকারণ্যে প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে ভোট নিতে যাওয়া কেবলমাত্র অতি কর্তব্য ও সময়নিষ্ঠ সরকারি কর্মচারী নিউটন কুমারের গল্প নয় এই NEWTON ।

ভোট কেন্দ্রে পৌছে স্কুল ঘর বা পাশের বাড়ি ঘর পোড়া, বিধ্বস্ত দেখতে পায় নিউটন কুমার। কে পোড়াতে পারে আগুনে এর উত্তর কৌশলে এড়িয়ে যায় আত্মা সিং। কে পুড়িয়েছে তাতে কী যায় আসে জানায় সে৷ আত্মা সিং ভারতীয় আর্মির কমান্ডার সেখানকার। ভোট গ্রহণের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার দায়িত্ব তারই।

আত্মা সিং শুরু থেকেই নিউটন কুমার কে নিরুৎসাহিতই করেনি শুধু, রীতিমত ভয় দেখিয়ে আসছিলো যেন সেখানে ভোট নিতে যাওয়া না হয়। প্রিজাইডিং অফিসার নিউটন কুমারের আদেশ পদে পদে লঙ্ঘন করছিলো ভারতীয় বাহিনী। মাওবাদী বা নকশালবাদীদের হামলার আশংকা ব্যক্ত করা হচ্ছিল বার বার । নিউটন কুমারের উপলব্ধি কিন্তু উল্টো। কোন আশংকাই সে বোধ করেনি। নিজের দায়িত্ব পালন করাকেই একমাত্র কাজ হিসেবে জেনেছে সে। মাওবাদী জুজুর ভয় দেখিয়ে ভারতীয় বাহিনীর দ্বারাই ভয়ের আবর্ত তৈরি করে রাখা হয়েছে নিউটন কুমারের অভিব্যক্তি এমনই। এস্টাব্লিশমেন্ট কিভাবে মিডিয়াকে ধোকা দেয়, মিডিয়া কিভাবে এস্টাব্লিশমেন্টের কাছে বোকা বনে যায় তার চমকপ্রদ কিন্তু নগ্ন রুপ এই NEWTON এ পাবেন। পুরো মুভিতে মাওবাদীর উপস্থিতি খুবই অল্প সময়ের জন্য হলেও মাওবাদীদের দায়ও কম না। শেষে এসে নিউটন কুমারের অস্ত্রধারণ অতি নাটকীয়। নিউটন কুমারের ভাষায় শুধুমাত্র Duty পালনের জন্য কেউ অস্ত্র ধরছে, এটা বারাবারি। আমরা নিতে পারিনা বাস্তব জীবনে এতোটা, পর্দায় দেখে ভুরু উঁচু করা ছাড়া। নিউটন কুমার ঘড়ির কাটায় সময় মেনে দায়িত্ব পালন করেন। তার পুরস্কার ভারতীয় এস্টাব্লিশমেন্ট তাকে দিয়েছে বৈকি। মানপত্র ধরিয়ে দিয়েছে একটা। পুরুস্কার সে আরো একটা পেয়েছে বৈকি, ভারতীয় আর্মির হাতে গণধোলাই। বাহিনীগুলোর সম্মতির বাইরে গেলে অতিকর্তব্য পরায়ন কাউকেও যে ধোলাই না দিয়ে ছাড়া হয় না, ছাড় পায় না, তারই হিসেব নিউটন কুমারের ধোলাই।

ছত্রিশগড়ে চলমান মাওবাদী সংকটে ভারতীয় এস্টাব্লিশমেন্টের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ নিউটন কুমারকে স্থানীয় নারী মালকো নেতাম এর সাথে অন্তত চিন্তাগত সাযুজ্য খুঁজে পেতে দেখি আমরা। নিপীড়িত সেই নারীর মত সেখানকার আদিবাসীদের দুঃখ দুর্দশার কারন বুঝলেও, অক্ষম অসহায় নিউটন কুমারকে আফসোস ও অক্ষম ক্ষোভ প্রকাশ করে নিজের উপর অর্পিত দায়িত্ব রোবোটিকভাবে পালন করে যেতে দেখি। আর বিশাল ব্যায়ের ভারতীয় নির্বাচন আদতে একটা প্রহসন, সবচে বড় গণতন্ত্রের দাবী করা ভারতীয় গণতন্ত্র ফাঁকাবুলিই শুধু। তা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখানো হয়েছে NEWTON এ। ভুয়া এ্যাম্বুশ করে শুধু নিউটন কুমারের দায়িত্ব পালন করাকেই বাধাগ্রস্ত করা হয়নি শুধু, ভোট দিতে আসা অসহায় সরল আদীবাসীদের সাথে প্রতরণা প্রবঞ্চনা শঠতাও করা হয়েছে। আদীবাসীরা এভাবেই যুগের পর যুগ প্রতারিত হয়ে আসছে। ছত্রিশগড়ের সেই অঞ্চলের জনগনের জীবন তাই বলছে৷


কিন্তু এই NEWTON ভারতীয় এস্টাব্লিশমেন্টের ছাড়পত্রই পায়নি শুধু, NEWTON তৈরিতে ছত্রিশগড়ের বনমন্ত্রী, কালেক্টরেট, পুলিশের দপ্তর, সাবেক নির্বাচন কমিশন, স্থানীয় রাজনৈতিক দল সবাই সহযোগীতা করছে। কেন করেছে? আর ওদের সেন্সরবোর্ড এতো সাহস পায় কোথায়? যারা বানায় তারাই বা কোথায় পায় এতো সাহস?

ভারতীয় গণতন্ত্র ফাঁকাবুলি হলেও প্রাকারন্তরে নিজেদের ন্যাংটো করে দেখাবার সাহস ভারতীয় এস্টাব্লিশমেন্ট অন্তত এক্ষেত্রে দেখিয়েছে। কিন্তু আমরা?



সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই মে, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৪৪
৪টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রুবা আমি তোমাকে ভুলিনি

লিখেছেন রাজীব নুর, ১১ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১২:৫৫



আমার বন্ধু রফিকের বিয়ে।
সে সাত বছর পর কুয়েত থেকে এসেছে। বিয়ে করার জন্যই এসেছে। রফিক একদিন আমার বাসায় এসে হাজির। আমি তাকে প্রথমে দেখে চিনতেই পারি নাই।... ...বাকিটুকু পড়ুন

রম্যরচনাঃ ক্যামেরা ফেস

লিখেছেন আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম, ১১ ই জুলাই, ২০২০ সকাল ৮:৫৯


খুব ছোট বেলায় আমাদের শহরে স্টার স্টুডিও নামে ছবি তোলার একটা দোকান ছিল। সেটা পঞ্চাশের দশকের কথা। সে সময় সম্ভবত সেটিই ছিল এই শহরের একমাত্র ছবি তোলার দোকান। আধা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আবাসন ব্যাবসায় অশনি সংকেত

লিখেছেন শাহ আজিজ, ১১ ই জুলাই, ২০২০ বিকাল ৫:২২




জুলাইয়ের শুরুতে একটি বিজ্ঞাপন দেখা গেল একটি আবাসন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের । তারা ৫০ পারসেনট কমে ফ্লাট বিক্রি করছে । মুখ চেপে হাসলাম এত দুঃখের মাঝেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

রৌপ্যময় নভোনীল

লিখেছেন স্বর্ণবন্ধন, ১১ ই জুলাই, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:০৯


একটা অদ্ভুত বৃত্তে পাক খাচ্ছে আত্মা মন,
বিশ্বকর্মার হাতুড়ির অগ্ন্যুৎপাতে গড়া ভাস্কর্যের মতো গাড়-
হাড় চামড়ার আবরণ; গোল হয়ে নৃত্যরত সারসের সাথে-
গান গায়; সারসীরা মরেছে বিবর্তনে,
জলাভুমি জলে নীল মার্বেলে সবুজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

""--- ভাগ্য বটে ---

লিখেছেন ফয়াদ খান, ১১ ই জুলাই, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৪৪

" ভাগ্য বটে "
আরে! সে কী ভাগ্য আমার
এ যে দেখি মন্ত্রিমশায় !!
তা বলুন দেখি আছেন কেমন
চলছে কেমন ধানায় পানায় ?
কিসের ভয়ে এতো জড়োসড়ো
লুকিয়ে আজি ঘরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×