somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অন্যরকম এক ভালোবাসা

২৪ শে অক্টোবর, ২০১৪ রাত ১০:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


২৬সে সেপ্টেম্বর সকাল ১১:১০ বাজে, আবিরের মাত্রই ঘুম ভাঙলো। মোবাইলটা অন করলো মাত্র। ফজরের নামাজের পর ঘুমায়ছে, ঘুমানোর আগে লিমাকে এসএমএস করে ঘুমায়ছে যাতে ফোন বন্ধ পেয়ে টেনশন না করে, লিমার সাথে ২ মাসের পরিচয়, প্রথমে ফেসবুকে এরপর ফোনে। আবিরের আজকে প্রথমবারের মতো মনে হইলো যা “না আর সহ্য করতে পারতেছিনা, সুইসাইড করে ফেলবো”। এই প্রথম ওর মনে সুইসাইড করার চিন্তাটা আসলো। উঠে মনে হইলো আজকে সাফিকে স্কুল থেকে আনতে যেতে হবে ১টার মধ্যে।

আজকে থেকে ঠিক ১১৬ দিন আগে সায়মার ছোট ভাই ফোন করে বলছিলো যে ওর বিয়ে হয়ে গেছে ওকে যাতে আর ডিস্টার্ব না করে। শুনার পর থেকে আজকে পর্যন্ত ও এখনও স্বাভাবিক হতে পারে নাই। প্রায় ৬ বছরের সম্পর্ক ছিলো। ওই একটা ফোন যেনো সবকিছু শেষ করে দিয়েছিলো ওর। ওই ফোনের একটু আগেও সায়মার সাথে ওর কথা হয়েছিলো। আবির তখনও ওর গলা শুনে কিছু বুঝেনাই। ওরা তখনও শনিবারে কখন দেখা করবে এইটা নিয়েই কথা বলছিলো। বিকাল ৪ টার সময় দেখা করবে ঠিক করছিলো। আবিরের সিলেট থেকে আসতে আসতে ২.৩০-৩ টা বেজে যাবে বলে বিকালে দেখা করবে ঠিক করছিলো। ও প্রথমে মনে করছিলো যে সায়মার মা-বাবা ওকে জোড় করে বিয়ে দিয়ে দিছে তাই ওর ভাইয়ের কল পেয়ে ড্রাইভার কে ফোন দিয়েছিলো। ড্রাইভার যখন বললো যে কমিউনিটি সেন্টারে বিয়ে হইছে, এইকথা শুনে আবিরের মাথা খারাপ হয়ে গেছিলো। ও কোনমতেই বিশ্বাস করতে পারছিলো না যে সায়মা ওর সাথে এরকম ভাবে বেঈমানি করতে পারে। এরপর থেকে ওর মাথায় একটাই প্রশ্ন ঘুরছে। আসলে ওই রাতে কি হইছিলো। ওই দিনের পর থেকে আজকে পর্যন্ত সায়মার সাথে একবারও দেখা হয়নাই এমনকি কথাও হয় নাই। যাক এইসব মনে করে আবার আবিরের মন খারাপ হয়ে গেলো। এই ১১৬ দিনের মধ্যে মনে হয় ১৫-২০ দিনই ও রাতে ঘুমায়ছে। বাকি প্রতেক রাত ও জেগে কাটায়ছে।


অনেক কিছু চেষ্টা করছে যাতে ওকে কোন ভাবে ভুলতে পারে, কিন্তু সে কোন ভাবেই ভুলতে পারে নাই। এখনও ওর মনে হয় সায়মা যদি ওর জীবনে ফেরত আসতো। আর একটা প্রশ্ন থেকে বেড়ই হতে পারছেনা, সেইটা হচ্ছে ওইরাতে আসলে কি হইছিলো? ৬টা বছর ওরা একসাথে ছিলো, আবির কে আবিরের চেয়ে বেশি ভালো বুঝতো সায়মা। আবির মনে মনে যা চিন্তা করতো সায়মা বুঝে ফেলতো আবিরের চেহারা দেখেই। তাই এতো কিছুর পরও ওকে পাশে চায়। এরমাঝে যতবারই চাইছে সায়মাকে ভুলে যাবে, ঠিক তখনই এমন কিছু একটা হইছে সায়মাকে মনে পরে গেছে। প্রথম যখন সায়মার বিয়ের/বৌভাতের ছবি দেখলো তখন ও অনেক অবাক হইছিলো, বিয়েতে একটু অন্যরকম দেখায়লেও বৌভাতে সায়মা অনেক হাসসজ্জল ছিলো। এরপর যখন কয়েকদিন আগে এক ছোট ভাই ফোন দিয়ে বলে সায়মা আপুতো আমার একাউন্টিং ক্লাসের স্টুডেন্ট। আজকেই প্রথম ক্লাস করতে আসছে।

২৭শে সেপ্টেম্বর, সায়মার আজকে ৮টায় ক্লাস এখন ৭ টা বাজে। আজকে মা ওর সাথে ইউনিভার্সিটি যাবেনা। ওর আজকে একা যেতে হবে। সাকিব(সায়মার স্বামী) এর সাথে প্রায় ডেইলি ঝগড়া হয়। কানাডা যাবার পর থেকে যেনো ঝগড়ার পরিমান বেড়ে গেছে। বিয়ের ১ সপ্তাহ পর থেকেই সাকিবের সায়মাকে নিয়ে প্রবলেম শুরু হয়ে যায়। কোনভাবেই সায়মার আগের সম্পর্কের কথা মেনে নিতে পারে নাই। সায়মা অবশ্য এটা মেনে নিয়েছে, কারন আবিরের সাথে ও যা করছে ওর এইতাই প্রাপ্য। সায়মার সামনে ২টা রাস্তা ছিলো আবির অথবা মা কে বেছে নিতে হবে। ও অন্য মেয়েদের মতো ওর মা কেই বেছে নিয়েছে।

ও রেডি হয়ে যখন গাড়ীতে উঠলো, তখন ওর বারবার আবিরের কথা মনে পরছিলো। মাঝেমাঝেই ওর কথা মনে হইতো। কিন্তু আজকে একটু বেশিই মনে হচ্ছে। ছেলেটা অনেক বেশি কষ্ট পাইছে। আবিরকে যেমন ও বুঝতো ঠিক তেমনি আবিরও ওকে বুঝতো। আবিরের ফ্রেন্ড এখন ওর একাউন্টিং স্যার। আবির নিশ্চয় ওকে সব বলছে। আবিরের ফ্রেন্ড বলে এই ক্লাসটা একদমই করতে ইচ্ছা করে না। সকালের ক্লাসে ঢুকে বার বার ওর মনে হচ্ছে, বারবার ভুলে যাচ্ছে যে ও একজন বিবাহিতো মেয়ে। কি পেলো ও এই বিয়ে করে। সারাদিন একটা মানুষের অত্যাচার। হ্যা একটা জিনিষ পেয়ে সে খুশি সেইটা হচ্ছে ওর মা-বাবার মুখে হাসি। ক্লাস শেষ করে ক্যাম্পাস ৭ এর নিচে বসে আছে। ১১.৩০ এ ক্লাস। ১১.২৫ বাজে সায়মা গিয়ে লিফটে লাইন দিলো।

সায়মা আজকে ১১৭ দিন পর আবিরকে দেখলো। আবিরকে দেখে একটু অবাকই হইলো। অনেক অনেক শুকায় গেছে। আবির বললো
- আমি একটু তোমার সাথে কথা বলবো।
- বলো।
- আমি জানি তুমি আমাকে মিথ্যা বলছো। আমাকে একটু সাপোর্ট দাও। কারন তুমিতো দেখতেছো আমি কি পরিমানে কষ্ট পাচ্ছি।
- হ্যা বলো, আমি আছি(সায়মা কোন কিছু চিন্তা করার ছাড়াই ওর কথায় রাজি হয়ে গেলো)

আবিরের মনে একটা শান্তির হিমেল বাতাস বয়ে গেলো। ১১৭ দিনের সব কষ্ট জেনো এক মুহরতের মধ্যে সব গায়েব হয়ে গেলো। সায়মা কে সামনাসামনি পেয়ে আবিরের চোখে পানি চলে আসে।

[ আমার আগের গল্পে সবাই বলছে আমি কষ্টের মধ্যেই রেখে শেষ করে দিছি। এই গল্পটা কিছুটা আনন্দের মধ্যে শেষ করলেও কিছু প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।
 আসলেই কি আবিরের সায়মার জন্য অপেক্ষা করা ঠিক হইছে?
 আসলেই কি সায়মার উচিৎ হইছে আবিরের সাথে আবার আরেকটা সম্পর্কে যাওয়া।
 আসলেই কি সায়মার আবিরের সাথে এইভাবে বেঈমানি করা।
উপরে সবগুলাই ছিল ভুল সিদ্ধান্ত। আমরা একটা ভুল করলে ওইটা ঠিক করতে বারেবারে ভুল করি]

০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মার্কো রুবিও ভারতে কী করছেন?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২২


আওয়ামী দোসর নবনীতা আপার মতে, মার্কো রুবিও ভারতে গেছেন শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ব্যবস্থা করতে। ডিসেম্বর মাসে যাতে শেখ হাসিনা ট্রাভেল পাস নিয়ে দেশে ফিরতে পারেন, সেই আলোচনা করতেই নাকি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সুন্দর সর্বনাশ

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:২১



সবকিছুই পাওয়া যায় এখন বিপণনের কল্যাণে,
বিপনি বিতানে বিতানে;
চাইলে কিনে নিতে পারো লালনীলহলুদ মনও!

মন চাইলে পোষ মানাতে পারো বনের অবাধ্য পশুও;
শুধু পোষ মানাতে যেও না মানুষ;... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশভাগের পর-

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০৮



সময় তখন ১৯৫০ সাল।
ওমর আলীর জ্বর এসেছে। জ্বর নিয়েই তিনি পত্রিকা পড়ছেন। দীর্ঘদিনের অভ্যাস। টারজান গিয়েছে বাজার করতে। এর আগেও টারজান বেশ কয়েকবার বাজার করেছে। বাজার করতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এফএম রেডিও

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:২০

২০০৯ সাল। একটি ছেলে। সে তার নানা নানীর সাথে মুন্সীগঞ্জ এ থাকতো। নানা তার নাতিকে একটি মোবাইল উপহার দেয়। নকিয়া ১৬৬১। সেই মোবাইলে এফএম রেডিও ছিলো। সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্রীয় সফর, আম তারেক আর চার সিটের দূরত্ব!

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৪

প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নেপালে রাষ্ট্রীয় সফরে যাবেন। সস্ত্রীক আমন্ত্রণ পেয়েছেন তিনি। তখন কিশোর তারেক রহমানেরও শখ জাগল—তিনিও নেপাল যাবেন।

বাবা বুঝিয়ে বললেন, রাষ্ট্রীয় সফরে যাওয়ার আমন্ত্রণ মানেই পরিবারের সবাইকে রাষ্ট্রীয় টাকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×